kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় অনেক ইংল্যান্ডের

বিশ্বকাপে মাঠে নামতে তর সইছে না বেন স্টোকসের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর বিশ্বকাপেও শিরোপা জিততে মুখিয়ে ইংলিশ এই অলরাউন্ডার। তবে থাকছেন সতর্কও। কারণ গত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দারুণ খেলে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারতে হয়েছিল কার্ডিফের অনভ্যস্ত উইকেটে। ‘আইএএনএস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইপিএলের সবচেয়ে দামি এই বিদেশি ক্রিকেটার জানালেন গত কয়েক বছরে কঠিন পিচে মানিয়ে নেওয়ার কথা।

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় অনেক ইংল্যান্ডের

প্রশ্ন : অভিনন্দন, পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ খেলে সিরিজ জিতলেন ৪-০ ব্যবধানে...

বেন স্টোকস : আমাদের এই দলটা গত কয়েক বছর দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে পেয়েছি ৪-০ ব্যবধানের জয়। প্রতিটি ম্যাচে ৩৫০ রানের মতো স্কোর করেছি। ছন্দে আছে সবাই, বিশ্বকাপের আগে এটা স্বস্তির আমাদের জন্য।

প্রশ্ন : এবার ইংল্যান্ডকে সবাই হট ফেভারিট বলছে। আপনারা কী ভাবছেন?

স্টোকস : শেষ তিন-চার বছরে যেমন খেলছি তাতে আমার মনে হয় ফেভারিট উপাধিটা অর্জন করেছি আমরা। ইংল্যান্ড ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বরে। র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকলে যেকোনো টুর্নামেন্টে ফেভারিট বলা হবে তাদেরই। ভারত বা অস্ট্রেলিয়া এক নম্বরে থাকলে ওদের বলা হতো ফেভারিট, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা মানে কোনো টুর্নামেন্ট জেতার নিশ্চয়তা নয়, আমরা এটা জানি।

প্রশ্ন : চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আপনাদের সবাই ফেভারিট ধরেছিল, কিন্তু বিদায় নিয়েছিলেন সেমিফাইনাল থেকে। এ জন্যই কি বাড়তি সতর্ক সবাই?

স্টোকস : ঠিক তাই। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দাপটে খেলছিলাম আমরা। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালটা এমন এক উইকেটে হলো যেখানে খেলে আমরা অভ্যস্ত নই। কার্ডিফের ধীরগতির উইকেটে পাকিস্তান বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ছিল। এ জন্য গুটিয়ে যাই মাত্র ২১১ রানে। অথচ গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০০ প্লাস করেছি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমি সেঞ্চুরি করেছিলাম, বৃষ্টিতেও জিতেছি দাপটে।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে শেষ দিকে উইকেটগুলো ধীরগতির হয়ে যাবে কার্ডিফের মতো...

স্টোকস : এটা জেনেই আমরা কঠিন পিচে অনুশীলন করেছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে এ ধরনের ধীরগতির উইকেটে খেলে ৩৪০ তাড়া করে জিতেছি। সব ধরনের উইকেট স্বচ্ছন্দ আমরা।

প্রশ্ন : অন্য দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কার ব্যাটিং দেখতে মুখিয়ে আছেন?

স্টোকস : স্টিভেন স্মিথ ও বিরাট কোহলি। দুজনই অসাধারণ ব্যাটসম্যান। তাঁদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আছে আমার। ওরা এমনভাবে ব্যাট করে যাতে অন্যদের কাজ সহজ হয়ে যায়। দুজনেরই বড় ভক্ত আমি। ওদের ব্যাটিংয়ের ধরন আলাদা কিন্তু কার্যকারিতায় দুজনই এক। আমি ক্রিকেট ভালোবাসি আর পছন্দ করি স্মিথ, ওয়ার্নারের ব্যাটিং।

প্রশ্ন : আপনাদের দলের এ ধরনের কেউ আছেন, যিনি স্মিথ-কোহলিদের মতো গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য?

স্টোকস : আমরা কারো একার ওপর নির্ভর করা দল নই। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে শক্তির জায়গা এটা। দলের যে কেউ যেকোনো ম্যাচ জেতাতে পারে। মঈন আলীর কথা ভাবুন। ১০টি ওভার করে দেয় খুব কম রান দিয়ে। এরপর ওপেনিং থেকে শুরু করে ১০ নম্বর পর্যন্ত যেকোনো পজিশনে করে কার্যকরী ব্যাটিং। দলের জয়ে অবদান রাখতে পারার মতো একাধিক খেলোয়াড় থাকাটা বিশেষ কিছু।

প্রশ্ন : এর পরও আলাদা করে কোনো ব্যাটসম্যানের নাম জানতে চাইলে কার কথা বলবেন?

স্টোকস : জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জশ বাটলার, এইউন মরগান, জো রুট—সবাই ভীষণ ধারাবাহিক। বাটলার ছন্দে থাকলে কাঁদিয়ে ছাড়ে বোলারদের। আমার নিজের কথাও বলতে পারেন। তবে আলাদা করে কারো নাম নিলে মরগানের কথা বলব। মরগানের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখা অসাধারণ। বিশ্বকাপে মরগান নিজেকে মেলে ধরতে পারলে অনেকখানি এগিয়ে যাব আমরা।

প্রশ্ন : নিজেদের দেশে বিশ্বকাপ। শিরোপা জিতে দেশের মানুষকে আনন্দ দিতে চাইবেন নিশ্চয়ই?

স্টোকস : আমার কিন্তু তর সইছে না! এই টুর্নামেন্টটা জিততে সবাই মুখিয়ে। আইপিএল চলার সময়, স্মিথের কাছে নিজেদের দেশে হওয়া গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা জানতে চাইছিলাম। ওর কথা শুনে রোমাঞ্চিত হয়ে পড়ি আরো। বিশ্বকাপটা শুরু হবে কবে?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা