kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

আমার ফেভারিট ইংল্যান্ড ভারত অস্ট্রেলিয়া

২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার ফেভারিট ইংল্যান্ড ভারত অস্ট্রেলিয়া

ক্লাইভ লয়েডের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার কৃতিত্ব শুধুই রিকি পন্টিংয়ের। নিজে অংশ ছিলেন তিনটি বিশ্বকাপজয়ী দলের। ব্যাটসম্যান হিসেবেও সময়ের তো বটেই, সর্বকালেরই সেরাদের একজন। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দলের সহকারী কোচের  ভূমিকায় থাকবেন রিকি পন্টিং। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পন্টিং ফেভারিট মানছেন এবারও

 

প্রশ্ন : স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের দলে ফিরে মূলস্রোতে মিশে যাওয়াটা কতটা সহজ হবে? অ্যারন ফিঞ্চ তো অধিনায়কের দায়িত্বটা ভালোই পালন করছেন, তাঁরা ফিরলে দলের রসায়নটাই বা কেমন হবে?

রিকি পন্টিং : তারা দুজন দলে ফেরার জন্য যতটা মুখিয়ে আছে, তার চেয়ে বেশি মুখিয়ে আছে মাঠে নামার জন্য। খেলার জন্য। তারা দুজনেই উঁচুমানের ক্রিকেটার আর অস্ট্রেলিয়া দলও চাইছে তারা দুজনেই যেন তাড়াতাড়ি ফিরে পায়ের নিচের জমি খুঁজে পায়। আমি জানি এখন তাদের (স্মিথ-ওয়ার্নার) দলীয় বৈঠকগুলোতে বসতে একটু খারাপই লাগবে। তবে প্রথম ১০-১৫ মিনিট যাওয়ার পর সব কিছুই আগের মতো হয়ে যাবে। আর ফিঞ্চের ব্যাপারে আমি মনে করি, ওরা ফিরলেও নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার মতো ব্যক্তিত্ব ফিঞ্চের আছে। বিশ্বকাপে সে-ই দলকে নেতৃত্ব দেবে।

প্রশ্ন : এর পরও কি আপনি অস্ট্রেলিয়াকে আন্ডারডগ বলবেন?

পন্টিং : ভারতের সঙ্গে সিরিজের আগেও যখন অস্ট্রেলিয়াকে ফেভারিট বলেছিলাম, তখন অনেকে আমার কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। এই অস্ট্রেলিয়ান দলটা অনেক উঁচুমানের। এই ওয়ানডে দলটার গভীরতা অনেকখানি আর আমরা বোধ হয় তার খানিকটা টেরও পেয়েছি। ওরা ভারতে এসে ২-০তে পিছিয়ে থাকার পর ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে। বিশ্বকাপে আমার ফেভারিট ইংল্যান্ড। ভারতও খুব ভালো দল। আমার মনে হয় ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে তারা ভালো করবে। ইংল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়া—এই তিন হচ্ছে আমার ফেভারিট।

প্রশ্ন : লেগস্পিনাররাই কি এই বিশ্বকাপে চমক হতে যাচ্ছে?

পন্টিং : আমার মনে হয় লেগস্পিন বিশ্বকাপে বিশাল একটা ভূমিকা পালন করবে। মাঝের ওভারগুলো একটা সময় ম্যাড়মেড়ে হয়ে যেত, কিন্তু এবার মনে হচ্ছে রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে, কারণ লেগস্পিনাররা বোলিং করবে। ওই সমস্ত ওভারগুলোতে উইকেট পড়তে দেখব। বেশির ভাগ দলকেই দুজন করে স্পিনার খেলাতে দেখা যাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের জন্য যেটা বেশ ব্যতিক্রমধর্মী একটা ব্যপার। এই দলগুলোয় সাধারণত একজন স্পিনারের সঙ্গে একজন অলরাউন্ডার নেওয়া হতো যে বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংটাও পারত। এখন সব দলেই দুই স্পিনার, পারলে আরেকজন পার্টটাইম স্পিনার নেয়।

প্রশ্ন : বিরাট কোহলি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

পন্টিং : সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত যা করেছে, সেটা মনে রাখার মতো। এ ধরনের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে যখন বোলিং করতে হয়, তখন তাদেরকে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে দিতে হয় না। তাদেরকে একটা দ্বিধার ভেতর ফেলে দিতে হয়। বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং পরিবর্তন, বেশি বেশি বাউন্সার দেওয়া...কোনো একটা কিছু। যারা ভালো ব্যাটসম্যান, তারা এত কিছুর ভেতরও একটা উপায় বের করে ফেলে। তাদের যতটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা যায়, তারা ততই জয়ী হয়ে বেরিয়ে আসে।

প্রশ্ন : জাস্টিন ল্যাঙ্গারের জন্য বিশ্বকাপটা কোচ হিসেবে কতটা কঠিন হবে?

পন্টিং : অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্য গত ১২টি মাস ছিল কঠিন সময়। সেই সময়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার মনে হয় অবশেষে সে ফল পেতে শুরু করেছে। আমার দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল আমার সাবেক সতীর্থকে সাহায্য করা আর অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বকাপ জিততে সহায়তা করা। সে আমার বড় ভাইয়ের মতো। তবে এখন আমাদের ভূমিকা বদলে গেছে! আগে সে আমার অধীনে খেলত আর এখন আমি তাঁর অধীনে কাজ করি। সে উচিত কথাটা বলতে ছাড়ে না, কোনো রাখঢাক করে না; এমনটাই আমি চাই।

প্রশ্ন : গ্লেন ম্যাক্সওয়েল বলেছেন, আপনি চাইলে খেলোয়াড়রা নাকি জান দিতেও প্রস্তুত। খেলোয়াড়রা কেন আপনার ওপর এত আস্থা রাখে?

পন্টিং : আমি মনে করি আমি একজন ইতিবাচক মানসিকতার লোক। আমার মনে হয় কোচিংয়ের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করানো যে আসলেই তারা অনেক কিছু করতে পারে। যদি সেটা নাও হয়, তাকে বোঝানো যে সে কী পারে। আমি কোচিং নিয়ে খুব প্যাশনেট। আমি সবাইকে এখনকার চেয়ে উন্নত করতে চাই। আমি তাদের জিততে দেখতে চাই।  আমি প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কাজ করি, মাঠ থেকে সবার শেষে বের হই। নিশ্চিত করি, সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা