kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

১৬ কোটির ১৫

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের ধারক এই ১৫ জন। তাঁদের নিয়ে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের বিশেষ ধারাবাহিক এই আয়োজনে আজ জেনে নিন তামিম ইকবালের বিস্তারিত। লিখেছেন নোমান মোহাম্মদ

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



১৬ কোটির ১৫

প্রথম দরজা খোলা মানুষটি যেন বলে, ‘ওয়েল ডান’

২০০৭ বিশ্বকাপের মাস কয়েক আগের ঘটনা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদল। ১৭ বছরের ডাকাবুকো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানের প্রতি আগ্রহ দেখায় না কোনো ক্লাব। দল খুঁজে পেতে গলদঘর্ম ওই টিনএজারের ব্যাটে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট রূপকথার এক অমর অধ্যায় লেখা হবে কদিনের মধ্যে, কে ভেবেছিলেন?

বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তামিম ইকবালের সেই হিরণ্ময় ইনিংসটি তো সবার স্মৃতির সিন্দুকে তুলে রাখা চিরকালের জন্য!

তামিমের কাছেও তা স্বপ্ন মনে হয়। নিজে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। কিন্তু সে যাত্রার আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মিডিয়া লাউঞ্জের তপ্ত দুপুরেও তাঁর তাই ঘোরলাগা কণ্ঠ, ‘আমার জীবন তিন মাসের মধ্যে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। প্রিমিয়ার লিগের দল পাই না যেখানে, সেখানে কিনা জায়গা হয় বিশ্বকাপ দলে! এরপর ভারতের বিপক্ষে ইনিংসটি জীবন পাল্টে দেয় চিরদিনের জন্য।’ তা বটে। ওই ইনিংসটি বিশ্বমঞ্চে তামিমের সামর্থ্যের ঘোষণা দেয়। সে প্রতিশ্রুতি যে ফাঁকা বুলি ছিল না, পরের এক যুগে তা প্রমাণ করেন বারংবার। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রায় সব রেকর্ডই তাই এখন বাঁহাতি ওই ব্যাটসম্যানের।

ক্রিকেটার হওয়াটা অবশ্য এক অর্থে অবধারিত ছিল তামিমের জন্য। বাবা ইকবাল খান চট্টগ্রাম ক্রীড়াঙ্গনের ডাকসাইটে নাম। চাচা আকরাম খান বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণে বড় ভাই নাফিস ইকবাল খানের গায়ে ওঠে দেশের জার্সি। চাচা আকরাম তখন বলতেন, ‘ছোটটি ওর চেয়েও ভালো খেলে।’ সে কথার সার্থকতা প্রমাণের শুরু ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

এর পর থেকে তাঁর ব্যাটে যে নিরন্তর পূর্ণিমা, তা নয়। অমাবস্যার অন্ধকারও ভর করেছে কখনো কখনো। ২০১৫ বিশ্বকাপের চেয়ে তা বেশি নয় কখনো। ‘বিশেষত আমার ক্রিকেটের মধ্যে পরিবারকে টেনে আনায় মন খারাপ থাকত খুব। এবারের বিশ্বকাপে তাই যা হবে, তাতেই খুশি থাকব। ক্রিকেট খুব মজার খেলা। আমাদের জন্য এবার যে তা কী নিয়ে অপেক্ষা করছে, কেউ জানি না’— তামিমের এ কথায় যেন বিখ্যাত হলিউডের ছবি ‘ফরেস্ট গাম্প’-এর সেই সংলাপ, ‘জীবন হচ্ছে চকোলেটের বাক্সের মতো। তা খুললে কী পাবে, কেউ জানে না।’

তামিমের অবশ্য একটি স্বপ্ন আছে। ছোট্ট স্বপ্ন আবার বড়ও, “ফরম্যাটের কারণে এবার সেমিতে খেললেই সেটিকে বড় অর্জন বলে মনে করব। আর বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের? অবশ্যই আছে। সেটি পারি আর না পারি, দেশে ফেরার পর বিমানের দরজা প্রথম খুলবে যে মানুষটি, তিনি যদি বলেন ‘ওয়েল ডান’—তাহলেই মনে করব, আমাদের বিশ্বকাপ অভিযান সার্থক।”

তিন বিশ্বকাপ খেলা তামিমের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি হয়ে আছে ২০০৭ আসরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি। এবার যদি শিরোপা জেতে বাংলাদেশ? ‘তাহলে অবশ্য সেটি ছাড়িয়ে যাবে’—হাসি ছড়িয়ে বলেন তামিম। আর নিজে চান বারবার আকাশপানে বাবাকে খুঁজতে; ২০০৩ বিশ্বকাপ চলাকালীন বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সেঞ্চুরি উদ্‌যাপনে যা বরাবর করতেন শচীন টেন্ডুলকার। ‘আমিও ফিফটি, সেঞ্চুরি করলে আকাশের দিকে তাকাই। প্রথমে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিই; এরপর বাবাকে। কোথাও থেকে তিনি অবশ্যই আমাকে দেখছেন। তাঁর জন্য হলেও নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব।’

তাতে যদি বারবার আকাশপানে তাকানোর উপলক্ষ তৈরি হয় তামিমের, বাংলাদেশ দলও তো তাহলে আকাশ ছোঁয়ার পথে এগিয়ে যাবে অনেকখানি!



সবার বিপক্ষেই রান করা চ্যালেঞ্জিং

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার প্রথম স্মৃতি কী?

তামিম ইকবাল : ১৯৯৬ বিশ্বকাপ। এর আগেও আমি ক্রিকেট খেলতাম কিন্তু নিয়ম-কানুন তেমন বুঝতাম না। সে বিশ্বকাপে নাফিস ইকবাল ভাইয়া আমাকে ধরে ধরে নিয়ম শেখান। আমি তখন শ্রীলঙ্কার ঘোর সমর্থক। সেটি পরে ওরা ট্রফি জিতেছে বলে বলছি না। জয়াসুরিয়া-কালুভিথারানার ব্যাটিং খুব ভালো লাগত।

প্রশ্ন : নিজে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন ২০০৭ সালে। ডাকাবুকো ব্যাটিংয়ের সে তামিমকে অনেকে মিস করেন; আপনি করেন না?

তামিম : না। কারণ তখন আমি কেবল দুটি শট খেলতে পারতাম—কাভার ড্রাইভ ও স্টেপ আউট করে সোজা মারা। যেদিন লেগে যেত, সেদিন হয়তো দেখতে সুন্দর লাগত। কিন্তু ওভাবে খেলা চালিয়ে গেলে আমি এত দিন জাতীয় দলে খেলতে পারতাম না।

প্রশ্ন : এবারের বিশ্বকাপে কোন দলের বিপক্ষে রান করা চ্যালেঞ্জিং?

তামিম : খেয়াল করে দেখবেন, এবারের বিশ্বকাপের বাকি সব দলের বোলিং আক্রমণ খুব ভালো। সবার বিপক্ষেই রান করা তাই চ্যালেঞ্জিং। তবু যদি দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে রান করতে পারি, সেটি ভবিষ্যতের জন্য খুব অনুপ্রেরণা দেবে।

প্রশ্ন : আর কোন বোলারদের বিপক্ষে রান করা তৃপ্তি দেবে?

তামিম : রাবাদা, বুমরাহ, শাহেনশাহ আফ্রিদি, হাসান আলী, বোল্ট, সাউদি।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে অন্য কারো এমন ইনিংস রয়েছে, যেটির মুগ্ধতা এখনো চোখে লেগে আছে?

তামিম : ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আশরাফুল ভাইয়ের ইনিংসটি। আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা ইনিংস সেটি।

প্রশ্ন : ২০২৩ বিশ্বকাপে নিজেকে ও দলকে কোথায় দেখতে চান?

তামিম : নিজেকে খুব ফিট অবস্থায় দেখতে চাই। আর যেন পেছন ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, আগের চার বছর খুব ভালো কেটেছে। দল হিসেবে বাংলাদেশকে তো এখন আন্ডারডগ বলা হচ্ছে। আমি চাই, ২০২৩ সালে বাংলাদেশকে যেন ফেভারিট বলা হয়।


ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে তা অর্জন করতে না পারলে খারাপ লাগবে। শুধু চাই, নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে যেন খেলতে পারি।


তামিম ইকবাল

পুরো নাম

তামিম ইকবাল খান

ডাকনাম

তামিম

জন্ম তারিখ

২০ মার্চ ১৯৮৯

জন্মস্থান

চট্টগ্রাম

বাবা

মোহাম্মদ ইকবাল খান

মা

নুসরাত জাহান

ভাই-বোন

নাফিস ইকবাল খান

উরুসা খান

স্ত্রী

আয়েশা সিদ্দিকা

সন্তান

মোহাম্মদ আরহাম ইকবাল

উচ্চতা

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি

ওজন

৮২ কেজি

বর্তমান বাসস্থান

বনানী ডিওএইচএস

জার্সি নম্বর

২৮

গাড়ি

টয়োটা প্রাডো

স্পন্সর

অনেক; তাই না বলি

পড়াশোনা

‘এ’ লেভেল পাস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা