kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

তারুণ্যের শক্তিতেই সমাধান দেখছেন রোডস

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তারুণ্যের শক্তিতেই সমাধান দেখছেন রোডস

এশিয়া কাপের ফাইনালে শতরান করেছিলেন লিটন দাস। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ম্যাচ জেতানো হাফসেঞ্চুরি মোসাদ্দেক হোসেনের। দুজনের কেউই জাতীয় দলে নিয়মিত মুখ নন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁদের পথচলাও খুব বেশি দিনের নয়। অথচ বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ সতীর্থদের ছাপিয়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স এ দুই তরুণেরই। লিটন বা মোসাদ্দেক এখানে শুধুই উদাহরণ মাত্র। বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দলগুলোর একটি। দলটিতে এমন কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা এই নিয়ে চতুর্থ বা পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলছেন। গত প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে খেলছেন এমন এক দল ক্রিকেটার আছে শুধু বাংলাদেশ দলেই, অন্য দলগুলোতে যেখানে ২০০৭ বিশ্বকাপে খেলা কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন, সেখানে বাংলাদেশ দলে ২০০৩ বিশ্বকাপে খেলা মাশরাফি বিন মর্তুজাও আছেন! অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ এ দলটিতেও যখন মোক্ষম সময়ে তরুণদের জ্বলে ওঠাটাকেই বাংলাদেশের বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন কোচ স্টিভ রোডস।

চোটের কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলা হয়নি সাকিব আল হাসানের। ২৪ ওভারে ২১০ রান তাড়া করার কঠিন লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে মাঝপথেই বিদায় নিয়েছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহর মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরা। তবে অসম্ভবকে ঠিকই সম্ভব করেছেন সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেকের মতো তরুণরা। শেষ ওভারে তালগোল পাকিয়ে হারার অতীত রেকর্ডটা মাথায় রেখেই মোসাদ্দেক চেয়েছেন শেষ ওভারের চাপের মুখে পড়ার আগেই খেলা শেষ করে আনতে, এই পরিণত ভাবনাচিন্তাগুলোই উন্নতির লক্ষণ বলে মনে করছেন রোডস, ‘দু-তিনজন খেলোয়াড় আছে, যারা বিশেষ কয়েকটা ইনিংস খেলেছে। মোসাদ্দেকের কথাই ধরুন না, সে তো এখন অন্যদের চাপের মুখে রাখবে। সে হয়তো পরের ম্যাচে খেলবে না, দলটার গভীরতাটাই এমন। আর এমনটাই যদি পরিস্থিতি হয়, তাহলে সেটা দলের জন্য তো অত্যন্ত দারুণ! আমাদের দলে যদি গভীরতা থাকে, তাহলে পঞ্চপাণ্ডবের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে যাবে।’ রোডস বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা আগে তৈরি হতে হবে দলের মধ্যে, একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে, ‘এর মানে হচ্ছে, বাংলাদেশ দলটা ভেতর থেকেই শক্তিশালী। আর এটাই আমরা চাই। দলের ভেতর গভীরতা আসুক। তাহলেই লোকে পঞ্চপাণ্ডব নিয়ে কথা কম বলতে শুরু করবে।’

সৌম্য সরকার সদ্যঃসমাপ্ত ত্রিদেশীয় সিরিজে করেছেন তিনটি হাফসেঞ্চুরি। মাঝে লম্বা সময় খারাপ ফর্মের বৃত্তে আটকে থাকলেও আবারও রানের ভাষায় কথা বলছে সৌম্যর ব্যাট। রোডস মনে করছেন, প্রিমিয়ার লিগের শেষ দুটো ম্যাচে সেঞ্চুরি আর ডাবল সেঞ্চুরি করে পাওয়া আত্মবিশ্বাসটাই সৌম্যকে ফিরিয়েছে রানে, ‘ঢাকা লিগে সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি করার পর তার তো রীতিমতো পুনর্জন্ম হয়েছে! অথচ মাঝের সময়টায় তাকে লোকজন বেশ গালমন্দও করেছে। তাকে এখন চমৎকার ফর্মে ফিরতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আশা করছি লোকে এখন তার পেছনে কথা বলাটা বন্ধ করবে, কারণ সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। আমরা তাকে সমর্থন দিই এবং তার ওপর আস্থা রাখি। তবে সবাই সব সময় এমনটা করে না।’

সৌম্য, মোসাদ্দেকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোচ। ভরসা রাখেন মুস্তাফিজুর রহমানের কাটারে, সাব্বির রহমানের ব্যাটের উন্মত্ততায় কিংবা আবু জায়েদ রাহির সুইংয়ের ছোবলে। পঞ্চপাণ্ডব তো অনেক দিন ধরেই খেলছেন। তবে জয় এসেছে তখনই, যখন অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলবন্ধন হয়েছে তারুণ্যের। সমর্থককুল যতই পঞ্চপাণ্ডবের ওপর ভরসা করে পাঁচালি গাইতে থাকুক না কেন, রোডস জানেন ক্রিকেটের মহারণে জিততে হলে পাঁচ পাণ্ডবের সঙ্গে আরো সেনানী লাগবে। মোসাদ্দেক, সৌম্য, লিটনরা সেই সেনাদলেরই অংশ। আইসিসি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা