kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

১৬ কোটির ১৫

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের ধারক এই ১৫ জন। তাঁদের নিয়ে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের বিশেষ ধারাবাহিক এই আয়োজনে আজ জেনে নিন সাকিব আল হাসানের বিস্তারিত।

২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



১৬ কোটির ১৫

বড় মঞ্চের বড় ক্রিকেটার

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আর পেছনে না তাকানোই সফল মানুষদের উত্থানের সুখী সুখী গল্প আমরা শুনে থাকি। তবে তিনি যেন সাফল্যের ধারাবাহিক গল্প। টেপ টেনিস ফেলে ক্রিকেট বল হাতে প্রথম বলেই উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। মাগুরা থেকে বিকেএসপি হয়ে একটি একটি করে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সিঁড়িতেও বাধাহীন উঠেছেন তিনি। ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে এবং ক্রিকেট মস্তিষ্কে সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়। সেই কবে থেকেই তো আইসিসির অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ের শীর্ষ তিনে আছেন তিনি, তিন ফরম্যাটেই। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে নামার আগে ফিরে পেয়েছেন ওয়ানডের শীর্ষ অলরাউন্ডারের মুকুটটি। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার সাকিব।

তিনি কখনোই অতটা এক্সপ্রেসিভ নন। ২০০৭ বিশ্বকাপে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয়ের ম্যাচে ফিফটির প্রসঙ্গ তুললেও তেমন আপ্লুত হন না সাকিব আল হাসান। বড়জোর, ‘হুম, ভালো তো অবশ্যই লেগেছিল।’ এর বেশি কিছু তাঁর মুখ থেকে বের করা কঠিন। কে জানে, সাফল্যের সোনার চামচ মুখে ক্যারিয়ার শুরু বলেই কিনা এ অর্জনের মাইলফলক আবেগের তালা খুলে দেয় না সাকিবের।

মাগুরার গ্রামে গ্রামে চুটিয়ে টেপ টেনিস খেলে বেড়ানো সাকিব একদিন বলছিলেন, ‘আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা সেভাবে আসেনি। যেখানে খেলেছি রান করেছি, উইকেট নিয়েছি।’ যদি কখনো ব্যাটে হাসেনি তো সেদিন বোলিং দিয়ে সে দাগ মুছে দিয়েছেন। আবার উল্টোটাও হয়েছে। তবে ফিল্ডিংটা তাঁর বরাবরই দুর্দান্ত, সে ত্রিশ গজ বৃত্তের ভেতরে হোক কি সীমানাদড়ির ওপর। তিনটিতেই সমান দক্ষ হওয়ায় যেকোনো ম্যাচে কিছু না কিছু অবদান থাকেই সাকিবের। প্রায় ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সুরও তাই আর কাটেনি তাঁর। তবু ক্ষুধা মেটেনি। বরং আরো বেড়েছে, বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে।

সবশেষ আইপিএল ব্যস্ততার কারণে দলের সঙ্গে প্র্যাকটিস করা হয়নি। আয়ারল্যান্ডে এসেছেন এক দিন পরে। তবে ডাবলিনে পা রাখার পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর ভাবনাজুড়ে বড় লক্ষ্য। ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পরদিন নিজের মধ্যকার পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন সাকিব নিজেই। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ নিয়মিত খেলাচ্ছিল না। এ অবহেলাকেই সুযোগ বানিয়ে নিজেকে বড় মঞ্চের জন্য তৈরি করেছেন সাকিব। চার সপ্তাহে ছয় কেজি ওজন কমিয়ে এতটাই ফিট তিনি যে বাংলাদেশ দলের বাকিদের চোখ ছানাবড়া! এই সাকিবের সামনে যে সাফল্য দুহাত মেলে দাঁড়িয়ে আছে—এ নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয় নেই। চোটের কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলা হয়নি তাঁর। তবে যে কটা ম্যাচ খেলেছেন, সবকটিতেই পরিবর্তিত সাকিব প্রত্যাশা মিটিয়েছেন সবার। ২০১৯ বিশ্বকাপেও এই সাকিবকে চায় বাংলাদেশ। আশার কথা, তিনি নিজেও এবারের বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছেন। ঢোল বাজিয়ে বলেন না। তবে সবশেষ আইপিএল মৌসুম থেকে পাওয়া একটা ‘কিক’ অনুপ্রেরণা হয়ে জাগিয়ে তুলেছে তাঁকে। তাই আয়ারল্যান্ড উলভসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও সিরিয়াস সাকিব কার্ডিফের অনুশীলন সেশনেও মনোযোগী। বড় মঞ্চের জন্য বড় খেলোয়াড়ের প্রস্তুতি তো এমনই হওয়ার কথা।

তিনিও বড় ক্রিকেটার। আর এ গোত্রের সবার কাছে ব্যক্তিগত সুনামের ব্যাপারও থাকে। সাকিবের মনে যে তা বিলক্ষণ আছে, সেটি তিনি মুখ ফুটে না বললেও চলে।



 

শেষ পর্যন্ত যেতে পারব বলে আশাবাদী

প্রশ্ন : বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়দের বিশেষ লক্ষ্য থাকে। এই বিশ্বকাপ ঘিরে আপনারটা কী?

সাকিব আল হাসান : সবারই তো লক্ষ্য থাকে। বিশ্বকাপ খেলা প্রতিটি ক্রিকেটারেরই নিজস্ব লক্ষ্য থাকে। একটা কথাই বলতে পারি যে গত আট-নয় বছরে এত কষ্ট করিনি, যতটা পরিশ্রম করেছি ও প্রস্তুতি নিয়েছি এই বিশ্বকাপের জন্য। আমার পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব ছিল, করেছি। বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা এবং আমার চেষ্টা।

প্রশ্ন : তাহলে বিশ্বকাপের আগে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব ভালো জায়গায় আছেন।

সাকিব : ওই যে বললাম, ২০১১ সালের পর নিজের ফিটনেস নিয়ে এত বেশি কাজ করিনি। ডায়েটও বদলে ফেলেছি। বিশ্বকাপ সামনে, তাই ওটাকে টার্গেট করেই কাজ করেছি। পরিবেশ এবং পরিস্থিতিও (সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে তেমন খেলার সুযোগ না হওয়া) এমন তৈরি হয়েছিল যে আমি প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। সব মিলিয়ে আমি এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি। খুব ভালো অনুভব করছি।

প্রশ্ন : এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল কত দূর যাবে বলে বিশ্বাস?

সাকিব : আমার তো মনে হয় এবারই আমাদের বিশ্বকাপ জেতার সত্যিকারের সুযোগ। তবে টুর্নামেন্টের ফরম্যাট যা, তাতে আমাদের অবশ্যই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার দিকে মনোযোগী হতে হবে। যদি আমরা তা করতে পারি, তাহলে চাইব আগে নক আউট পর্বে যেতে। আমার এই বিশ্বাস আছে যে এবার আমরা ভালো করব।

প্রশ্ন : এই বিশ্বাসের ভিত্তি কী?

সাকিব : দারুণ একটি দল আমাদের। যদিও নতুন এবং ডেথ বোলিং নিয়ে আমার কিছুটা উদ্বেগ আছে। এর পরও আমি আশাবাদী যে আমরা শেষ পর্যন্ত যেতে পারব। কারণ আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আছে তিন-চারটি করে বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটারও। তবে স্বপ্ন সত্যি হতে হলে একসঙ্গে অনেকগুলো ব্যাপারও ঠিকঠাক কাজ করতে হবে। আর শুরুতেই ছন্দটা ধরে ফেলতে হবে।


টার্নিং পয়েন্ট ►

বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়াই আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। যে সুযোগ না পেলে হয়তো ক্রিকেটার হিসেবে এত দূর আসাই হতো না। 

 

সিক্রেট ►

নিশ্চয়ই কিছু ‘সিক্রেট’ আছে। তবে আমি সেগুলো কারো সঙ্গে শেয়ার করি না।

 

সেরা ম্যাচ ►

কার্ডিফে ২০১৭-র চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নিউজিল্যান্ড ম্যাচ। যে ম্যাচে রান তাড়ায় ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আমার আর রিয়াদ ভাইয়ের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জেতে, আমরা সেমিফাইনালে যাই।

 

নিজের শক্তি ►

আত্মবিশ্বাসই আমার শক্তি। এর জোরেই উঠে এসেছি এত দূর।

 

দুর্বলতা ►

নিজের দুর্বলতা কাউকে বলতে নেই।

 

ক্যারিয়ার লক্ষ্য ►

যত দিন সম্ভব, ফিট থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলে যাওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা