kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

১৬ কোটির ১৫

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের ধারক এই ১৫ জন। তাঁদের নিয়ে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের বিশেষ ধারাবাহিক এই আয়োজনে আজ জেনে নিন সৌম্য সরকারের বিস্তারিত। লিখেছেন মাসুদ পারভেজ

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



১৬ কোটির ১৫

নিজেকে নিজের মতো রেখেই আরেক বিশ্বকাপে

নিজেকে হারিয়ে খোঁজার শুরুটা তখনো তাঁর হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই সময়টায় সৌম্য সরকার মধুচন্দ্রিমাই যেন পার করে আসছিলেন। একের পর এক ম্যাচ জেতানো ইনিংসে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের একেকটি সাফল্যগাথায় অবদান রেখে চলছিলেন। ২০১৫-র এপ্রিলে তাঁর প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির দিন দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। কয়েক মাস পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতল সেই সৌম্যর ব্যাটেই। পরের দুই ম্যাচেই যে তাঁর ব্যাটে অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ রানের ইনিংস।

খুব স্বাভাবিকভাবেই তখন চারদিকে কেবলই সৌম্য-বন্দনা। প্রশংসার জোয়ারে ভেসে যেতে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে নিয়ে তবু ভয় ছিল জাতীয় দলের অন্যতম সিনিয়র এক সদস্যের। খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় ধারার বিপরীতে গিয়েই এই তরুণকে নিয়ে এক আড্ডায় বলে বসলেন, ‘‘ওকে নিয়ে ভয়টা এই জায়গাতেই যে ওর কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই। নেই বলেই খারাপ সময় এলে এর থেকে বেরিয়ে আসাও ওর পক্ষে কঠিন হবে।’’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তখন সবে আট মাস পার করা সৌম্যর ক্ষেত্রে ওই সিনিয়র ক্রিকেটারের বিশ্লেষণ একদিন ঠিক ঠিক মিলেও গেল। সৌম্য নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকলেন তো খুঁজতেই থাকলেন, ফিরে পাওয়ার লক্ষণও ছিল না একসময়। দল থেকে বাদ পড়লেন। ঘটনাচক্রে কখনো কখনো ফিরলেনও কিন্তু আগের সেই প্রভাববিস্তারী সৌম্যর ছায়াই হয়ে থাকলেন বেশির ভাগ সময়। সেই সূত্রে ২০১৯ বিশ্বকাপ দলেও তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাওয়ার মতো অবস্থা।

অথচ ২০১৪-র প্রিমিয়ার লিগ পারফরম্যান্স দিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে ২০১৫-র বিশ্বকাপ দলে ঢুকে যাওয়া সৌম্য বিশ্বমঞ্চেও ভূমিকা রেখেছেন। এমন বড় কিছু করেননি কিন্তু অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের উইকেটে শট খেলার সাহস দেখিয়ে অন্য ব্যাটসম্যানদের মাঝেও করেছেন বিশ্বাসের সঞ্চার। এবার দ্বিতীয় বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে নিজেকে ফিরেও পেলেন আরেকটি প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই। আবাহনীর হয়ে শেষ দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। নিজের সহজাত ব্যাটিংয়েই বাজে সময় পার করতে চেয়ে সফল সৌম্য মানলেনও যে তাঁর কোনো ‘প্ল্যান বি’ ছিল না। স্বার্থপরতার অন্ধকারমুক্ত থাকতে চাওয়াই সেটি না থাকার যুক্তি, ‘‘সবারই ‘প্ল্যান এ’ কিংবা ‘বি’ থাকে। অনেকে আছে বাজে সময়ের মধ্যে গেলে নিজের খেলার ধরন বদলায়। স্বার্থপর হয়ে যায়। আমি সেটি করিনি। নিজের প্রক্রিয়ায় ছিলাম। নিজের মতো করে ব্যাটিং করেই বাজে সময় থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছি। হতে পারে একেক জনের প্ল্যান একেক রকম। আমার ছিল আমি যে রকম সহজাত খেলা খেলি, সেভাবেই খেলব।’’ সৌম্যর নিজেকে অবিকল নিজের মধ্যে রাখার সুফল আয়ারল্যান্ডে জেতা ত্রিদেশীয় সিরিজেই পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সময়টা বিশ্বকাপেও আসুক না!

 

লক্ষ্য পূরণ করেই না হয় বলব

প্রশ্ন : প্রথম বিশ্বকাপ দেখার স্মৃতি কোনটি?

সৌম্য সরকার : ২০০৭-র বিশ্বকাপ। আমি তখন ক্লাস এইটে পড়ি। খুব বেশি মনে আছে ভারতকে হারানো সেই ম্যাচটির কথা।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন প্রথম দেখেন কবে?

সৌম্য : ক্রিকেট খেলার শুরুর পর থেকেই তো সেই স্বপ্ন দেখে আসছিলাম। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর থেকে বোধ হয় আরো বেশি দেখেছি। তবে এত আগে যে বিশ্বকাপ খেলে ফেলব, তা ভাবিনি অবশ্যই।

প্রশ্ন : গত বিশ্বকাপের আগে একটিই মাত্র ওয়ানডে খেলেছিলেন। বলা যেতে পারে আপনার অভিষেক একরকম বিশ্বকাপ দিয়েই।

সৌম্য : তা বলা যায়। তবে ওই বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নও দেখিনি আমি। কিন্তু কী করে যে কী হয়ে গেল! প্রিমিয়ার লিগে খুব ভালো করে ফেললাম। এর ভিত্তিতেই সুযোগ হয়ে গেল। যদিও আগের বিশ্বকাপে বড় কোনো ইনিংস খেলতে না পারার দুঃখ আছে আমার। এবার সেটি পুষিয়ে দিতে চাই।

প্রশ্ন : পুষিয়ে দিতে গেলে কেমন ইনিংস খেলার স্বপ্ন দেখেন?

সৌম্য : আমার যে সামর্থ্য, ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারলে বড় কিছুই করতে পারব। যা-ই করি, সবচেয়ে বড় কথা হলো দল তাতে লাভবান হবে।

প্রশ্ন : ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছেন নিশ্চয়ই?

সৌম্য : তা করেছি। সেঞ্চুরি করার লক্ষ্য আছে। সেই সঙ্গে আছে আরো কিছু লক্ষ্যও। তবে সেগুলো আপাতত মনের ভেতরেই রাখতে চাইছি। লক্ষ্য পূরণ হলেই না হয় সেগুলোর কথা ঘটা করে বলব।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলের পক্ষে এ বিশ্বকাপে কত দূর যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন?

সৌম্য : আমরা এখন যেমন খেলছি, তাতে অবশ্যই বহুদূর যাওয়া সম্ভব। সে জন্য দল হিসেবেও পারফরম করতে হবে আমাদের।

 

টার্নিং পয়েন্ট

২০১৪-র প্রিমিয়ার লিগ। স্বপ্ন তো অবশ্যই ছিল একদিন বিশ্বকাপ খেলব। কিন্তু তাই বলে ওইবারই স্বপ্ন দেখিনি। 

 

সিক্রেট

নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলে কাজ করতে পছন্দ করি। তাই বাজে সময়ে কঠোর পরিশ্রম করলে চেষ্টা করি কেউ যেন তা না দেখে।

 

সেরা ম্যাচ

অবশ্যই গত বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড ম্যাচ। এর পরের ম্যাচেই আমি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করি। আলাদাভাবে তাই দাগ কেটে আছে ওই ম্যাচটিও।

 

নিজের শক্তি

ব্যাটিংয়ের দিক থেকে বললে, ভালো বলেও স্কোর করতে পারি।

 

দুর্বলতা

আমার আউট হওয়ার ধরন নিজের কাছেই দৃষ্টিকটু লাগে। আমার নিজেরই খারাপ লাগে। নিজেকে বুঝ দিতে পারি না। ভালো বলে স্কোর যেমন করতে পারি, তেমনি খারাপ বলে আউটও হই।

 

ক্যারিয়ার লক্ষ্য

ঈশ্বর সুস্থ রাখলে নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। এবার যেমন ভালো করতে চাই, তেমনি লক্ষ্য আছে পরের বিশ্বকাপটিও যেন নিজের করে নিতে পারি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা