kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

১৬ কোটির ১৫

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের ধারক এই ১৫ জন। তাঁদের নিয়ে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের বিশেষ ধারাবাহিক এই আয়োজনে আজ জেনে নিন মুস্তাফিজুর রহমানের বিস্তারিত। লিখেছেন মাসুদ পারভেজ

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



১৬ কোটির ১৫

এবার মাত করতে চান বদলে যাওয়া দুনিয়াও

 

নিজের ফেলে আসা দিনগুলোকে খুঁজতে গেলে এখনো তাঁকে সবার আগে ফিরে যেতে হয় স্কুলের দেয়ালে। যেখানে ইটের খোয়া দিয়ে আঁকা লাল রঙের স্টাম্পে বোলিং করার দিনগুলো ছিল শুধুই মনের আনন্দে ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকার। ক্রিকেট দিয়ে মানুষকে মাতোয়ারা করার স্বপ্নের বীজ রোপিত হয়েছে আরো অনেক পরে। সেই সময়টিও খুব স্পষ্ট মনে করতে পারেন। সেটি বলতে গিয়েই তাঁর মনের পর্দায় তত্ক্ষণাৎ সচল হয়ে যায় প্রয়াত কোচ শেখ সালাউদ্দিনের ল্যাপটপও!

সত্যিই তাই। বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অফস্পিনারকে মুস্তাফিজুর রহমান কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন খুলনার বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৬ দলে খেলার সময়। অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে নিয়ম করে সালাউদ্দিন নিজের ল্যাপটপে ছাড়া ভিডিওর দর্শকও বানিয়ে দিতেন শিষ্যদের। সেসব ভিডিওই মুস্তাফিজকে দেখায় বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন, ‘সালাউদ্দিন স্যার তাঁর ল্যাপটপে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অনুশীলনের ভিডিও দেখাতেন। ভিডিওতে মাশরাফি ভাই ও সাকিব ভাইদের দেখতাম আর ভাবতাম, আমি কবে ওনাদের জায়গায় থাকব!’

স্বপ্নের সেই চারাগাছ একদিন ঠিকই বড় হয়ে তা ফুলে ফুলে সুশোভিতও হলো। মুস্তাফিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন মঞ্চে আবির্ভূত হলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য অপার রহস্যের আধার হয়েও। ২০১৫-র জুনে দেশের মাটিতে অভিষেক ওয়ানডে সিরিজেই ‘কাটার’ নামের মারণাস্ত্রে ভারতকে এমন কাবু করলেন যে প্রচারের সবটুকু আলোও কেড়ে নিলেন এই বাঁহাতি পেসার। এরপর ‘কাটার মাস্টার’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি মাতিয়েছেন আইপিএলও। তবে সময় সব সময় এক রকম যায় না। যায়নি তাঁরও। পারফরম্যান্সে ভাটার টান এসেছে। বিশেষ করে কাঁধের অস্ত্রোপচারের পর নিজেকে ফিরে পেতে লড়েছেনও অনেক। সাফল্যের সঙ্গে ব্যর্থতাও হাত ধরাধরি করে চলছে সেই থেকে।

একই সঙ্গে এই আলোচনাও নিয়মিত যে মুস্তাফিজ আর আগের সেই মুস্তাফিজ আছেন কি না! ‘অস্ত্রোপচারের পর আগের সেই উজ্জ্বলতায় মুস্তাফিজকে আমরা এখনো পাইনি’—বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ যখন বলেন এই কথা, তখন তাঁকে নিয়ে আলোচনা সরগরম হয় আরো। মুস্তাফিজ নিজেও হাসতে হাসতে বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের আগে যে রকম উইকেটে খেলেছি, সে রকম উইকেট এখন না পেলে কী করব?’ তাঁর কাটার তো বেশি কার্যকর উপমহাদেশের উইকেটেই, যেখানে বল গ্রিপ করে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তেমন উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মুস্তাফিজের চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। তা ছাড়া প্রতিপক্ষের টিম অ্যানালিস্টের তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়ারও অবশিষ্ট নেই আর কিছু। এর মধ্যেও বিশ্বকাপে সফল হওয়ার চ্যালেঞ্জটি সানন্দেই নিচ্ছেন মুস্তাফিজ, ‘একদম নতুন যে খেলে, তার জন্য পারফরম করা সহজ হয়। যার বেশি দিন হয়ে যায়, তার জন্য কঠিন। এখন তো আধুনিক যুগ। অভিষেকের সময় প্রতিপক্ষের কাছে আমার কোনো ভিডিও ছিল না। এখন ভিডিও বিশ্লেষণ করে সব বের করে ফেলে। চাইলেই তাই ৫-৬টি উইকেট হয় না সহজে। দুনিয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। তবে এই কঠিনের মধ্যেই ভালো করার চ্যালেঞ্জ আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করছে।’

বদলে যাওয়া সেই দুনিয়া মাত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েই এবারের বিশ্বকাপে মুস্তাফিজ!



‘কাটার’ কাজ না করলে অন্য ডেলিভারি আছে

প্রশ্ন : অস্ত্রোপচারের পর বোলিংয়ে আপনি আগের সেই মুস্তাফিজ আছেন কি না, এমনকি জাতীয় দলের ফাস্ট বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশেরও তা নিয়ে সংশয়। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য জানতে চাই।

মুস্তাফিজুর রহমান : আমি বলব, অস্ত্রোপচারের পরে আমার এক বছরের মতো শুধু খারাপ সময় গিয়েছে। এখন আমি ঠিকই আছি। আগের সঙ্গে কোনো পার্থক্য আছে বলে তো মনে হচ্ছে না।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ের ম্যাচগুলো এই ধারণাই দিচ্ছে যে সেখানে এবার বিশ্বকাপে প্রচুর রান হবে। এতে বোলার হিসেবে আপনার চ্যালেঞ্জ কতখানি বাড়ল বলে মনে করেন?

মুস্তাফিজ : এখন সময়টাই বোলারদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জের। শুধু আইসিসির টুর্নামেন্টই নয়, সব টুর্নামেন্টেই বোলারদের কাজ কঠিন। কী আর করা যাবে? এর মধ্যেই সফল হওয়ার উপায় খুঁজতে হবে।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে যেমন উইকেট থাকবে, তাতে আপনার ‘কাটার’ খুব কার্যকরী হওয়ার কথা নয় বলেই মন্তব্য করছেন অনেকে। আপনার কী মনে হচ্ছে?

মুস্তাফিজ : ‘কাটার’ কাজ না করলে অন্য ডেলিভারিও তো আছে, নাকি?

প্রশ্ন : অবশ্যই আছে। তা বিশ্বকাপের জন্য আপনার নিজের কষা ছকটা কী?

মুস্তাফিজ : বিশেষ কোনো কিছুই না। এই ধরুন ইয়র্কার আছে। ভালো জায়গায় বোলিং করেও তো সফল হওয়া যায়। সেটিই টার্গেট আছে। শুধু আমার নয়, আমাদের সব পেস বোলারেরই। আর চেষ্টা করতে হবে ডট বল বেশি কিভাবে করা যায়। ডট বলের পারসেন্টিজ বাড়াতে হবে। আমি আমার সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব। চাইব, বিশ্বকাপটি যেন ইনজুরিমুক্ত থেকে খেলে আসতে পারি।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে আপনার বোলিংয়ে নতুন কোনো অস্ত্র যোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

মুস্তাফিজ : যেসব ডেলিভারি দিয়ে মুস্তাফিজ হয়েছে, আপাতত সেগুলোই আছে। এর বাইরে আর কিছু ভাবতে চাচ্ছি না।

প্রশ্ন : এই বিশ্বকাপে বিশেষ কী করার স্বপ্ন?

মুস্তাফিজ : মাঠে গিয়ে ঠিকমতো করতে পারলেই না স্বপ্নপূরণ হবে। যদি না পারি? তাই আগেভাগে বলার কোনো মানে খুঁজে পাই না।


ক্রিকেট জগতের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো বিশ্বকাপ। তা সেখানে বড় কিছু করলেই না লোকে বলবে যে ভালো করেছেন। সে রকম কিছুই করতে চাই। তবে আগে থেকে বলে-কয়ে নয়।


টার্নিং পয়েন্ট

জাতীয় দলের নেটে বোলিং করার সুযোগ পাওয়াই আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। ওই সুযোগ না পেলে হয়তো এত দ্রুত আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলাও হতো না এবং আজকের মুস্তাফিজও হতাম না।

 

সিক্রেট

ছিপ দিয়ে মাছ ধরার ওস্তাদ বলতে পারেন আমাকে। মাছ ধরা আমার শখও। সাতক্ষীরায় নিজের বাড়িতে গেলে শখের কাজে নেমেও পড়ি।

 

সেরা ম্যাচ

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক নাকি ঠিক পরের ম্যাচটির কথা বলব, ধন্দে পড়ে যাই। ৫ উইকেট দিয়ে শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে পেয়েছিলাম ৬ উইকেটও। ওই দুটি ম্যাচ দিয়েই তো আমার আজকের মুস্তাফিজ হওয়ার শুরু।

 

নিজের শক্তি

আমার ট্রেডমার্ক ডেলিভারি ‘কাটার’। যেটি আমি দুই ধরনের গতিতে করতে পারি। খুব জোরের ওপরও করতে পারি, আবার খুব আস্তেও।

 

দুর্বলতা

শেখার তো শেষ নেই। যা যা এখনো শিখতে পারিনি, দুর্বলতা সেগুলোই। 

 

ক্যারিয়ার লক্ষ্য

জাতীয় দলে ঢোকার পর আর দশজনের যা লক্ষ্য থাকে, আমারও তা-ই। দলে টিকে থাকা এবং যত বেশি দিন সম্ভব জাতীয় দলকে সার্ভিস দিয়ে যাওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা