kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

দুরন্ত মোসাদ্দেক

প্রস্তুতিটা হলো আশাজাগানিয়া

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রস্তুতিটা হলো আশাজাগানিয়া

ডাবলিনের দিন নাকি চার ঋতুর! কখন যে রূপ বদলাবে, কেউ জানে না। এমনকি আবহাওয়া অফিসও ক্ষণে ক্ষণে পূর্বাভাস বদলায়। শুক্রবার যে বৃষ্টি হবে, তা আগেই জানিয়েছিল স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর। কিন্তু গত পরশু আবার সেটি সরিয়ে রোদের আভাস। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল শুরুর ঘণ্টা চারেক পর এ রিপোর্ট লেখার সময়ও টিপটিপ বৃষ্টি কমে-বেড়ে থামার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মাঠ শুকিয়ে খেলা আবার শুরু হবে কি না, তা তখনই নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।

এসব সময়ে কী করে দুই দল? সাজঘরে বসে থেকে অলস আড্ডা তো হয়ই। তবে বৃষ্টিতে ২০.১ ওভারে ১৩১ রানে থেমে পড়া ক্যারিবীয় ইনিংসকে সামনে রেখে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের বিশ্বকাপ পাঠ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। শাই হোপ আর সুনীল অ্যামব্রিসের উদ্বোধনী জুটিতে তিনশোর্ধ্ব ইনিংসের হুমকিতে যেন কেউ মুষড়ে না পড়ে, এমন পরামর্শই দিয়েছেন তিনি। যে তিন শ নিয়ে মনে কাঁটা বাংলাদেশের, সেটি যে বিশ্বকাপে বারবার বিঁধবে!

‘ইংল্যান্ডের উইকেট যেমন তাতে তিন শ, সাড়ে তিন শ কেন চার শও হতে পারে। আপনাকে সেটা ধরে নিয়েই মাঠে নামতে হবে। এখন আপনি যদি প্রতিপক্ষের ইনিংস দেখে ঘাবড়ে যান, তাহলে ম্যাচ ওখানেই হেরে যাবেন’, খেলা বন্ধ থাকার সময় বলছিলেন মাশরাফি।

বিশ্বকাপের দেশে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের কোনো ম্যাচই মিস করছেন না মাশরাফিরা। স্বাগতিকরা তো এমন বিধ্বংসী ব্যাটিং করছে যে চার শও আর পাহাড়সম স্কোর মনে হচ্ছে না মাশরাফিদের। সব শেষ খবর মাঠে দর্শক টানতে এমন ব্যাটিং স্বর্গ তৈরি হচ্ছে ইংল্যান্ডে যে ওয়ানডেতে পাঁচ শ রানের প্রথম ইনিংসও হয়ে যেতে পারে। খবরটা চোখে পড়েছে মাশরাফির। এ খবরে তিনি বিস্মিত নয়, তবে উদ্বিগ্ন তো বটেই!

‘দেখুন, আমরা তো প্রতিদিন তিন শ রান করে অভ্যস্ত নই। আজকের (গতকাল) ম্যাচে যে উইকেট, কন্ডিশন আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং বিবেচনা করলে ৩২০ রানও চেস করে ফেলতে পারতাম। কিন্তু সাড়ে তিন শ আমাদের জন্য কঠিন’, কথা শুনে মনে হলো ২০১৯ বিশ্বকাপ আয়োজকদের মাঠে দর্শক টানার প্রক্রিয়াটা ঠিক পছন্দ নয় বাংলাদেশ অধিনায়কের।

হওয়ার কথাও নয়। সারা বছর ম্যান্দামারা উইকেটে ‘জীবন বাঁচাতে’ খেলতে হয় তামিম ইকবালদের। তাই বিশ্বের অন্য প্রান্তে যত প্রাণবন্ত উইকেটই হোক না কেন, বড় শট খেলার অভ্যাসই তো গড়ে না তাঁদের। মিরপুরের উইকেটে তুলে মারতে গেলে টাইমিংয়ের গড়বড়ে ত্রিশ গজে ক্যাচ দিয়ে ফেরা নিত্যদিনের ঘটনা। অথচ সমান বাউন্সের উইকেটে জনি বেয়ারস্টো এগিয়ে এসে অনায়াসে পাকিস্তানি পেসারদের পুল খেলেন। টিভির পর্দায় সেসব দেখে মাশরাফির মন্তব্য, ‘উইকেটের বাউন্স ওদের মুখস্থ। আরো অবাক হচ্ছি, মে মাসেও ইংলিশ উইকেটে বল একটুও সুইং করছে না।’

পাকিস্তানি পেসারদের বলে তবু গতি নামের ঝড় আছে। সেখানে বাংলাদেশের পেস বোলিং র‌্যাংকের কাউকে গ্রেস নম্বর দিয়েও ফাস্ট বোলার আখ্যা দেওয়া যায় না! অধিনায়কের নিজের বলের গতিই ১২০ এর সামান্য বেশি। শুনে কৌতুকের হাসি মাশরাফির ঠোঁটে, ‘ওটাই আমাদের অস্ত্র। ব্যাট চালিয়ে হঠাৎ দেখবে বল আসেইনি!’

এটা রসিকতা। তবে সেই ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে মাশরাফি দেখে আসছেন কোথায় কী করে যেন প্রতিপক্ষের রানের চাকা চেপে ধরে ফেলে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট। ‘এই যে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের দেখে মনে হচ্ছে বুঝি ৩৩০-৩৪০ করে ফেলবে। কিন্তু দেখবেন খেলা শুরুর পর এক-দুইটা উইকেট পড়লে ওরা হয়তো তিন শও করতে পারবে না’, মাশরাফির এ ভাবনা অলীক নয়। পুল ম্যাচে দুইবারই তো এ রকম সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। কিন্তু দুইবারই ঝুলে গেছে আড়াই শর আশপাশে। এর পরও শাই হোপরা ৩২০ করে ফেললেও তা টপকানো সম্ভব বলে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অধিনায়ক, ‘ওদের বোলিং অত ভালো নয়। তার ওপর আজ কট্রেল খেলছে না। সবচেয়ে সমসা হচ্ছে মাঠ ভেজা থাকায়। পিচ্ছিল বল গ্রিপ করাই কঠিন।’

কিন্তু ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজে যা যা ঘটেছে, তার কোথাও অনুপ্রেরণা নেই বাংলাদেশ দলের জন্য। তবে যুদ্ধে এসে তো আর গুটিয়ে থাকার মানে হয় না। গতকাল বৃষ্টিবিরতির সময় সে তাগাদাই টিমকে দিয়েছেন মাশরাফি, ‘আমরা শুরুতে গোটা দুয়েক উইকেট তুলে নিতে পারলে যেকোনো দলকেই নাগালের মধ্যে রাখতে পারব। অন্যথায় কঠিন হবে। তিন শ আমরা প্রতিদিন করি না ঠিকই, তবে এবারের ইংলিশ উইকেট আর মাঠের আকৃতি দেখে মনে হচ্ছে আমরাও ৩২০ করে ফেলতে পারব।’

এ সবই সম্ভাবনা আর প্রত্যাশার কথা। সেসব মাঠে ফুটিয়ে তোলার আগে পর্যন্ত তো বটেই। সম্ভাবনা কিংবা প্রত্যাশার যথার্থ প্রতিফলনের জন্য আবার দরকার মানসিক প্রস্তুতি কিংবা আত্মবিশ্বাস—যা-ই বলুন না কেন। থেমে থাকা ম্যাচের ফাঁকে এসংক্রান্ত অনুপ্রেরণাই দলে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছেন মাশরাফি।

এ তো আর বাংলাদেশ নয়, আয়ারল্যান্ড। তাই ইচ্ছা করলেই ড্রেসিংরুমের পেছন দিকটায় ঘুরঘুর করা যায়, বাইরে বেরোলে এর-ওর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। তা ছাড়া কাচের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ক্রিকেটারদের নড়াচড়া। একটু উঁকিঝুঁকি দিয়ে বোঝা গেল, হোপ আর অ্যামব্রিসের রান তোলার দ্রুতগামিতা দেখে বিষাদগ্রস্ত নয় বাংলাদেশ দল। মাশরাফির মতো তাঁরাও তো জানেন বিশ্বকাপে হাঁ করে আছে রানের জ্বালামুখ। সে আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার সাহসও বোধ হয় সঞ্চারিত হয়েছে তাঁদের মনে। করেছেন হোপ-অ্যামব্রিস জুটির প্রেক্ষাপটে অধিনায়কের ‘টিম-টক’।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা