kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

দুর্দান্ত জয়ে শিরোপার আরো কাছে কিংস

২০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্দান্ত জয়ে শিরোপার আরো কাছে কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বখতিয়ারের পজিশন বদল হয়েছে তবে খেলা বদলায়নি। আবাহনীর বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক গোলেই লিগ শিরোপা প্রায় হাতের মুঠোয় চলে গেছে বসুন্ধরা কিংসের। ১৪ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে, আর ৭ পয়েন্ট পেছনে থাকা আবাহনীর জন্য কঠিন হয়ে গেছে লিগ-মিশন।  

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগের এক দুঃসংবাদে যেন দমে গেল বসুন্ধরা কিংসের সব মনোবল। ওয়ার্ম-আপে নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চোট পেয়ে চলে যান একাদশের বাইরে। চলে যাওয়ার সময় বুঝি নিয়ে যান দলের দলের স্বাভাবিক ছন্দ। আগের ম্যাচগুলো যে ধারায় খেলেছে তারা সেই খেলা আর নেই তাদের পায়ে। নাসিরের জায়গা পূরণ করতে বখতিয়ার দুইশবেকভ সেন্ট্রাল ডিফেন্সে নেমে এলে নষ্ট হয়ে যায় কিংসের মাঝমাঠের খেলা। এই মাঝমাঠ চলে যায় পুরো আবাহনীর দখলে। আসলে চেন্নাই জয়ের সুবাদে ‘স্পিরিটেড’ আকাশি-নীলরা যে সেরা ম্যাচ খেলার ব্রত নিয়ে মাঠে নামে। আকাশি-নীলের প্রত্যেক খেলোয়াড় লড়ে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে। কারণ ম্যাচ হারলে হাত ফসকে যাবে লিগ শিরোপাও। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে, তাদের অমন দাপটের মধ্যেও বখতিয়ারের ‘মাস্টার স্ট্রোকে’ ম্যাচের কিং হয়ে থাকল বসুন্ধরা কিংস। 

শুধু কিংয়ের মতো শুরুটা হয়নি তাদের। প্রথমত ম্যাচের আগে আগে নাসিরের ইনজুরি, সঙ্গে ছিল কোনোভাবে ম্যাচ না হারার শর্ত। এই চাপে যেন গুলিয়ে যায় তাদের স্বাভাবিক খেলা। রক্ষণে বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে ওপরের খেলা আর সেভাবে হয়নি। সুযোগে আবাহনী আগ্রাসী হয়ে সর্বোচ্চ নিংড়ে দিচ্ছে এই ম্যাচ জিততে। কিন্তু সব দাপট থেমে যাচ্ছে বসুন্ধরা কিংসের রক্ষণে গিয়ে। ম্যাচ জেতার তাড়া আর হারার ভয়-জনিত আগ্রাসনের খারাপ দিকও আছে। তারই শিকার হলো আবাহনী। ৩০ মিনিটে বক্সের অনেকখানি বাইরে অকারণে এক ফাউল করে বসেন সোহেল রানা। ফাউল প্রায় ৩০ গজ দূরে আর সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য এক শটে বখতিয়ার করেন দুর্দান্ত এক গোল। অত দূর থেকে থেকে ফ্রি-কিকে গোল সাধারণত হয় না। কিন্তু দিনটি ছিল বখতিয়ার আর বসুন্ধরা কিংসের, এই কিরগিজ নিজের মাঝমাঠে অনুপস্থিতি পুষিয়ে দিয়েছেন ওই এক গোলে। তাতেই রাঙিয়ে গেল বসুন্ধরা কিংস আর পৌঁছে গেল শিরোপার আরো কাছাকাছি। ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে তারা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আগের ম্যাচগুলোতে কিংস দেখিয়েছে তাদের ফুটবল নৈপুণ্য। দেশি-বিদেশির দুর্দান্ত কম্বিনেশনে নবাগতরা ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছে। ঘরোয়া ফুটবলে একটু রঙের ছোঁয়া দিতে এনেছে কোস্টারিকান বিশ্বকাপার কলিনড্রেস, যোগ করেছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস ও কিরগিজ মিডফিল্ডার বখতিয়ারকে। দেশিদের সঙ্গে বিদেশিদের দুর্দান্ত মেলবন্ধন ঘটিয়ে অস্কার ব্রুজোন দলটিকে এক অপ্রতিরোধ্য রূপ দিয়েছেন। মাঠে চমৎকার খেলে এবং গোলের মালা গেঁথে এত দিন ফুটলের সুরভি ছড়িয়েছে। গতকাল সেই সুরভি একটু কম হয়েছে, শিরোপার স্বার্থে শুধু জয়ের খোঁজ করেছে। এই জয়সূচক গোলটি উপহার দিয়েছেন বখতিয়ার। এরপর সেই গোল ধরে রাখার খেলাটাই খেলেছে তারা।

ম্যাচে ফেরার চেষ্টা আবাহনী কম করেনি। কিন্তু চেন্নাইয়ান এফসির ম্যাচের মতো ভাগ্য যে তাদের সঙ্গে ছিল না। সেই ম্যাচে যেমন অবিশ্বাস্য তিন গোল করেছিল তারা, এই ম্যাচেও করেছে সে রকম চেষ্টা। ইনজুরি টাইমে বেলফোর্টের শট গ্রিপে নিয়ে নেন বসুন্ধরা কিংসের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান। ৫০ মিনিটে ম্যাচে সানডে দারুণ এক বল বানিয়ে দিয়েও নাবিবকে দিয়ে লক্ষ্য ভেদ করতে পারেননি। ৬১ মিনিটে সানডের শট আনিসুরের শরীরে গিয়ে ঠেকে। ৮৭ মিনিটে মামুনুলের কর্নারে বেলফোর্টের হেড ঠেকিয়ে দেয় ক্রসবার। এ রকম আরো অনেক সুযোগ ভেস্তে যায় দুর্ভাগ্যের কবলে পড়ে। তাদের এমন তোপের মধ্যে কাউন্টারে কিংসও ব্যবধান বড় করার সুযোগ পেয়েছিল। আলমগীর রানার শট ক্রসবার চুমু খেয়ে যায় আর কলিনড্রেসের শট গোললাইন থেকে রায়হান ফিরিয়ে দিয়ে আবাহনী দুর্দান্ত লড়াইয়ে ছবিটাই জারি রেখেছে শেষ পর্যন্ত। সেটাই তাদের একমাত্র পাওনা এই ম্যাচ থেকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা