kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

সাকিবের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা

না খেললে মোসাদ্দেক

সাইদুজ্জামান, ডাবলিন থেকে   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সািনরাইজার্স হায়দরাবাদের ক্যাম্প থেকে একটা ‘কিক’ নিয়ে দলে যোগ দেওয়া সাকিব আল হাসানের প্রতি দলের বাকিদের দৃষ্টিভঙ্গিতে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্ভ্রম। তিনি দলের চিয়ারলিডার কখনোই ছিলেন না। তবু দূর থেকে প্রায়ই বিস্ময়সূচক দৃষ্টিতে দেখছেন তাঁর সতীর্থরাই, আমজনতার কথা বাদই দিলাম।

ওজন কমানোর কম রকমের চটকদার বিজ্ঞাপন তো যত্রতত্র দেখাই যায়। অনেকে মেদ কমিয়ে জিমে গিয়ে সিক্স প্যাকও করছেন। কিন্তু অ্যাথলেটিসিজম আছে তাঁদের কজনের? সীমানাদড়ির কাছ থেকে সাকিব যখন ক্রমাগত বল চার্জ করছেন, বোলিংয়ে উইকেট নেওয়ার সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন রান আটকানোকে কিংবা ক্রিজে গিয়েই এক-দুটি স্ট্রোক খেলে চাপ সরিয়ে নেওয়ার বদলে থিতু হতে চাচ্ছেন, তখন মানতেই হবে যে তিনি সত্যি সত্যিই ‘ম্যান অন আ মিশন’। সানরাইজার্সে তাঁর কোচিং স্টাফের সদস্য বাংলাদেশ দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরও বলছিলেন যে কী একটা ‘স্পার্ক’ জ্বালিয়ে দিয়েছে সাকিবকে। ডাবলিনের মাঠে সাকিবের ক্ষিপ্রতা দেখে দলের তরুণতম ক্রিকেটারেরও চোখ ছানাবড়া।

সেই চূড়ান্ত ফিট সাকিবের কেন আকস্মিক ‘ব্যাকস্পাজম’ হলো, তাও কম বিস্ময়কর নয়। সে বিস্ময়কর ঘটনার সর্বজনীন একটা প্রেক্ষাপটও ধরে নিয়েছেন সবাই। প্রচণ্ড ঠাণ্ডাই সাকিবের পিঠের ব্যথার কারণ। বিসিবি এবার নতুন করে গরম কাপড় দেয়নি দলকে। তাই অনেককেই দেখা যাচ্ছে নিজেরটার সঙ্গে অন্যেরটা পরেও মাঠে নামছেন। তো, আয়ারল্যান্ড ম্যাচে স্কিনসের ওপর জার্সি-সোয়েটার মিলে গোটা তিনেক স্তর ছিল সাকিবের গায়ে। যদিও এই কদিনের অভিজ্ঞতায় এটাকে ফুলপ্রুফ মনে হচ্ছে না দলের কারোরই। ‘ভাই, এই ঠাণ্ডায় আইরিশরাও কাঁপে। আর আমরা তো বাংলাদেশের মতো গরম দেশের মানুষ’, বক্তা মাশরাফি নিজেও ঠাণ্ডার শিকার, এখানে ওখানে ব্যথা আছেই। আরো অনেকেরই ছোটখাটো ব্যথা আছে, তাই নিয়েই খেলে যাচ্ছেন তাঁরা।

তবে সাকিবের ফিটনেস নিয়ে তিনিসহ সন্দিহান পুরো দল। গত পরশু উইকেটে শুশ্রূষা নেওয়ার পর ৪৭ থেকে ফিফটি পূর্ণ করে আর অপেক্ষা করেননি, ফিরে গেছেন ড্রেসিংরুমে। আগের দিন ম্যাচ খেলায় গতকাল প্র্যাকটিস ছিল ঐচ্ছিক। প্রত্যাশিতভাবেই সাকিব যাননি। সকালে দেখা হতে মুখে হাসি কিন্তু পিঠে ব্যথার কথাই জানিয়েছেন, ‘কাল (আজ) সকালের আগে কিছু বলতে পারব না। এখনো ব্যথা আছে।’ মধ্যাহ্নে হোটেলের সুইমিং পুলে ছিলেন আধাঘণ্টার মতো। শরীরের যাবতীয় ব্যথা দূর করার মহৌষধ নিয়ে সাকিবের ফেরা দেখে মনে হচ্ছিল বুঝি খেলে ফেলবেন। কিন্তু টিম মিটিং থেকে ফিরে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা যা জানালেন, তাতে দ্বিধা রয়েই যাচ্ছে, ‘সাকিবকে নিয়ে পরিস্থিতি একটু ক্রিটিক্যাল। এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ওর ওপরই ব্যাপারটা নির্ভর করছে। এটা আসলে পৃথিবীর কোনো ডাক্তার-ফিজিওর পক্ষে সম্ভব নয় যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যথা সারিয়ে দেবেন। ওই ক্রিকেটার কেমন অনুভব করছে, সেটির ওপরই নির্ভর করছে। সাকিব কালকে (আজ) মাঠে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবে যে খেলতে পারবে কি পারবে না।’

সাকিব নিজেও জানেন না সিদ্ধান্তটা আসলে কী হবে। চোটের বয়স ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর সুইমিং করেছেন, তখনো ব্যথা অনুভব করেছেন। এ ধরনের ব্যথার সঙ্গে পরিচিত তামিম ইকবালও মনে করেন এক দিনের ব্যবধানে এই ব্যথা সেরে ওঠার সম্ভাবনা কম। আবার এমন ব্যথার তাত্ক্ষণিক ধাক্কাটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক, দম বন্ধ হয়ে যায়। তবে ছেড়ে দেয় দ্রুতই।’

সাকিবের কারণেই ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি নিয়ে সামান্য আক্ষেপ শোনা গেল মাশরাফির কণ্ঠে। মাঝে বৃষ্টিতে প্রথম আয়ারল্যান্ড ম্যাচ ভেসে যাওয়ার পাঁচ দিনের দীর্ঘ বিরতি পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালের আগে বিরতি মাত্র এক দিনের। অথচ বিরতি আরেকটা দিন বেশি পাওয়া গেলে সাকিবকে ফাইনালে পাওয়া যেত বলে স্থির বিশ্বাস মাশরাফির।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, একটু সময় পেলে সিদ্ধান্ত জানাতে মাঝে আরেকটি রাত অপেক্ষায় রাখতেন না সাকিব নিজেও। ওয়ানডেতে ৫ হাজার রান আর ২৫০ উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়া থেকে মাত্র একটি শিকার দূরে থাকা কোনো অলরাউন্ডারই সাজঘরে বসে ফিজিওর শুশ্রূষা নিতে চাইবেন না। আর এত কষ্ট করে নিজেকে তৈরি করা সাকিব ফাইনালের মঞ্চে স্বেচ্ছায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবেন, তা যুক্তিগ্রাহ্যও নয়।

সাকিবের পাশে বসে থাকা মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে কে যেন জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তোর কী অবস্থা?’ শুনে ফোঁস করে উঠলেন এ পেসার অলরাউন্ডার, ‘এত ম্যাচ খেললাম আর ফাইনালটা খেলব না!’ ফাইনাল নিয়ে সাকিবের মনোভাবও অভিন্ন হওয়ার কথা নয়।

সাইফ খেলবেন। সাকিব খেলবেন কি না, সে প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি তখনো। তবে বিকল্প ভেবে রেখেছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। সকালে সাকিব অমত করলে মোসাদ্দেক হোসেনকে খেলাবে বাংলাদেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা