kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী খিজির (আ.)

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী খিজির (আ.)

৬৫. অবশেষে তারা [মুসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গী] আমার বান্দাদের মধ্যে একজনের সাক্ষাৎ পেল [তাঁর নাম খিজির (আ.)], যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে (বিশেষ) অনুগ্রহ করেছিলাম। আর তাকে আমার পক্ষ থেকে বিশেষ জ্ঞান দিয়েছিলাম। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬৫ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে বিশেষ জ্ঞান দান করার জন্য খিজির (আ.)-এর কাছে পাঠিয়েছেন। আলোচ্য আয়াতে খিজির (আ.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর মুসা (আ.) আল্লাহর এমন এক বান্দার সাক্ষাৎ লাভ করেছেন, মহান আল্লাহ যাঁর ওপর বিশেষ রহমত বর্ষণ করেছেন এবং তাঁকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন।

খিজির (আ.) নবী ছিলেন কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে নানা যুক্তির আলোকে তাঁকেও নবী বলা যায়। কারণ মুসা (আ.)-এর মতো অত্যন্ত উঁচু পর্যায়ের নবীর শিক্ষক অবশ্যই নবী হয়ে থাকবেন। আরেকটি যুক্তি হলো, কোরআনে নবী-রাসুলদের সাধারণত ‘আবদ’ বা দাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আমাদের মহানবী (সা.)-এর জন্যও এ পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। আর এ পরিভাষা খিজির (আ.)-এর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, খিজির (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন বলে কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি শুধু নবী-রাসুলদেরই বৈশিষ্ট্য।

পবিত্র কোরআনে খিজির (আ.) সম্পর্কে এতটুকু বর্ণিত হয়েছে যে তিনি ‘আমার বান্দাদের একজন।’ তাফসিরবিদরা সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর নাম খিজির বলে উল্লেখ করেছেন।

কিছু মানুষ মনে করে, তিনি একজন অলি ছিলেন। মৃত্যু হয়ে গেলেও তিনি মানুষের বেশ ধরে মানুষের উপকার করেন। ফলে জঙ্গলে ও সাগরবক্ষে বিপদাপদ থেকে বাঁচার জন্য আজও অনেকে খিজির (আ.)-এর নামে মানত করে থাকে। এসব ধারণা ভিত্তিহীন ও অজ্ঞতাপ্রসূত।

এক দল আলেমের মতে, যদি বিষয়টিকে কোরআনের বাহ্যিক অর্থের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁকে ‘আল্লাহর একজন বান্দা’ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাহলে তিনি নবী ছিলেন, নাকি আল্লাহর অলি ছিলেন, তিনি এখনো বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন—এসব বিতর্কের আর কোনো অবকাশ থাকে না। কোরআনের পাঠকদের জানা থাকার কথা যে মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর মায়ের প্রতি এ মর্মে ওহি তথা ইলহাম পাঠিয়েছেন যে সদ্য প্রসূত সন্তান মুসাকে বাক্সে ভরে সাগরে নিক্ষেপ করতে হবে। একইভাবে জিবরাইল (আ.) মানুষের রূপ ধরে এসে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে সাহাবিদের দ্বিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। একই ধরনের ঘটনা মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ক্ষেত্রে হওয়াটাও বিস্ময়কর কিছু নয়।

এ ছাড়া পবিত্র কোরআনে লোকমান হাকিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত উঁচু মানের জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। তাঁর জ্ঞানপূর্ণ উপদেশ কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর নামে একটি সুরাও নাজিল হয়েছে। কিন্তু তিনি নবী ছিলেন না। লোকমান হাকিমকে আল্লাহ যেমন বিশেষ ‘হিকমত’ দান করেছিলেন, খিজির (আ.)-কেও তেমন জ্ঞান দান করা বিচিত্র কিছু নয়।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা