kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

অনলাইনে চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণ কে করবে?

অনলাইন থেকে

৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লুই ফারাহ খানসহ ছয়জন কট্টরপন্থী রাজনীতিককে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেসবুক। এ সিদ্ধান্ত অনলাইনে চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণে যে প্রচেষ্টা চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফেসবুক এবং তাদের সহযোগী ইনস্টাগ্রাম—দুই মাধ্যমেই এদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা এমন একটি বিশ্বে বাস করি, যার নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক মার্কিন বিজ্ঞাপনী সংস্থার হাতে। সে প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলেও এই সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তবে এর থেকেই যে খুব সন্তোষজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা কিন্তু নয়। তবে বিষয়টি খারাপের মধ্যেও আরো খারাপ না হয়ে বরং ভালো হয়েছে। বৈশ্বিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা নয়। যেখানে ছাপা হওয়া সব কিছুর জন্য তাদের দায়ী করা যাবে। আবার টেলিফোন কম্পানির মতো নিরপেক্ষ বার্তা বাহকও তারা নয়। তাদের স্বার্থ সমাজের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ হবে এমন নয়। আবার একক ব্যবহারকারীর সঙ্গেও তাদের স্বার্থ সংগতিপূর্ণ নাও হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রকৃতপক্ষে যা চায় তা হলো, ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ সময় সেখানেই পড়ে থাকুক। যাতে করে তাদের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা অনুসারে প্রফাইল তৈরি করা সম্ভব হয়। এবং বিজ্ঞাপনদাতার কাছে তা বিকোয়।  

এই বাণিজ্য অবশ্য সব সময় সম্ভব হয় না। তার চেয়েও বড় কথা, তা সব সময় ব্যবহারকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে না। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের স্বার্থের পক্ষেও তা সুবিধাজনক নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় একটি বিষয় খুব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বিষয়টি হলো মানুষের আগ্রহ কিসে এবং কী করলে তা জনহিতকর হবে—এই দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য। বহু বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনদাতা কম্পানিগুলোর ধারণা ছিল এই দুয়ের পার্থক্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। তাদের কাজ হচ্ছে জনগণ যা চায় তাই সরবরাহ করা। এই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই তাদের বিজ্ঞাপনের কাঠামো সাজানো। যে পরিমাণ জিনিসপত্র নিয়ে তারা কাজ করে, তাতে সংযম ধরে রাখা অসম্ভব। তবে এখনকার জন্য এর কোনো চুক্তিই আর খাটে না। এর মধ্যে কিছু বিষয় আছে, যেগুলোর জন্য কিছু মানুষ বেশ আগ্রহী। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক চরমপন্থা থেকে শুরু করে শিশু নিপীড়নের চিত্র পর্যন্ত—এর বেশির ভাগই ক্রেতা ও বৃহত্তর সমাজ দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর। এগুলো যতটা সম্ভব নিষিদ্ধ করা উচিত।

ব্যবহারকারীরা যেন সর্বোচ্চ সময় অনলাইনে কাটায়, তা নিশ্চিত করতে নানামুখী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ব্যবহারকারীদের মতামতের ওপর বিষয়টি প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা চরমপন্থার দিকে ধাবিত হয়। কারণ মানুষের ভেতরে এই আবেগ আছে। ইউটিউবে মাত্র কয়েকটি ক্লিক করেই চরমপন্থাবিষয়ক বা ষড়যন্ত্রমূলক যেকোনো ভিডিও খুঁজে পাওয়া সম্ভব। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইউকিপ পার্টির (ব্রিটেনের একটি দল) এক প্রার্থী যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এক এমপিকে ধর্ষণের আলোচনা করেন তখন বাকস্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্র ও ভদ্রতাবোধও হুমকির মুখে পড়ে। এটা ফৌজদারি অপরাধ। কোনো সামাজিক দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন কম্পানি এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ্যে রাখতে পারে না। গুগলের ইউটিউব তা প্রকাশ্যে রেখেছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতার মানদণ্ড বজায় রাখার ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ কম্পানিগুলোকে দায়ী করার বিষয়টিও সমস্যাবর্জিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে এক মানদণ্ডে নিয়ে আসতে হবে। কার্যকারিতা ও ন্যায্যতা সব বিবেচনায়ই এটা জরুরি। ভয়ংকর ও আপত্তিকর কনটেন্টগুলো সব কয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে না সরিয়ে শুধু একটি বা দুটি নেটওয়ার্ক থেকে সরিয়ে ফেললে কাজের কাজ কিছুই হবে না। সহজে পাওয়া যায় এমন নেটওয়ার্ক থেকে কনটেন্টগুলো সরিয়ে ফেলা সম্ভব হলেও ইন্টারনেটের কোথাও না কোথাও সেটা থেকে যায়। তার পরও এখন যেভাবে চেষ্টা চলছে তা একেবারেই চেষ্টা না করার চেয়ে অনেক ভালো। আরেকটি সমস্যার সমাধান ক্রমেই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তবে ফেসবুকের রাজনীতিকদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে দারুণ চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ফেসবুকের সিদ্ধান্তের পর নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএনকেও নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত। ন্যূনতম পর্যায়ের পরিমিতিবোধ ও শিষ্টাচার নিশ্চিত করা কঠিন এবং এর জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হবে। তবে এই লড়াই অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। বন্ধ করা যাবে না।

সূত্র : সম্পাদকীয়, গার্ডিয়ান

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

 


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা