kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

চাপ সামলানোটাই কোহলির চ্যালেঞ্জ

কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া নয় বরং চাপের মুখে পারফরম করতে পারাটাই হবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাপ সামলানোটাই কোহলির চ্যালেঞ্জ

একেকটি করে বিশ্বকাপ আসে আর ভারতীয় গণমাধ্যমে বিশ্বকাপকেন্দ্রিক নানা বিজ্ঞাপন শিরোপা জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করে ক্রিকেট দলের ওপর একটা অদৃশ্য চাপ তৈরি করে। এ চেষ্টা অবশ্য চলছে সেই ১৯৯৬ সাল থেকেই, আকাশ সংস্কৃতি যখন একটু একটু করে উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। আর এই ২০১৯ সালে এসে ক্রিকেট আর টিভির পর্দায় আটকে নেই, ঢুকে গেছে হাতের মুঠোয় রাখা স্মার্টফোনে। দেশ-কাল সীমানার ভেদাভেদ ঘুচিয়ে দিয়েছে অন্তর্জাল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে একচক্ষু দানব। এ রকম সময়ে এসে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে, ক্রিকেটবিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশের অধিনায়ক হয়ে মাঠে নামলে, চাপ সামলানোর পরীক্ষাটাই তো দিতে হবে সবার আগে। ইংল্যান্ডের ফ্লাইটে ওঠার আগে বিরাট কোহলি বলে গেলেন সেই কথাই, বিশ্বকাপের মঞ্চে চাপ সামলে পারফরম করতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ভারত দ্বিতীয়, ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ের প্রথম দুজন ও বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ নামটিসহ শীর্ষ দশে আরো দুজনসহ মোট তিনজন ভারতীয়। অর্থাৎ সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ নেই। শুধু চাপের মুখে নির্দিষ্ট দিনে জ্বলে উঠতে পারা আর না পারাটাই গড়ে দেবে ব্যবধান। কোহলি মনে করেন, ‘কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া নয় বরং চাপের মুখে পারফরম করতে পারাটাই হবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সব বোলার সতেজ, কারো ক্লান্তির ধকল নেই। আমাদের একটাই প্রত্যাশা, ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বকাপে যাচ্ছি। আমাদের সব ক্রিকেটারই আইপিএলে দারুণ ছন্দে ছিল।’ বিশ্বকাপটা হতে যাচ্ছে সুদীর্ঘ, এতে করে উৎসাহে একটা সময় ভাটা পড়বে কি না—জানতে চাইলে ফুটবলভক্ত কোহলির উত্তর, ‘বড় বড় ফুটবল দলগুলো যদি তিন-চার মাস একাগ্রতাটা ধরে রাখতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? আমাদের নিজেদের দিকে মনোসংযোগ রাখতে হবে। আমরা যদি অন্য দল নিয়ে ভাবতে থাকি, তাহলে নিজেদের মনোসংযোগ হারিয়ে ফেলব। আমরা আমাদের শক্তির দিকে মনোযোগ দেব, সেটাই সাহায্য করবে।’ ধারণা করা হচ্ছে, ইংল্যান্ডের উইকেট হবে রানপ্রসবা। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মে রান উৎসবেই মেতে উঠতে চান কোহলি, ‘আমরা আশা করছি অনেক রানের খেলা হবে। ইংল্যান্ডে গ্রীষ্মকালে কন্ডিশন খুব ভালো থাকবে।’ তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন কোহলি, ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ২০১৯ বিশ্বকাপের ফরম্যাটটা হচ্ছে আলাদা। সব দলের সঙ্গে সব দলের খেলার এই ফরম্যাটটাই বড় চ্যালেঞ্জ কোহলির কাছে, ‘যে তিনটা বিশ্বকাপের অংশ হয়েছি, তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে কঠিন মনে হচ্ছে, ফরম্যাটের কারণে। এটা একদমই আলাদা একটা চ্যালেঞ্জ, যেটা সব দলকেই মানিয়ে নিতে হবে।’

দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সব শেষ ওয়ানডে সিরিজটা ভারত হেরেছে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে। গত বছর ইংল্যান্ড সফরে গিয়েও প্রথম ওয়ানডেটা জিতে পরের দুটো হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল কোহলির দল। এ অভিজ্ঞতা থেকেই কোহলি বলছেন, ‘আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। প্রতিটা দিনই আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে, শতভাগ দিয়ে।’ এতে করে ক্লান্তির ধকল কতটা পড়বে ক্রিকেটারদের শরীরে তার উত্তরে কিং কোহলির উত্তর, ‘দুটো ম্যাচের মাঝে বেশ ভালো বিরতি আছে। আমার মনে হয় না খেলোয়াড়রা দ্রুত নিজেদের ফুরিয়ে ফেলবে। শুরুতেই কঠিন ম্যাচগুলো খেলায় একদিকে ভালোই হবে, তাতে করে শুরু থেকেই আমরা চনমনে থাকব।’ পিটিআই

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা