kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সবার বিশ্বাস ছিল বলেই আমরা পেরেছি

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবার বিশ্বাস ছিল বলেই আমরা পেরেছি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঘরপোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়, ড্রেসিংরুমে থেকে মাশরাফি বিন মর্তুজাও ঠিক সেভাবেই খানিকটা উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন। শেষ বেলায় হাত থেকে জয় ফসকে যেতে তো কম দেখেননি! জিম্বাবুয়েতে ব্রেন্ডন টেলরের ছক্কা কিংবা বেঙ্গালুরুতে আত্মাহুতি, সবই তো দেখেছেন কাছ থেকে। তাই দুই দলের রান সমান হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো উচ্ছ্বাসই ছিল না মাশরাফির ভেতর। মাহমুদ উল্লাহর ব্যাট থেকে জয়সূচক রানটা আসার পরই ভেঙেছে আবেগের বাঁধ। সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে, প্রস্তুতি পর্বটা শেষ হলো শিরোপা জয়ে। যে জয়ে দূর করা গেছে জমাট বাঁধতে থাকা শঙ্কার মেঘমালা। ফাইনালের পরই মাশরাফি ছুটেছেন বিমানবন্দরে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে, অল্প কদিনের ছুটিতে ফিরে আসছেন দেশে। প্রিয়জনের সান্নিধ্য থেকে খুঁজে নিতে চাইছেন দীর্ঘ বিশ্বকাপে নিজেকে সচল রাখার জ্বালানি। বিমান ধরার আগে মাশরাফি জানালেন, বিশ্বকাপের আগে এই জয় উদ্দীপ্ত করবে গোটা দলকে।

আসরে শতরান হয়েছে ছয়টি। একটিও করেননি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান। তবু শিরোপাজয়ী দলটির নাম বাংলাদেশ। এটাই স্বস্তি দিচ্ছে মাশরাফিকে। কোনো এক-দুজনের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দল হিসেবে ভালো খেলেই শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ, ‘কঠিন পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জেতার এই আত্মবিশ্বাস আমাদের সামর্থ্যটা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে। আশা করছি, এরপর আমরা অনেক বেশি রানও করার বা তাড়া করে জেতার সামর্থ্য দেখাব।’ ২৪ ওভারে ২১০ রান তাড়া করার সাহসটা এসেছে দলের সবার সামর্থ্যের ওপর আস্থা থেকেই, ‘আমরা জানতাম আমাদের সামর্থ্য আছে। খুব ভালো ব্যাটিং লাইনআপ আমাদের। এই টুর্নামেন্টে সবাই খুব ফর্মে আছে। আমি একা নই, ড্রেসিংরুমে সবাই বলেছে এই রান আমরা করতে পারব। শুধু বলার জন্য বলা নয়, সবাই বিশ্বাস করেছে বলেই আমরা পেরেছি।’ দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই শিরোপা জয়, এতেই বোঝা যাচ্ছে দলের ভেতর পারফরমারের কমতি নেই। প্রথম শিরোপাটা এসেছে দুই তরুণ, সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেক হোসেনের নৈপুণ্যে। মাশরাফি মনে করেন, এটাই আসলে বাংলাদেশ দলের প্রধান শক্তি, ‘ওদের দুজনের জন্য খুব ভালো, অন্যদের জন্য উদাহরণ। বড় ম্যাচে এ রকম পারফরম্যান্স তাদের দুজনকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে, অন্যদের ভরসা দেবে। সৌম্য, লিটন, মোসাদ্দেক আরো অনেক দূর যেতে পারে। তবে তাদের নিজেদের সেই উপলব্ধিটা আসা জরুরি।’

দুই তরুণের ব্যাটেই খুলল ফাইনালের তালা। সামনে বিশ্বকাপ। লক্ষ্যটা কী জানতে চাইলে মাশরাফির উত্তর, ‘অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। আশা করছি, এ তো কেবল শুরু মাত্র; সামনে আরো শিরোপা জিতব আশা করি। অনেক দিন হয় আমরা ফাইনালে জিততে পারিনি, অবশেষে সপ্তমবারে আমরা পেরেছি।’ সেই জয়ের পথটাও মসৃণ ছিল না। একটা সময় মুশফিক ও মিঠুন দ্রুত আউট হয়ে যাওয়াতে জেঁকে বসেছিল অতীতের ভূত। তাইতো জয়ের আগে কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি তাঁর চেহারায়, ‘অনেকবার কাছে গিয়ে, ঠিক এ রকম জায়গা থেকে হেরেছি বলেই ভাবনা ছিল। অনেক শিক্ষা হয়েছে। তাই ১ ওভারে ২৫ রান আসার পরও জিতছি, এটা ধরে নিইনি। স্কোর সমান হওয়ার আগে নিশ্চিত হইনি। সমান হওয়ার পর মনে হয়েছে যাক, এবার হলো।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেশে এবং তাদের মাটিতে, দুই জায়গাতেই হারানো হয়েছে ওয়ানডেতে। সেরা খেলোয়াড়দের বাইরে রেখে গড়া ক্যারিবীয় দল আর বিশ্বকাপের বাইরে থাকা আয়ারল্যান্ড; প্রতিপক্ষ হিসেবে খুব একটা উঁচু দরের হয়তো নয়। মাশরাফি অবশ্য প্রতিপক্ষ দিয়ে সাফল্য বিচার না করে জোর দিচ্ছেন পরিস্থিতি আর প্রক্রিয়ার ওপর, ‘না খেলে চ্যাম্পিয়ন হতে চাইনি। এখানে কন্ডিশন অনেক কঠিন ছিল, ঠাণ্ডায় আইরিশরাও কাঁপত। আমরা আগের ফাইনালগুলোতে পারিনি। দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজেও প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল, আমরা পারিনি। প্রত্যাশার চেয়ে পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। এবারে ফাইনালের আগে থেকে প্রতিটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, এরপর ফাইনালে এমন রান তাড়া, সব মিলিয়ে ভালো লাগছে।’

বাংলাদেশ যখন আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে, তখন পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ খেলছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। নিয়ম করে প্রতি ম্যাচে ৩৪০ রানের বেশি করেছে পাকিস্তান, সেটা আবার অনায়াসে তাড়া করে জিতেছে ইংল্যান্ড। এই ‘ট্রেলার’ই বলে দিচ্ছে বিশ্বকাপটা হবে রান উৎসবের। বাংলাদেশ যে সেই উৎসবে স্রেফ দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না, ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা তারই পূর্বাভাস।


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা