kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

বিমান দুর্ঘটনা ও বোয়িংয়ের সামরিক চুক্তির ভবিষ্যৎ

অনলাইন থেকে

৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইথিওপিয়ায় সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কম্পানি বোয়িং এবং মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ওপর সবার নজর পড়েছে। স্পুিনকের সঙ্গে আলাপকালে বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ এবং এর জন্য পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের কাছে বোয়িংয়ের গ্রহণযোগ্যতা সংকটের মুখে পড়বে কি না তা নিয়ে নিজেদের মতামত জানান। বোয়িং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমান নির্মাতা। একই সঙ্গে পঞ্চম বৃহৎ প্রতিরক্ষা ঠিকাদার। তবে গত ১৩ মার্চ আদ্দিস আবাবায় এবং গত বছরের ২৯ অক্টোবর জাকার্তার বিমান দুর্ঘটনার পর তাদের সামরিক সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ৩০টি দেশ ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানগুলোর উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছে। দুর্ঘটনার কবলে পড়া দুটি বিমানই উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে ধসে পড়ে। এর জন্য বিমানের ম্যানুভারিং ক্যারেক্টারস্টিকস অগমেন্টেশন সিস্টেমকে (এমসিএএস) দায়ী করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ার ফ্লাইট ৬১০-এর দুর্ঘটনার জন্য প্রাথমিক তদন্তে এমন কারণই খুঁজে পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা এক ধরনের সতর্কঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর সঙ্গেই বোয়িংয়ের কয়েক শ কোটি ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৯২০ কোটি ডলারের নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণ বিমান, নৌবাহিনীর মনুষ্যবিহীন প্রথম সশস্ত্র ট্যাংকারের ৮০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং বিমানবাহিনীর জন্য ২৩৮ কোটি ডলারের হেলিকপ্টার চুক্তি। সব মিলিয়ে বোয়িং এখন পেন্টাগনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঠিকাদার কম্পানি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত বছরের প্রতিরক্ষা বাজেট বোয়িংকে যথেষ্ট মজবুত অবস্থানে নিয়ে যায়। তবে এই কম্পানির কাছ থেকে নেওয়া সামরিক বাহনগুলো দুর্ঘটনার মুখেও কম পড়েনি।

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে দ্য নেশন ইঙ্গিত দেয়, বোয়িং ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে স্বার্থসংঘাত রয়েছে। ইথিওপিয়ার ঘটনার পর দ্য হিল জানায়, বোয়িং ও ট্রাম্পের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) মধ্যে ‘দুর্নীতি’ হয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশের তুলনায় এফএএ বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছে বলেও জানায় তারা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বোয়িং এবং এফএএর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে ফেডারেল আইনজীবী ও যোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন।

তবে এই ত্রুটির কারণে বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞ এডি মিসেলি। তিনি বলেন, ‘এটি বিমান চলাচলের একেবারে ভিন্ন একটি খাত। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লেও তা বাইরে জানানো হবে না। অভ্যন্তরীণভাবেই তা মিটিয়ে নেওয়া হবে।’ দুরোজাইয়েও একই মত দেন। বোয়িংয়ের সিইও ৭৩৭ ম্যাক্সের ত্রুটি দ্রুত সারিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

দুরোজাইয়ে দ্য হিলের উল্লেখ করা উদ্বেগের বিষয়ে বলেন, ‘বিমানের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার কথা এফএএর। তবে বাজেট নেই বলে দোহাই দিয়ে তারা কাজটি পুরোপুরি করে না। আমি মনে করি, এটা তাদের ব্যর্থতা। নিজেরা পরীক্ষা না করে তারা দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় বিমান নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানের ওপর।’

সিন ব্রোডেরিক বলেন, ‘ম্যাক্স এমসিএএস ব্যবস্থার ঝুঁকিপূর্ণ দিকটি বোয়িং ভালো করে বিশ্লেষণ করেনি। এ নিয়ে এফএএ কোনো প্রশ্ন করেনি। দুটি বিষয়ই ভুল হয়েছে।’ সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম এলজিএমএসের সিইও চং-ফুক ফং বলেন, ‘এফএএ ঠিক কী কী পরীক্ষা চালায়, সেই বিষয়গুলো ঠিকভাবে না জেনে বলা কঠিন, দুর্ঘটনা যে কারণে ঘটেছে সেই বিষয়গুলো তারা পরীক্ষা করেছে কি না।’

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দুর্ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিয়ে গেছে যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনো বহু কাজ বাকি।’ বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউরোপের এয়ারবাস কম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামার তাড়াহুড়ায় তারা নিরাপত্তার বিষয়টিতে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে তারা বিমানের জ্বালানির চাহিদা কমিয়ে দিয়ে ৭৩৯ মডেলকেই রিডিজাইন করে ৭৩৭ ম্যাক্স নির্মাণ করে। ক্রেতাদের মধ্যে এর চাহিদাও রাতারাতি বেড়ে যায়।

গত ১০ মার্চ ইথিওপিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৩০২ আদ্দিস আবাবা থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হলে ১৫৭ জন আরোহী নিহত হয়। এর আগে ২৯ অক্টোবর একই মডেলের বিমান ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয় ১৮৯ আরোহী। গত ১৮ মার্চ ফ্রান্সের ব্যুরো অব ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যানালিসিস ফর সিভিল এভিয়েশন সেফটি (বিইএ) ইথিওপিয়ার বিমানের ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের পর জানায়, ইন্দোনেশিয়ার বিমানে যে ত্রুটি পাওয়া গিয়েছিল, ইথিওপিয়ার বিমানেও সেই একই ত্রুটি পাওয়া গেছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বিইএ জানায়, দুই বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডারের (এফডিআর) ত্রুটির সাদৃশ্যগুলো নিয়ে তারা আরো বিশ্লেষণ করবে।

 

সূত্র : স্পুিনক অনলাইন

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

মন্তব্য