kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ইয়েমেন যুদ্ধে কংগ্রেসকে উপেক্ষা করলেন ট্রাম্প

মার্কো মারিয়ানোভিচ

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইয়েমেন অভিযানে সৌদি বিমানগুলোর রিফুয়েলিংয়ের কাজটি করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এ সহযোগিতায় নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে সৌদি আরব—উপগ্রহ থেকে নেওয়া তথ্য ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে বিমান হামলা চালানো সহজ হচ্ছে, সৌদি বিমানগুলো উড়ান অব্যাহত রাখতে পারছে এবং নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার কাজটিও করে যাচ্ছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনানুসারে শুধু কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। অর্থাৎ দেশটির আইন ও সংবিধান অনুসারে এই যুদ্ধ সুস্পষ্টভাবে অবৈধ। আইনের এই বয়ান থাকার পরও কংগ্রেস অন্তত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে খুশি মনে প্রেসিডেন্টকে অবৈধভাবে এই চর্চা (একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া) চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। প্রশাসন যখন যুদ্ধ শুরু করেছে, তখন সেই সিদ্ধান্তকে কংগ্রেস চ্যালেঞ্জ করেনি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজনও মনে করেনি প্রশাসন। আর যখন করেছে, তখনো কংগ্রেস প্রশাসনের পছন্দনীয় সময়ে যুদ্ধ শুরু করার (বা না করার বিষয়ে) ঢালাও অনুমোদন দিয়েছে। সে যা-ই হোক, ইয়েমেনে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা করা রিয়াদের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইকে সহজ করেছে। যুদ্ধ শুরু হয় ২০১৫ সালে। ওই সময়ের প্রশাসনের জন্য কাজটি কঠিন ছিল না। কারণ এই লড়াইয়ে ইয়েমেনের আল-কায়েদা ঘাঁটির ওপরও মাঝেমধ্যে হামলা হয়েছে। এ বিষয়টি আবার ২০০১ সালের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময়ই কংগ্রেসের অনুমোদন পায়। বলে রাখা ভালো, বিষয়টি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরুর অনেক আগের ঘটনা।

এখন কংগ্রেস ভোটাভুটি করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানাচ্ছে, তারা কখনোই ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকে অনুমোদন করেনি। তাই এখন প্রেসিডেন্ট হয় এই যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেবেন অথবা এর সমাপ্তি টানবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যবস্থায় চলে, তাতে ট্রাম্প কংগ্রেসের এ ধরনের প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারেন এবং তিনি দিয়েছেন। কারণ কংগ্রেসে ইয়েমেনসংক্রান্ত প্রস্তাবটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাস হয়। কী হাস্যকর!

এই প্রস্তাবটির শিরোনাম ছিল ‘এসজে রেস সেভেন’। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্টের আওতায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, কংগ্রেস কখনোই ইয়েমেন যুদ্ধের অনুমোদন দেয়নি। এর ইতি টানার দাবিও জানানো হয়। মার্কিন সংবিধানে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সর্বময় শক্তি কংগ্রেসের। একটি অবৈধ যুদ্ধের ইতি টানার ক্ষমতাও তাদেরই। প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ করার একক কর্তৃত্বে নজরদারি রাখার উদ্দেশ্য থেকেই ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়। তবে এতে প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার এখতিয়ারও রয়েছে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে এসজে রেস সেভেন খুব অল্প ব্যবধানে পাস হয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট যে ভেটো দিয়েছেন, তা খারিজ করে দেওয়ার লক্ষ্যে আবারও চেষ্টা চালানো হবে—এমন সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প তাঁর যুক্তি তুলে ধরে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তি যুদ্ধের মাত্রা বাড়াচ্ছে না। ট্রাম্পের যুক্তি ঠিক নয়। এখানে যা ঘটল তা হচ্ছে, কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছে যে তারা কখনোই যুদ্ধ শুরু করার অনুমোদন ট্রাম্পকে দেয়নি। ট্রাম্প তাদের এই বার্তাটি গ্রহণ করে তা একটি কাগজের প্লেন বানিয়ে জানালার বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সমর্থন বন্ধে কংগ্রেসের এ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্সিতে দ্বিতীয়বারের মতো ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার করলেন। ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ‘আমার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব দুর্বল করার ভয়ংকর চেষ্টা এটি।’

তবে সংকটের মূল এটি নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে, কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্পের ধামাধরা কতগুলো ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান। এরা বরাবরই মার্কিন সম্রাজ্যবাদে বিশ্বাসী। ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে সোচ্চার ড্যানিয়েল লারিসন বলেন, ‘ট্রাম্প আজ ইয়েমেনের জনগণের কাছে আবারও প্রমাণ করলেন তিনি এবং তাঁর যুদ্ধবাজ সঙ্গীরা কতটা কঠোর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক নীতি হচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধে সমর্থন। গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য নীতি এটি। এই নীতিকে ট্রাম্প গ্রহণ করেছেন এবং সুরক্ষা দিচ্ছেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সরকারগুলোর মতো বিষয়টি নিয়ে বারবার একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি যা করেছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অস্ত্রবাজারের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।

আমরা যদি তাঁর সম্পর্কে আর কিছু না-ও জানি, শুধু এই একটি বিষয়ই আমাদের তাঁর সম্পর্কে সব কিছু বলে দেবে, তিনি আইন লঙ্ঘন করেন, তিনি নৃশংস এবং নিরীহ মানুষের জীবনের প্রতি তাঁর কোনো সম্মান নেই।

 

    লেখক : স্লোভেনীয় লেখক, ব্লগার

             সূত্র : চেকপয়েন্ট এশিয়া

           ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য