kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

সব ম্যাচেই তিন শ পার হওয়ার চ্যালেঞ্জ

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সব ম্যাচেই তিন শ পার হওয়ার চ্যালেঞ্জ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এবারের বিশ্বকাপ যে রানের বিস্ফোরণ হবে, সেটি অনুমেয়। তাই বলে এমন! ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজটি তো সবাইকে ভাবাচ্ছে নতুন করে। টানা তিন ম্যাচে ৩৪০ কিংবা এর চেয়ে বেশি রান করে যে পরাজিত দলে পাকিস্তান! তাহলে ২০১৯ বিশ্বকাপের ‘পার স্কোর’ হবে কত?

তিন শর কম কিছুতেই নয়। টুর্নামেন্টের প্রথমভাগে সেটিও যে যথেষ্ট প্রমাণিত না হতে পারে, সরফরাজ আহমেদের দলের সাম্প্রতিক দুর্দশায় তারই ইঙ্গিত। বাংলাদেশের জন্যও সেটি ঈশান কোণের মেঘের মতো। ৩৪০-এর বেশি করে টানা তিন ম্যাচে হারে যেখানে বছর দুয়েক আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী দল, সেখানে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তো তাদের ওয়ানডে ইতিহাসেই কখনো অত রান করতে পারেনি। তাহলে?

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের তিন শ পেরোনো ইনিংস মোটে ১৩টি। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাকি ৯ দলের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি দেখে নেওয়া যাক। সবচেয়ে বেশি তিন শ পেরোনো ইনিংস ভারতের—১০৬টি। বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে বাকিরা,পিছিয়ে শুধু আফগানিস্তান। তাদের তিন শ পেরোনো ইনিংস মোটে চারটি। তবে বাংলাদেশের ৩৭১ ওয়ানডের বিপরীতে আফগানদের অভিজ্ঞতা যেখানে মোটে ১১৭ ম্যাচের—তখন ওই অর্জনও ফেলনা মনে হয় না।

তিন শর ওপর রান করা ১৩ ম্যাচের সবগুলোতে যে বাংলাদেশ জিতেছে, এমনও নয়। ২০১৪ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন উইকেটে ৩২৬ রান করে জয় নিশ্চিত বলে ভেবেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। কিন্তু শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় তিন উইকেটে। আরেক হার ইংল্যান্ডের মাটিতে; ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে। তামিমের সেঞ্চুরিতে ছয় উইকেটে ৩০৫ রান তোলা বাংলাদেশের ইনিংস প্রতিপক্ষ টপকে যায় অনায়াসে; আট উইকেট এবং ১৬ বল হাতে রেখে।

তিন শর ওপর স্কোর গড়া বাকি ১১ ম্যাচে জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে বগুড়ায় প্রথম অমন কীর্তি, ৭ উইকেটে ৩০১ রান জেতে ১৩১ রানে। ২০০৮ সালে এশিয়া কাপে লাহোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আট উইকেটে ৩০০ করে জেতে ৯৬ রানে। পরের বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে অমন বীরত্ব। বুলাওয়ের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরিতে আট উইকেটে ৩২০ রান করে জেতে ৪৯ রানে। চতুর্থ ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের ৩১২ রান টপকে যায় তামিমের চোখ-ধাঁধানো ১৫৪ রানের ইনিংসে; চার উইকেট হাতে রেখে। রান তাড়া করে অমন আরেক স্মরণীয় জয় ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। কিউইদের ৩০৭ রান টপকে চার উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শেষ ওভারে।

২০১৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন শর ওপর রান করেও জিততে পারেনি। পরের বছর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের ৩১৮ রান পেরিয়ে যায় ঠিকই। বিশ্বকাপের পর পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও তাই। ঢাকায় স্বাগতিকদের ৩০৭ রানের জবাবে সফরকারীরা অল আউট ২২৮ রানে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে না হয় পারেনি। তবে এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরে ডাম্বুলার প্রথম ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেটে ৩২৪ রান করে জেতে ৯০ রানে। এ ম্যাচেও সেঞ্চুরি তামিমের।

গত বছর তিন শ পেরোনো দুটি দলীয় ইনিংসেও সর্বোচ্চ স্কোর সেই ওপেনারের। তাঁর ৮৪ রানে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সাত উইকেটে ৩২০ রান তোলে বাংলাদেশ; পরবর্তীতে জেতে ১৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া তৃতীয় ওয়ানডেতে তামিমের সেঞ্চুরিতে ছয় উইকেটে ৩০১ রান মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের। প্রতিপক্ষকে ২৮৩ রানে আটকে রেখে জেতে ১৮ রানে।

স্কোর তিন শর ওপর নিয়ে গেলেই এবারের বিশ্বকাপে জয়ের নিশ্চয়তা নয় কিছুতেই। তবু জয়ের জন্য ন্যূনতম লক্ষ্য এর চেয়ে কম রাখার উপায় নেই। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসেই মোটে ১৩ বার তিন শ পেরোনো স্কোর বাংলাদেশের। সেখানে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ৯ ম্যাচেই অমন চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জটা কঠিন বৈকি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা