kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

যাদের জন্য জান্নাত

৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাদের জন্য জান্নাত

৬৩. এই সেই জান্নাত, যার অধিকারী করব আমার বান্দাদের মধ্যে মুত্তাকিদের। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৬৩ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে জান্নাতের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে জান্নাতের অধিবাসীদের সম্পর্কে বর্ণনা কর হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, আল্লাহর প্রতিশ্রুত জান্নাতে তারাই যাবে, যারা মুত্তাকি বা পরহেজগার। এ ছাড়া বিভিন্ন আয়াতে যারা জান্নাতে যাবে তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন—এক. কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘পক্ষান্তরে যে তার রবের সামনে (কিয়ামতের দিন) উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সুরা নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১)

দুই. ঈমান এনে ভালো কাজ করলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তা থেকে স্থানান্তর কামনা করবে না।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ১০৭-১০৮)

তিন. যারা দুনিয়ার জীবনে উদ্ধত হয় না, ফিতনা-ফ্যাসাদে লিপ্ত হয় না তারাই জান্নাতে যাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘এটা পরকালের সেই আবাস, যা আমি (আল্লাহ) নির্ধারণ করি তাদের জন্য, যারা এই পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৮৩)

চার. পুণ্যবান লোকেরা জান্নাতে যাবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘পুণ্যবানরা তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে—জান্নাতে। তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করবে। তুমি তাদের মুখে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবে। তাদের মোহরাঙ্কিত বিশুদ্ধ পানি পান করানো হবে। তারা মোহর হবে মিসকের। এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক। (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ২২-২৫)

পাঁচ. জান্নাতে যেতে পারা পরম সৌভাগ্যময় ব্যাপার। ইরশাদ হয়েছে, ‘পক্ষান্তরে যারা ভাগ্যবান, তারা থাকবে জান্নাতে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে, যত দিন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার রব অন্য ইচ্ছা করেন। এটা এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০৮)

এ ছাড়া হাদিস শরিফে জান্নাতবাসীর গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি উভয় ঠোঁটের মধ্যভাগ (জিব) ও দুই রানের মধ্যভাগ (লজ্জা স্থান) হেফাজতের দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

মাতা-পিতার সেবা করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া যায়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক’, ‘ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক।’ কেউ জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! কে সে জন?’ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতা উভয়কে বার্ধক্য অবস্থায় পেল অথবা যেকোনো একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল, তবু জান্নাত অর্জন করতে পারল না, সে ধ্বংস হোক।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৫১)

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

 

মন্তব্য