kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই প্রস্তুত বাংলাদেশ

২৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই প্রস্তুত বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের দেশে মাত্র দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। তার আবার প্রথমটাই পণ্ড হয়ে গেল বৃষ্টিতে। হতাশ লাগছে না? প্রথমে হতাশার সামান্য ইঙ্গিত দিলেও গতকাল কার্ডিফের বৃষ্টিতে পাকিস্তান ম্যাচ ভেসে যাওয়ার পর বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডসের কথায় মনে হতে পারে ম্যাচটি ঐচ্ছিক ছিল তাঁর দলের জন্য। খেলা হয়নি তো কী, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি তাতে বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত হয়নি।

‘বৃষ্টির ওপর কারোর হাত নেই। ম্যাচটি না হওয়া দুই দলের জন্যই হতাশার। তবে এই সেদিন আয়ারল্যান্ডে আমরা যে ক্রিকেট খেলে এসেছি, তাতে প্রস্তুতি ম্যাচ না হওয়া নিয়ে বাংলাদেশের খুব বেশি দুশ্চিন্তা করার নেই। আয়ারল্যান্ডের কন্ডিশন অনেকটা এখানকার মতো। আর সেখান থেকে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েও এসেছি’, স্টিভ রোডসের মনের কোথাও সামান্য আক্ষেপও আর তখন অবশেষ নেই।

থাকার কথাও নয়। একে তো ক্রিকেটের আকাশে প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উপায় নেই। সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি দুপুর ১টায় থেমে যাওয়ার পূর্বাভাস ছিল। এখানকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এতটাই উন্নত যে তাতে পর্যাপ্ত ক্রিকেট হওয়ার সম্ভাবনাও বেঁচে ছিল। কিন্তু সেই পূর্বাভাসকে মিথ্যা প্রমাণ করে ঝিরঝিরে বৃষ্টি না থামায় ২টার দিকে খেলার সম্ভাবনার ‘মৃত্যুঘণ্টা’ বাজিয়ে দেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা। যদিও স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া ৪টাকে ‘কাট আউট টাইম’ নির্ধারণ করা হয়েছিল শুরুতে। তবু আগেভাগে ম্যাচ বাতিল করার বোধগম্য কারণ একটাই হতে পারে—অকারণ ঝুঁকি নিতে চায়নি কোনো দলই। ইংল্যান্ডে সদ্যই একটি সিরিজ খেলায় প্রস্তুতির অত গরজ নেই এক দিন আগে আফগানিস্তানের কাছে হারা পাকিস্তানের। আর কার্ডিফে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে ডাগ আউটে থাকা নিয়ে একরকম ধাক্কাধাক্কিই চলছে বাংলাদেশ দলে!

এর প্রেক্ষাপটও আয়ারল্যান্ডে জেতা ত্রিদেশীয় সিরিজ। ম্যাচ বাতিলের পর প্রেস কনফারেন্সে কোচ এবং মিক্সড জোনে মোসাদ্দেক হোসেন ও সাব্বির রহমানের কণ্ঠেও একই সুর। ম্যাচ বাতিল হওয়ায় তাঁরা কেউই বিপন্ন বোধ করছেন না। ডাবলিন থেকে নিয়ে আসা আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর পুরো দল।

বাংলাদেশের মতো ফুড স্টলগুলো গ্যালারিতে বসে না, বাইরের ওয়াকওয়েতে খদ্দেরের অপেক্ষায় তৈরি থাকে। তো, সেখানে একটা জটলায় খুঁজে পাওয়া গেল হাবিবুল বাশারকে। এই কার্ডিফে তাঁর অধিনায়কত্বেই ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। স্বভাবতই পর্যবেক্ষক হয়ে আসা জাতীয় এ নির্বাচককে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রবল আকর্ষণ। ছবি-টবি তুলেই ক্ষান্ত নন তাঁরা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভূত-ভবিষ্যত্ নিয়েও হাবিবুলের সঙ্গে গভীর আলোচনা করেছেন। এরই ফাঁকে হাবিবুল শোনালেন অন্য কথা, ‘ম্যাচটি হওয়া খুব দরকার। বিশেষ করে এই মাঠে। এখানে ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলা আছে। মাঠটা ছোট। বোলারদের জন্য এখানকার সঠিক লেন্থটা বুঝে নিতে পারলে ভালো হতো।’

তাহলে কি আয়ারল্যান্ড থেকে নিয়ে আসা ‘কফিন’ বোঝাই আত্মবিশ্বাস নিছকই ফাঁকা বুলি? নিজের ক্রিকেট-জীবন থেকে আত্মবিশ্বাসের মূল্য জানেন হাবিবুল বাশার, ‘অবশ্যই ওটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে এটা বিশ্বকাপ। এত বড় টুর্নামেন্টে শুরুটা দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। একটু গড়বড় হয়ে গেলে ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস হারাতে বেশি সময় লাগে না। এখন হারছে বলে আপনি পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিতে পারবেন না।’

বিশ্বকাপের মঞ্চ আসলে কী কী বিস্ময় নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে, তার প্রায় সবটাই অজানা। হাবিবুল বাশারের কাছে তো আফগানরাও দুর্ধর্ষ! অথচ আইসিসির পূর্বাভাসে কিনা ৯ নম্বরে ঠাঁই হয়েছে বাংলাদেশের, যদিও র্যাংকিংয়ে ৭। বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাব্য দলের যে তালিকা করেছে আইসিসি, তাতে বাংলাদেশের পরে মাত্র একটি দল—আফগানিস্তান। সংবাদ সম্মেলনে আইসিসি অনলাইনের এক সাংবাদিককে পেয়ে পরোক্ষে যেন ক্ষমার অযোগ্য সেই ভুলটিই ধরিয়ে দিতে চাইলেন স্টিভ রোডস, ‘আমাদের ৯ আর আফগানিস্তানকে ১০ নম্বরে রাখা হয়েছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমাদের দলে অনেক অভিজ্ঞ এবং ভালো ক্রিকেটার আছে। আয়ারল্যান্ডে আমরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। তাই আত্মবিশ্বাসেও ভরপুর পুরো দল। সবাই একটা লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে।’

সেই লক্ষ্য ধাপে ধাপে বিশ্বকাপের সিঁড়ি ভাঙা। অবশ্য শুরুতেই রয়েছে বড় বাধা। এখানকার কন্ডিশনে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডকে আদর্শ প্রতিপক্ষ মনে করার কোনো কারণ নেই উপমহাদেশের কোনো দলেরই। তবে টুর্নামেন্ট সূচি তো আর বিসিবির বানানো নয়। তাই এটা মেনে নিয়েই টুর্নামেন্ট পাড়ি দেওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে স্টিভ রোডসকে, ‘প্রতিটি দলের জন্য আমাদেরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। জানি কঠিন হবে, তবে এখনই আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

পণ্ড হওয়া ম্যাচের পর কোনো কোচের মুখ থেকে এমন আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা সহসা শোনা যায় না। তবে আয়ারল্যান্ডে ব্যাটিং-বোলিং এসব বলার সাহস জোগাচ্ছে স্টিভ রোডসকে। প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াও বিশ্বকাপের ময়দান কাঁপানোর প্রস্তুতি নেওয়া আছে জানিয়ে হাসিমুখেই টিম বাসের উদ্দেশে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ছেড়েছেন বাংলাদেশ কোচ।

মন্তব্য