kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

মনের কোণে হীরে-মুক্তো

সমৃদ্ধি বাড়ল, সুখ কেন পালাল

৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



সমৃদ্ধি বাড়ল, সুখ কেন পালাল

আমাদের সময়ে সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস (সিএসএস) পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের একটি বিষয় ছিল। এর নাম রচনা লিখন। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী রচনাটি ইংরেজিতে লিখতে হতো। সময় পুরো তিন ঘণ্টা। পরীক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ পরীক্ষায় অনেক নামকরা প্রার্থী ফেল করে বসত। বিষয়ের ওপর পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা এবং মানসিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি না থাকাকে ফেল করার বড় কারণ হিসেবে মনে করা হতো। কতগুলো সম্ভাব্য বিষয়ের ওপর প্রার্থীরা ভালোভাবে পড়াশোনা করে রাখতে পছন্দ করত। এর একটি ছিল ‘সুখের সন্ধানে’(In quest of happiness)| সুখ সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং পড়াশোনার সে-ই শুরু।

তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। মানুষের সমৃদ্ধি ও কল্যাণের সঙ্গে সুখবোধ তথা সন্তুষ্টিকে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিবিদ রিচার্ড ইস্টারলিন মানুষের সন্তুষ্টিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ব্যাপার হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়াস পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সন্তুষ্টিকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তরিত করা হয়েছে। রূপান্তরের এই প্রক্রিয়া যে অবিসংবাদিত স্বীকৃতি পেয়েছে তা নয়। তবে এ সূচক পৃথিবীব্যাপী প্রযুক্ত হচ্ছে। কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে ভুটান, গ্রস জাতীয় উত্পাদনের  (GNP)  পরিবর্তে গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস (GNH) ব্যবহার করছে। জিডিপির যে হিসাব-নিকাশ তাতে মানুষের সন্তৃপ্তি বা কল্যাণ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না বলে তারা দাবি করছে।

সমৃদ্ধ নাগরিক জীবনের দিকে ভালোভাবে তাকালে তিনটি বিষয় চোখে পড়ে : উন্নয়ন, জীবনমান এবং জীবনযাপন। উন্নয়নের নানা সূচক থাকলেও সহজবোধ্য সূচক হিসেবে মোট জাতীয় উত্পাদন  (GNP) এবং মাথাপিছু আয়  (Per Capita Income) বিভিন্ন মহলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়। কেউ কেউ ভুল করে দেশে উত্পাদিত দ্রব্যের পূর্ণমূল্যকে যোগ করে তাকে জাতীয় উত্পাদন বা জিডিপি মনে করে। আসলে জাতীয় উত্পাদনের হিসাবে শুধু মূল্য সংযোজনের  (Value Added) অংশটুকু যোগ হবে। মূল্য সংযোজন ঋণাত্মক হলে তা জাতীয় উত্পাদনকে টেনে নামায়। যা হোক, জাতীয় উত্পাদন বাড়লে অর্থাত্ জাতীয় উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি ঘটলে তাকে দেশের উন্নয়ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জাতীয় উত্পাদনের হিসাব-নিকাশ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বাজারে লেনদেন এবং গড় মানের ওপর মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপের ফলে অনেক কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডকে অযৌক্তিকভাবে অবনমন করা হয়। অন্যদিকে বাজারে লেনদেনে ধরা পড়ে না মানবসমাজের জন্য ক্ষতিকর এমন অনেক কর্মকাণ্ডকে জাতীয় আয়ের হিসাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। জিডিপির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বিভিন্ন প্রক্রিয়া-পদ্ধতি, হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে বিনির্মিত (Derived) একটি নামিক চলক (Nominal Variable)| নানা কায়দা-কানুন, মারপ্যাঁচের মাধ্যমে এ চলককে বাড়ানো-কমানো যায়। যেমন—এর একটি হচ্ছে ভিত্তি লাইন

(Base) পরিবর্তন, বাংলাদেশে যা এরই মধ্যে দুবার করা হয়েছে। আরো একটি হতে পারে হিসাব-নিকাশের পুরো পদ্ধতি পরিবর্তন। ভারতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ক্ষমতাসীন থাকাকালে প্রকাশ করেছিল যে তাদের দুই দফায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ৭.৭ শতাংশ এবং ৮.৭ শতাংশ। এ হিসাবকে সাধারণভাবে সত্য বলে ধরা হয়েছিল। মোদি সরকার একটি কমিটি গঠন করে তাদের মাধ্যমে হিসাব-নিকাশ বদলে দেয়। কমিটি বিগত ১৫ বছরের জিডিপির একটি সংশোধিত হিসাব প্রকাশ করে। সেখানে দেখানো হয়েছে যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময় জিডিপি বৃদ্ধির প্রকৃত হার ছিল ৬.৭ শতাংশ; পক্ষান্তরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৪ শতাংশ। দুর্মুখ নাগরিকরা বলতে পারে, সবই হাত সাফাই, ভেল্কিবাজি। যেমন খুশি তেমন গড়ো।

সমৃদ্ধির দ্বিতীয় বিষয় হলো জীবন-মান। সমৃদ্ধি বাড়লে নাগরিকের জীবনমানের  (Standard of Living) ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা। আগে তারা আধাপেট খেয়ে থাকলে এখন পুরো পেট খাবে, খাদ্যসামগ্রী আগের চেয়ে উন্নতমানের হবে, আবাসনব্যবস্থা ভালো হবে, পোশাক-পরিচ্ছদ আগের তুলনায় আকর্ষণীয় হবে, চলাফেরা সহজ ও আনন্দদায়ক হবে, আগে যেখানে যেতে দুই ঘণ্টা সময় লাগত, এখন এক ঘণ্টায় যাওয়া যাবে। ভ্রমণ আগের মতো বিরক্তিকর হবে না। এসব ইতিবাচক পরিবর্তন যদি না ঘটে, তবে প্রবৃদ্ধি হবে তার কাছে নিতান্তই একটি সংখ্যা মাত্র। তার জীবনমানের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ বা সম্পৃক্তি নেই। তার কাছে এই শূন্যগর্ভ সংখ্যা বড়জোর অপ্রাসঙ্গিক।

সমৃদ্ধির তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে জীবনযাপন, যা মূলত স্বস্তি ও অনুভূতির ব্যাপার। মানুষ জীবনে আনন্দ চায়, সুখ চায়, নিরাপত্তা চায়, সম্পর্কের উষ্ণতা, সুস্বাস্থ্য, সুবিমল নান্দনিক পরিবেশ চায়। সর্বোপরি চায় মানবাধিকারের নিশ্চয়তা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভ্রাতৃৃত্ববোধ, হিংসা-ভেদাভেদমুক্ত সমাজ, এককথায় শান্তি-স্বস্তিতে বেঁচে থাকার সহায়ক জনপদ। সাধারণ ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ী তা উত্পাদন করতে পারে না। কিছু জিনিস সম্পূর্ণরূপে মানসিক। ব্যক্তির নিজস্ব মনই তার মূল উত্পাদনকারী। আর কিছু বিষয়ের উত্পাদনকারী সমাজ ও রাষ্ট্র। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, নান্দনিক পরিবেশ, সুশাসন, জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক জীবন, সামাজিক মূল্যবোধ, নাগরিক সম্পর্ক ইত্যাদি হাটবাজারে বিক্রি হয় না। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর বিস্তৃত আওতায় এসব নির্মিত হয়। রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক পণ্য সন্তোষজনক মানের না থাকলে আয় বাড়া সত্ত্বেও নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়তে পারে। তখন আয় বৃদ্ধি তার কাছে অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। বাড়তি দুশ্চিন্তা ও অশান্তির কারণও হতে পারে। যেসব দেশে এ বিষয়গুলো উন্নতমানের সেসব দেশে জীবন যাপন করতে মানুষ আগ্রহী হয়। যেসব দেশে তা নিম্নমানের, অসন্তোষজনক, সেসব দেশ থেকে মানুষ দেশান্তরিত হতে চায়। বর্ধিত আয়ের মানুষের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চাহিদা মেটানোর জন্য তাই রাষ্ট্র ও সমাজকে বিশেষ তত্পর হতে হয়। উন্নত কর্মসূচি নতুন উদ্যোগে গ্রহণ করতে হয়।

উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি ও সুখময়তার মধ্যে ব্যক্তিক বা সামষ্টিক পর্যায়ে সরল-রৈখিক না ঘোরানো-প্যাঁচানো সম্পর্ক রয়েছে তা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সুপ্রতিষ্ঠিত জরিপ সংস্থার সুখময়তা জরিপের ফলাফলে সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থানকারী দশটি দেশের পাশাপাশি সর্বনিম্নে অবস্থানকারী দশটি দেশকে সাজিয়ে নিলে কেমন যেন একটি প্যাটার্ন চোখে পড়ে। শীর্ষ স্তরের দশটি দেশ উন্নত শ্রেণিভুক্ত, এদের ভৌগোলিক অবস্থান ইউরোপে। দেশগুলো হচ্ছে—ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া। সর্বনিম্নে অবস্থানকারী দশটি দেশের প্রায় সবই আফ্রিকায়; এশিয়ার যুদ্ধে বিধ্বস্ত দু-একটি দেশও এ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে—সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকা, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, রুয়ান্ডা, ইয়েমেন, মালাবি, সিরিয়া, বতসোয়ানা ও হাইতি। এতে বোঝা যাচ্ছে, অত্যুন্নত দেশের নাগরিকরা স্বল্পোন্নত দেশের নাগরিকদের তুলনায় সাধারণভাবে অধিকতর সুখী। একটু সরলীকরণ করে বলা যায়, সুখময়তার সূচক কমে গেলে সমৃদ্ধির সম্ভাবনা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ব্যতিক্রমধর্মী দেশের নাম উচ্চারিত হলে তা খতিয়ে দেখার আবশ্যকতা দেখা দেয়। প্রবৃদ্ধি হচ্ছে অথচ সুখময়তার সূচকে নিচে নেমে যাচ্ছে এমন দেশের উদাহরণ দুষ্প্রাপ্য নয়। এমনটি ঘটলে তার কারণ ব্যাখ্যার দাবি জোরদার হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে জীবনমান ও জীবন যাপনের উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করে এগোতে হয়।

সুখময়তার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়িয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। গত প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে ছিল ধনাত্মক। মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, রাজনৈতিক অস্থিরতা কোনো কিছুই প্রবৃদ্ধিকে টেনে নামাতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবে আশা করা গিয়েছিল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের সুখও বাড়বে। তা হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০১৯ সালের সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ ধাপ পিছিয়েছে। তালিকাটি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক। বিশ্বের ১৫৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের এবারের অবস্থান ১২৫তম, যা গত বছর ছিল ১১৫তম। প্রতিবেশী অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে রয়েছে।

সুখময়তার এ সূচক তৈরি হয়েছে মাথাপিছু আয়, সামাজিক সহযোগিতা, গড় আয়ু, সামাজিক স্বাধীনতা, উদারতা এবং সমাজে দুর্নীতি কত কম এর ওপর ভিত্তি করে। ১৫৬টি দেশের ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এবারের প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

এখন খতিয়ে দেখতে হবে বাংলাদেশে সুখের একাংশ কোথায় হারিয়ে গেল? কেন আমাদের অবস্থান দশ ধাপ পিছিয়ে গেল? কারণ হিসেবে দেখা যাবে আমাদের জীবন যাপন যেন ক্রমেই অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্বস্তিকর হয়ে পড়ছে। খাদ্যসামগ্রী থেকে শুরু করে ওষুধপথ্য সব কিছুই ভেজালে ভরা, নিকৃষ্ট মানের। অসুখ নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি সময় দিতে চান না, শুধু একগাদা টেস্ট আর দামি ওষুধের নাম লিখে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিদায় দেন। সামান্য রোগ হলেও ভয় হয়, কার কাছে গিয়ে কোন ঝামেলায় পড়ি। রোগের চেয়ে ডাক্তারকে বেশি ভয় করে নিরীহ নাগরিক সাধারণ। চলাফেরা, বিশেষ করে রাস্তায় চলা তো আতঙ্কের ব্যাপার। ফুটপাতে পায়ে হেঁটে চলা কষ্টকর। কারণ ফুটপাত নানা ধরনের দোকানদার ও হকার দখল করে নিয়েছে। ছোটখাটো টংঘরও রয়েছে, স্থানীয় যুবকরা তাদের সংগঠনের নামে এগুলো গড়ে তুলেছে। নগর কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় দখলদাররা আবার ফিরে আসে। এখন ফুটপাত ধরে চলা যায় না, রাস্তার মধ্য দিয়ে জান হাতে নিয়ে চলতে হয়।

গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরোতে গেলে বিরক্তিতে মন ভরে ওঠে। কখন, কোন স্থানে, কতক্ষণ গাড়ি থেমে থাকবে, তা কেউ বলতে পারে না। যেদিকে যে পথ ধরেই যান না কেন, যানজট এড়ানোর উপায় নেই। চারদিকে যানজট। কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। ‘ভিআইপি মুভমেন্ট’ থাকলে তো কথা নেই। আরো এক ঘণ্টা যোগ করতে হবে। এক হিসাব মতে, যানজটে দিনে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

খবরের কাগজ খুললেই যখন খুন, গুম, অপহরণ, ছিনতাইয়ের খবর চোখে পড়ে, তখন জীবন সম্পদ সম্পর্কে শঙ্কা জাগে। খাল-বিল, নদী-নালা, মাঠ-ঘাট, সড়ক-সেতু যেভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে, খাল বিষাক্ত পানিতে ভরে যাচ্ছে, রাস্তা সরু হতে হতে চিপাগলি হয়ে যাচ্ছে, পরিবেশ যখন মারাত্মক পর্যায়ে দূষিত হয়ে যাচ্ছে, তখন ভয় লাগে এ পরিবেশে আমরা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারব কি না। হয়তো পারব। বিকলাঙ্গ অনাথ ছেলে-মেয়েও বেঁচে থাকে; সময় ভালো হলে দান-অনুদানের মাধ্যমে তার রুজি-রোজগারও একটু বাড়ে, কিন্তু তার জীবন যাপন প্রক্রিয়া কারো কাম্য হতে পারে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেটবাজরা; আমরা অসহায়। অফিস নিয়ন্ত্রণ করছে দুর্নীতিবাজরা, সেখানেও আমরা নীরব দর্শক।

নাগরিকের সম্পদের নিরাপত্তা দেয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত অর্থ যদি লোপাট হয়ে যায়, তবে নাগরিকের জীবনে সুখ-শান্তি-স্বস্তি ক্ষয়ে যায়। অনেকে মনে করে দেড় নম্বরিতে দেশটা ভরে গেছে। অফিস-আদালত, হাট-বাজার, শহর-বন্দর সর্বত্র এরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মসৃণ, সুন্দর প্রতিশ্রুতি দিয়ে, আশ্বাস দিয়ে এরা আশপাশের সবাইকে ঠকাচ্ছে, অর্থকড়ি হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের থেকে ছাড়া পাওয়ার উপায় নেই। যেকোনো কাজে যান না কেন, এদের দেখা মিলবেই এবং নানা মিহি কথায় ভুলিয়ে এরা কিছু টাকা হাতিয়ে নেবেই। সারা মুলুকে এদের অবাধ বিচরণ। সজ্জন ব্যক্তিরা আতঙ্কগ্রস্ত। ‘চারদিকে এমন দেড় নম্বরি লোক, সুখ-শান্তিতে কি জীবন যাপন করা যায়?’

সুখ তাই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তরিকভাবে ডাকাডাকি করলে সুখ-নন্দন আবার ফিরে আসতে পারে।

 লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান

মন্তব্য