kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

লক্ষ্য আজ গ্রুপ সেরার মুকুট

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লক্ষ্য আজ গ্রুপ সেরার মুকুট

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কিরগিজস্তান কেমন প্রতিপক্ষ? আরব আমিরাতকে যখন হারিয়েছে, তখন তাদের খারাপ বলার সুযোগ নেই। তবে গোলাম রব্বানী ছোটন একই কাতারে রাখছেন দুই দলকে। তাহলে তো কিরগিজস্তান কঠিন প্রতিপক্ষ নয় বাংলাদেশের জন্য। কিরগিজদের হারিয়ে গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা আজ নামছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপে আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর পরশু সেই আমিরাতকে ২-১ গোলে বিদায় করে কিরগিজস্তান সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে। আজ দুই দলের গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াই। ম্যাচ ড্র করলেও গোল-পার্থক্যে গ্রুপ সেরা হবে বাংলাদেশ। তবে স্বাগতিক দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন চাইছেন জয়, ‘সেমিফাইনালে উঠে গেলেও এ মাচে আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই খেলব। ড্র হলেও গ্রুপ সেরা হব। তবে আমরা জিততে চাই।’

দুই দলের শক্তি এবং দীর্ঘকালীন ট্রেনিং দিয়ে বিচার করলে স্বাগতিকদের জেতাই উচিত। মহিলা ফুটবলে কিরগিজস্তান এখনো পাতে দেওয়ার দল হয়ে ওঠেনি। সে তুলনায় লাল-সবুজের মেয়েরা অনেক এগিয়ে। তারা খেলছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে, লড়ছে বিশ্বসেরাদের সঙ্গে। বছর তিনেক আগে এই টুর্নামেন্টের বাছাইয়ে তারা ১০-০ গোলে হারিয়েছিল কিরগিজদের। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্পের দিকে হাঁটার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ কোচ অবশ্য এটাকে তিন বছর আগের বাস্তবতা হিসেবে দেখতে চান না। গত তিন বছরে তারা উন্নতি করেছে বলে মনে করেন। সেই উন্নতি হলেও কিরগিজস্তান ঠিক বাংলাদেশের সমকক্ষ হতে পারেনি। সেটা বুঝেই বাংলাদেশ কোচ বারবার জয়ের কথা বলছেন। আগের ম্যাচের ভুল শোধরানোর কথা বলছেন, ‘তিন দিন আমরা বিশ্রাম পেয়েছি, এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক। এই তিন দিনে আমরা থিওরেটিক্যালি ও মাঠে টেকটিক্যাল বিষয় নিয়ে কাজ করেছি; আরব আমিরাতের বিপক্ষে যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি। অ্যাটাকিং থার্ডে তাদের খেলা ভালো হয়েছে, তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। এই ভুলগুলো মেয়েদের ভালোভাবে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এই ম্যাচে তারা সেই ভুলগুলো করবে না।’ আমিরাতের বিপক্ষে একচেটিয়া খেলে অনেক সুযোগ তৈরি করেও মাত্র দুই গোল করে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষভাবে চোখে পড়ে তাদের ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা। সেসব সারানোর চেষ্টা হয়েছে গত তিন দিনে। এরপর তারা কতটুকু তৈরি হয়েছে, সেটারই পরীক্ষা হবে আজ। কৃষ্ণার মনেও তাই বড় জয়ের তৃষ্ণা, ‘ওদের অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে আমরা বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলাম। যদিও এবার অন্য পর্যায়ের খেলা, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য থাকবে ভালো ব্যবধানে জেতা। আমি যেহেতু ফরোয়ার্ড, অবশ্যই গোল করতে চাইব। নিজে না পারলে গোল করাব সতীর্থদের দিয়ে।’

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবলে কখনো গোলের আকাল পড়েনি। বঙ্গমাতা ফুটবলের প্রথম ম্যাচে সেটাই যেন একটু কঠিন কাজ হয়ে গেল। আর তাই ম্যাচ শেষে গোলের আফসোসটাই বড় হয়ে যায়। আমজনতার সেই গোলক্ষুধা মেটানোর একটা তাড়না আছে দলের ভেতর। কিরগিজরা শারীরিক গঠনে এগিয়ে থাকলেও সেটাকে খুব ধর্তব্যের মধ্যে নিচ্ছেন না বাংলাদেশ কোচ, ‘অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে আমরা এ রকম দৈহিক গড়নের মেয়েদের সঙ্গে খেলেছি। এটা বড় কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। আমাদের লক্ষ্য থাকবে শারীরিক লড়াইয়ে না গিয়ে নিজস্ব স্কিল দিয়ে গতিময় ফুটবল খেলে ম্যাচ বের করে নেওয়া। ওদের বিপক্ষে খেলার ব্যাপারে আমাদের ভিন্ন কৌশলও আছে, সেটা এখানে বলতে চাই না। আশা করি, মেয়েরা ভালো খেলবে এবং এ ম্যাচটা জিতবে। তবে ম্যাচের স্কোরলাইন নিয়ে আমরা চিন্তিত নই।’

কোচ মুখে বলছেন বটে, তবে দলের অন্দরমহলে কান পাতলেই গোলের হাহাকার শোনা যায়। আগের ম্যাচের ভুল শুধরে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড লাইন কতটা নিখুঁত হতে পারছে, সেটাই আজ দেখা যাবে। স্বপ্না-কৃষ্ণারা শেষ পর্যন্ত কত বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন, সেটারই পরীক্ষা হবে আজ।

মন্তব্য