kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

শান্ত গেইল উদ্দীপ্ত কোহলি

গত বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। এবারও হতে পারতেন দলের সেরা বাজি। কিন্তু বিপিএল-আইপিএল খেললেও হঠাৎ করে অবসর নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। বিশ্বকাপের আগে ইউটিউব চ্যানেল ‘ব্রেকফাস্ট উইথ চ্যাম্পিয়নস’-এ বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। বিরাট কোহলি, ক্রিস গেইল, মহেন্দ্র সিং ধোনি, ফাফ দু প্লেসিসদের নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি জানিয়েছেন নিজের হঠাৎ অবসর নেওয়ার কারণও

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শান্ত গেইল উদ্দীপ্ত কোহলি

প্রশ্ন : আপনার শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে ফাফ দু প্লেসিস ভীষণ মিস করবেন আপনাকে...

এবি ডি ভিলিয়ার্স : সবাই তো আজীবন খেলবে না। আমাদের আগে অনেক কিংবদন্তি খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। তাঁদের জায়গা নিয়েছি আমরা। আমার জায়গাতেও কেউ না কেউ এসে যাবে। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকান দলটা ভারসাম্যপূর্ণ। ইংল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলবে এই দল। ওরাও সেমিফাইনালের দাবিদার। ফাফ দু প্লেসিস, ইমরান তাহির, কাগিসো রাবাদারা ভালো খেলেছে আইপিএলে। প্রোটিয়াদের সৌভাগ্য ফাফ দু প্লেসিসের মতো তারকা কালপাক না হয়ে দেশের জন্য খেলছে।

প্রশ্ন : দক্ষিণ আফ্রিকার অন্য কজন তারকার মতো দু প্লেসিসেরও কি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর কথা ছিল?

ডি ভিলিয়ার্স : এটা অনেকের অজানা। আমরা দুজন শৈশবের বন্ধু। ওর তুলনায় কিছুটা আগে জাতীয় দলে অভিষেক আমার। ওর দেরি হচ্ছিল দেখে, একটা সময় দেশ ছেড়ে ইংল্যান্ডের কোন একটা কাউন্টি দলে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছিল। এ নিয়ে পরামর্শ জানতে চায় আমার। ওকে বুঝিয়ে বলি, কিছুদিন পর অবসর নিতে যাচ্ছে কজন তারকা। তখন জাতীয় দলে সুযোগ এসে যাবে। সেটাই হয়েছে।

প্রশ্ন : বিরাট কোহলির সঙ্গে অনেক দিন খেলছেন বেঙ্গালুরুতে। একটা সময় আপনাদের দলে ছিলেন আরেক হার্ড হিটার ক্রিস গেইল। কোহলি আর গেইল এখনো বিশ্বকাপে তাঁদের দলের প্রধান ভরসার নাম...

ডি ভিলিয়ার্স : দুজনই কিংবদন্তি। কোহলি সব সময় উদ্দীপ্ত থাকে, দশে দশ। সব চাই, নয়তো কিছু দরকার নেই। সবার সমস্যা দূর করতে চায় কোহলি। কদিন আগে বলেছিলাম আমি কফি খেতে পছন্দ করি। শুনে, আমার জন্য বিশাল একটা কফি মেশিন অর্ডার করেছে ও! আর গেইল সব সময় শান্ত। কেউ যদি ওর কাছ থেকে আলো কেড়ে নিতে চায় (ক্রিজের অন্য প্রান্তে ব্যাট হাতে ঝড় তোলে) তাতে কোনো সমস্যা নেই। সতীর্থের ব্যাটিং উপভোগ করে গেইল। বিশ্বকাপে এই দুজনের ব্যাটিং দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব আমি।

প্রশ্ন : আপনি দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন আইপিএলে। দক্ষিণ আফ্রিকা ডাকলে কি জাতীয় দলে ফিরবেন?

ডি ভিলিয়ার্স : ২০২৩ বিশ্বকাপে আমার বয়স হবে ৩৯ বছর। তখন যদি মহেন্দ্র সিং ধোনি খেলে (হাসতে হাসতে) তাহলে আমিও খেলব! অবশ্য তখন যদি ফর্মে থাকি। কে জানে, ছন্দে থাকব না? আসলে অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে আমাকে অবসর নিতে হয়েছিল। ক্রিকেট জীবনের শেষ তিন বছরে বলা হচ্ছিল আমি যখন খুশি খেলি আবার যখন খুশি নিজেকে গুটিয়ে নেই। বলতেই পারতাম, আমি বিশ্বকাপ খেলব। কিন্তু পুরনো সমালোচনাটা ফিরে আসত আবার। আসলে একটা পাউরুটির টুকরোর দুই দিকে তো আর মাখন লাগানো যায় না। নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, পাউরুটির কোন অংশটা শুকনো থাকবে। এই সমালোচনার হাত থেকে বাঁচতেই খেলা ছেড়ে দিলাম। তা ছাড়া আরো কিছু কারণ আছে।

প্রশ্ন : সেগুলো কী?

ডি ভিলিয়ার্স : টানা ১৫ বছর খেলেছি দেশের হয়ে। ক্লান্ত লাগছিল ভীষণ। ক্রিকেট জীবন ব্যস্ততার, যন্ত্রণারও বটে। সারাক্ষণ একজন ক্রিকেটারকে চাপে থাকতে হয়, যা ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ের ক্ষত তৈরি করে। কেউ অধিনায়ক হলে যন্ত্রণাটা বাড়ে আরো। পারিবারিক জীবনে ঝড়-ঝাপ্টা আসে। তাই যেসব কারণে হঠাৎ খেলা ছেড়ে দিলাম, এর মধ্যে পরিবার ব্যাপারটাও থাকবে।

মন্তব্য