kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

পরিকল্পনার মোড় ঘুরে এখন মোসাদ্দেকের দিকে

সাইদুজ্জামান, কার্ডিফ থেকে   

২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে অলিম্পিক আর ফুটবল বিশ্বকাপের আদলে মিক্সড জোন খুলেছে আইসিসিও। চিরায়ত সংবাদ সম্মেলনের বাইরেও ম্যাচের পর দুই দলের কয়েকজন করে ক্রিকেটার অপেক্ষমাণ সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। তো, নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচের পর এ রীতি ভেঙে ভারত ‘পেশি’ দেখিয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার রেশও নেই আইসিসিতে। উল্টো কেমন দিশাহারা সংস্থাটি, ভারত বলে কথা!

ক্রিকেটে প্রতাপশালী ভারতেরই প্রতিবেশী বাংলাদেশ। তাই কিছু সংক্রমণ তো থাকবেই! অন্তত মিডিয়ার সামনে প্রতিনিধি পাঠানোর রীতি পায়ে ঠেলার পূর্বলক্ষণ কিন্তু দেখা যাচ্ছে। ম্যাচ ডে’র বাইরে দলের প্রতিনিধি হিসেবে এমন কাউকে পাঠানো হয় যাঁকে করার মতো কোনো প্রশ্নই থাকে না মিডিয়ার কাছে! গতকাল দেখা গেছে আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার একজন ভারতীয় হয়েও কেমন কাঁচুমাচু হয়ে বাংলাদেশ মিডিয়া ম্যানেজারকে অনুনয় করছিলেন অন্তত মিনিট পাঁচেকের জন্য হলেও যেন মিক্সড জোনে কথা বলেন মোসাদ্দেক হোসেন ও সাব্বির রহমান। তবে বাংলাদেশ তো আর ক্রিকেটে এখনো ভারত হয়নি। তাই অনুরোধ টিকেছে, হাত বাড়ানো দূরত্বে দাঁড়িয়ে বাংলা এবং ইংরেজিতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন একই পজিশনের জন্য লড়াইয়ে ব্যস্ত দুজনে।

ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে নেতিয়ে পড়া ক্রিকেট দিবসে এমন দুজনের মাঝে চলমান লড়াইয়েই তাই মসলা খোঁজার চেষ্টা। কার্যত পুরো সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে সাব্বির রহমানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বোলিং সামর্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে মোসাদ্দেক হোসেনের নামে বিশ্বকাপের টোকেন তুলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রত্যাবর্তন সিরিজে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে মাশরাফির আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন সাব্বির। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের নৈপুণ্য টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বকাপ ভাবনার মোড় অনেকটাই ঘুরিয়ে দিয়েছেন মোসাদ্দেক। সাত নম্বরে নেমে সাব্বির তাগড়া ঘোড়ার মতো ছুটবেন বলে বিশ্বাস করা মাশরাফির কাছে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর মোসাদ্দেকের অফস্পিন বোলিংয়ের গুরুত্বও স্পষ্টতই বেড়েছে। সেদিন মোসাদ্দেকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের প্রসঙ্গ আপাতত না তুললেও চলছে। অন্যদিকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ সাব্বির যে ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটিংয়ের সে রকম সুযোগই পাননি। একটি পেয়েও হেলায় হারিয়েছেন।

তাই ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাব্বির নাকি মোসাদ্দেক—এমন সম্ভাবনার হাওয়া বদল শুরু হয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডে সেঞ্চুরি করে আসা সাব্বিরের চেয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ নির্ধারণী ইনিংস খেলা মোসাদ্দেকের দিকেই এখন সম্ভাবনার জোর হাওয়া বইছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াডে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সংখ্যাধিক্য সম্ভাবনার রেসে ব্যবধান ওলটপালট করে দিয়েছে। মাঝের কটা দিনে অভাবিত কিছু না ঘটলে অন্তত এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে অগ্রাধিকার পাবেন মোসাদ্দেক।

সেটি আঁচ করতে পেরেই কিনা দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গটি উঠতে একটু বিব্রতই দেখিয়েছে সাব্বিরকে, ‘সব সময় কঠিন পরিস্থিতিতেই আমি খেলেছি। চ্যালেঞ্জ নিয়েই খেলেছি। এবারও কাজটা আমার জন্য সহজ হবে না। তবে চেষ্টা করব নিজের যেটা করার আছে, শতভাগ দিয়ে সেরা ক্রিকেটটা খেলার চেষ্টা করব।’

একই প্রশ্নের সামনে মোসাদ্দেক অনায়াসে ‘ডাক’ করে গেছেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি নিয়ে আমি সেভাবে চিন্তা করছি না। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমি চাই না যে কেউ খারাপ খেলুক আর এই সুযোগে আমি দলে আসি। সবার আগে বাংলাদেশ দল। সবাই ভালো করুক, দলেরও ভালো তাতে। আমার সুযোগ এলে ভালো করার চেষ্টা করব।’

এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুজনকেই ঠেলে দিয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। মোসাদ্দেক ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ‘শেষ’ করেছেন। আবার নিউজিল্যান্ড সিরিজে সাব্বিরের সেঞ্চুরিও ভুলে যায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। তাতে সাত নম্বরে এঁদের কারোর শতভাগ ‘লাকি’ নয়। ফর্মে বিচ্যুতি ঘটলেই ব্যাটন বদল অনিবার্য। তাই বিশ্বকাপজুড়েই সাব্বির-মোসাদ্দেক লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা