kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

৫ উইকেটের দীর্ঘশ্বাস মুছবে তো?

মাসুদ পারভেজ   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিসংখ্যানের এক শূন্য পাতায় কিছুই টুকতে না পারার হাহাকার এখন আর নেই। গত বিশ্বকাপে করা দু-দুটি সেঞ্চুরিতে মাহমুদ উল্লাহ যদিও এখনো সেই পাতায় একা। আসন্ন বিশ্বকাপে সেখানে তাঁর আরো কয়েকজন সঙ্গী জুটে যাওয়ার প্রবল আশার বিপরীতে পরিসংখ্যানের আরেকটি শূন্য পাতাও দীর্ঘশ্বাস ছড়াচ্ছে নিরন্তর। ওয়ানডে বিশ্বকাপে যে ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি নেই কোনো বাংলাদেশি বোলারেরই!

যদিও বিশ্ব আসরে যে একদমই তা নেই, বলার সুযোগ নেই সেটিও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রঙিন মঞ্চে ‘বোলিং বিস্ময়’ হয়ে আবির্ভূত মুস্তাফিজুর রহমান অভিষেকের বছরখানেকের মধ্যেই আরাধ্য সে সাফল্যের মুখ দেখেছিলেন। তবে সেটি ছিল ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টির বিশ্বকাপ। কলকাতায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট নেওয়া ‘কাটার মাস্টার’ এই প্রথম খেলতে যাচ্ছেন ওয়ানডের বিশ্বকাপ। তাঁর মতো প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু জায়েদ রাহি ও মেহেদী হাসান মিরাজের মতো বোলারদেরও। যাঁদের ছায়া হয়ে থাকবেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান ও রুবেল হোসেনরা।

বোলিং বিভাগের দুই অভিভাবক মাশরাফি ও সাকিব খেলবেন নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় এক দশক পার করে দেওয়া রুবেলেরও তৃতীয় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এটি। গতবার অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স জায়গা করে নিয়েছিল বোলিংয়ের সেরা দশেও। ম্যাচসেরা মাহমুদ উল্লাহর সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে লড়াকু পুঁজি জমা করার পর রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ম্যাচে জয় বের করেছিল রুবেলের দুর্দান্ত বোলিংও। সেই জয়ই বাংলাদেশকে তুলে নিয়েছিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ইয়ান বেল ও এউইন মরগ্যানকে ফিরিয়ে ইংলিশদের জোর ধাক্কা দেওয়া এই পেসার বাজিমাত করেছিলেন ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তেও। তিন বলের মধ্যে শেষ দুই ব্যাটসম্যান—স্টুয়ার্ট ব্রড ও ক্রিস ওকসকে বোল্ড করতেই অ্যাডিলেডও যেন হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের ‘আনন্দনগরী’। বিশ্বকাপে নিজের সেরা ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক রুবেল হয়ে উঠেছিলেন উৎসবের মধ্যমণি।

তাঁর মতোই বিশ্বকাপে একবার ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়ার সাফল্য আছে মাশরাফিরও। ৩৮ রানে ৪ উইকেট নেওয়া সেই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক এক জয়-ভাগ্যও লিখেছিল, ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে। যে জয় সেবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথ দেখিয়েছিল ভারতকে। রুবেল-মাশরাফির মতো সাকিবের একমাত্র ৪ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স অবশ্য দলকে জেতাতে পারেনি। স্লো ওভার রেটের জন্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচটি খেলেননি মাশরাফি। তাঁর জায়গায় হ্যামিল্টনে সেই ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া সাকিব বিশ্বকাপে করেছিলেন তাঁর সেরা বোলিং। ৫৫ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। তবে বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরেছিল ৩ উইকেটে।

নিজের সেরা বোলিং দিয়ে ম্যাচ জেতাতে না পারলেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সফলতম বোলার সাকিবই। ম্যাচও খেলেছেন সবচেয়ে বেশি, ২১টি। তাতে ৩৫.৭৮ গড়ে ২৩ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি স্পিনার বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ বোলার। ১৬ ম্যাচে ৩৬.০৫ গড়ে ১৮ উইকেট নিয়ে তাঁর পরেই আছেন মাশরাফি। চোটের কারণে ২০০৩ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে যিনি খেলতে পেরেছিলেন মোটে দুটি ম্যাচ। দুটি বিশ্বকাপ খেলা রুবেল ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন ৩৯.৫৩ গড়ে। এবার অভিজ্ঞ এই তিনজনের ছায়াতলে এক ঝাঁক তরুণ বোলারও আছেন বিশ্বকাপে।

পরিসংখ্যানের শূন্য আরেকটি পাতায় ম্যাচে প্রথম ৫ উইকেট টুকবেন এঁদের কে?

 

মন্তব্য