kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

রুশ-আঁতাতের অভিযোগ থেকে ট্রাম্প কি মুক্ত

রবার্ট ব্রিজ

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুলারের তদন্ত নিয়ে উন্মাদনা শেষ হয়েছে। এর ফলাফল যতটা বিস্ফোরক হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছিল, তার কিছুই হয়নি। নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পশিবিরের কোনো আঁতাত হয়নি। এখন দলীয় রাজনীতির উন্মাদনা বন্ধ হওয়া উচিত, যা পুরো জাতিকে হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। 

দীর্ঘ ৬৭৫ দিবস-রজনী আড়াই কোটি ডলার ব্যয়ে রাশিয়াগেট কেলেঙ্কারির প্রদর্শনী সমাপ্ত হয়েছে। একে এখন তুলনা করা হচ্ছে ওয়াটারগেট ও জিপারগেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে। গণমাধ্যমের তাড়নায় শুরু হওয়া এই উইচহান্টের শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হলো। অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ঘোষণা করলেন, মুলারের তদন্তে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার ‘আঁতাত বা সমন্বয়ের’ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন (তাঁর টুইটের মাধ্যমে) বলে যে অভিযোগ রয়েছে, সে ব্যাপারে মুলারের তদন্তে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। 

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাদের প্রচারকে ‘পুরোপুরি নির্দোষ’ ঘোষণা করা হলো। এক টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, ‘কোনো আঁতাত নেই, কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, পুরোপুরি দোষস্খলন। আমেরিকা মহান!’

এই তদন্তের সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটি হলো, পর্নো স্টার থেকে শুরু করে যাঁরাই সামনে এসেছেন, কারো সঙ্গেই রাশিয়ার সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। উদাহরণ হিসেবে ট্রাম্পের সাবেক রাজনৈতিক সহযোগী পল ম্যানাফোর্টের কথা মনে করা যেতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কর জালিয়াতি ও মিথ্যাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের সময়জুড়ে মিডিয়ার ঝলসানি ছিল। নানামুখী প্রতিবেদন আর চমৎকার প্রচার তাদের কাটতি বাড়িয়েছে, বিজ্ঞাপনও বাড়িয়েছে। তবে যা করতে পারেনি তা হলো, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।

বহু উদারপন্থী এত দিন ধরে ট্রাম্পের দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং ইমপিচমেন্ট-প্রক্রিয়া শুরু করার অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের পক্ষে তদন্তে এ ফলাফল মেনে নেওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২২ মাস ধরে মুলার তদন্ত চালিয়েছেন। এতে অভিযোগ আনা হয়েছে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে। দুই হাজার ৮০০ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। ৫০০ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন। অভিযোগ আনা হয়েছে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে। কিন্তু স্পেশাল কাউন্সেল কোনো আঁতাত বা প্রতিবন্ধকতার প্রমাণ পায়নি।  ডেমোক্র্যাটরা চেয়েছিল ২০২০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত এই তদন্ত অব্যাহত থাকুক। কিন্তু উইলিয়াম বার মুলারকে এতটা বিলাসিতার সুযোগ দিতে রাজি ছিলেন না। গত মাসে হাউসের গোয়েন্দা কমিটির প্রধান অ্যাডান স্কিফ মুলারকে তদন্তের বিষয়ে কংগ্রেসের জিজ্ঞাসাবাদে ডাকার হুমকি দেন। তদন্ত শুরুর পর থেকে এ ধরনের কোনো ঝঞ্ঝাটের মুখে পড়তে হয়নি মুলারকে। তিনি নিজের মতো করে নিভৃতে কাজ করছিলেন। সম্ভবত এই হুমকির কারণেই মুলার তড়িঘড়ি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর ট্রাম্প এখন কী করবেন? তিনি যুক্তরাষ্ট্র নামের গাড়ির চালকের আসনে বসে আছেন। হোয়াইট হাউসে ঢোকার পর প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। এখন চাইলেই তিনি প্রতিশোধ নিতে পারেন। অথবা যা ঘটে গেল, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে পারেন।

প্রথমত, ওবামার আমলে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী থাকাকালেই তাঁর ওপর নজরদারি শুরু হয়। সে সময়ও অভিযোগ ছিল রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের। ট্রাম্প এখন গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে আড়িপাতার বিচার চাইতেই পারেন। সাবেক এফবিআই উপপরিচালক অ্যান্ড্রু ম্যাককেইন একবার বলেছিলেন, তিনি তাঁর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোড রোসেনস্টেইনের হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের টেলিফোনে আড়িপাতার প্রস্তাব একবার নাকচ করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু করার ইচ্ছা ছিল ডেমোক্র্যাটদের। যদিও এ ধরনের তৎপরতা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। 

এখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত রাশিয়া আঁতাতের বিষয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্সের সাবেক এজেন্ট ক্রিস্টোফার স্টিল। তাঁর অভিযোগে বলা হয়েছে, ট্রাম্প রাশিয়ায় গিয়ে প্রকাশের অযোগ্য যৌন তৎপরতায় লিপ্ত হন। যদিও পরে দেখা যায়, এই প্রতিবেদন বানোয়াট এবং ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি হিলারি ক্লিনটনের প্রচারে সহযোগিতার জন্য তৈরি করিয়েছে। তার পরও বাজফিড এই প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি প্রকাশ করে। যেখানে তারা মন্তব্য করে, এর থেকেই ‘নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে আমেরিকানরা ধারণা করতে পারবে।’ 

এখন মুলারের প্রতিবেদন প্রকাশের পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা হয়তো সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্কে ছাপ ফেলবে।

 

লেখক : যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ও সাংবাদিক। মস্কো নিউজের এডিটর ইন চিফ

সূত্র :  আরটি

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য