kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

ব্যাটিংয়ে সাইফ বোলিংয়ে ফরহাদ রেজা

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাটিংয়ে সাইফ বোলিংয়ে ফরহাদ রেজা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শিরোপা যদিও জিতেছে আবাহনী, তবে ব্যাটিং-বোলিংয়ে সেরার লড়াইটা হয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ আর প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যেই। তাতে সদ্য সমাপ্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) রানার্স-আপ রূপগঞ্জকে পেছনে ফেলে শীর্ষে তৃতীয় হওয়া দোলেশ্বরই। তাদের ওপেনার সাইফ হাসান ১৬ ম্যাচে ৬২.৬১ গড়ে ৮১৪ রান করে আসরের সেরা ব্যাটসম্যান। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১৬.৩৯ গড়ে ৩৮ উইকেট নিয়ে সেরা বোলারও তাদেরই পেসার ফরহাদ রেজা।

ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় সেরা রূপগঞ্জের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমও আট শ পেরিয়েছেন। ১৬ ম্যাচে ৫৩.৮০ গড়ে করেছেন ৮০৭ রান। এক ম্যাচ কম খেলা রূপগঞ্জেরই পেসার মোহাম্মদ শহীদ ২১.০৩ গড়ে ২৭ উইকেট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সেরা বোলার। ব্যাটিং-বোলিংয়ে এই দলটির দুই খেলোয়াড় ছাড়িয়ে গেছেন নিজেদের আগের আসরের পারফরম্যান্সও। ২০১৮-র ডিপিএলে একই দলের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪৬.৩৩ গড়ে ৫৫৬ রান করে ব্যাটিংয়ের সেরা দশের দশ নম্বরে ছিলেন নাঈম। এবার অল্পের জন্য সেরা হতে হতেও না হওয়া এই ব্যাটসম্যানের ধারাবাহিকতা প্রশ্নাতীত বলেই প্রমাণিত হয়েছে। যাঁর ব্যাটিং মুগ্ধতা কেড়েছে জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবালেরও।

চোট-আঘাত আর বিশৃঙ্খল ব্যক্তি জীবন মিলিয়ে জাতীয় দলে এসেও হারিয়ে যাওয়া পেসার শহীদও দারুণ ধারাবাহিক ডিপিএলে। গতবার ১৬ ম্যাচে ২৬.৫৫ গড়ে ২৯ উইকেট নিয়ে ছিলেন আসরের তৃতীয় সেরা বোলার। এবার এগিয়েছেন আরো এক ধাপ। আর সেরা বোলার ফরহাদ এগিয়েছেন তিন ধাপ। গতবার ১৬ ম্যাচে ২৬.৮৬ গড়ে ২৯ উইকেট নিয়ে ছিলেন সেরা দশের চার নম্বরে। এবার সবার ওপরে থাকা ফরহাদ অবশ্য ছাড়িয়ে যেতে পারেননি গতবারের মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। আবাহনীর হয়ে ১৬ ম্যাচে ১৪.৬১ গড়ে ৩৯ উইকেট নিয়ে জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়কই ছিলেন গত আসরের সেরা বোলার। এবার ১৪ ম্যাচে ২৪.৬৬ গড়ে ২১ উইকেট নিয়ে তিনি আছেন সেরা দশের আট নম্বরে।

ফরহাদ তাঁর ‘৩৯’ পেরোতে না পারলেও ব্যাটিংয়ে ডিপিএলের গত পাঁচ আসরের মধ্যে এই প্রথম আট শর সীমানা পেরিয়েছেন সাইফ ও নাঈম। গত আসরের সর্বোচ্চ ৭৪৯ রান করা আবাহনীর নাজমুল হোসেন (শান্ত) এবার সমানসংখ্যক ম্যাচে ৫৪২ রান করে আছেন সাত নম্বরে। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ৫৫২ রান করে তাঁর এক ধাপ ওপরেই থাকা এনামুল হক (বিজয়) গতবার ৭৪৪ রান করে ছিলেন নাজমুলের ঠিক পরেই। অবস্থান পেছালেও তাঁদের অধারাবাহিক বলারও সুযোগ নেই কোনো। দারুণ ধারাবাহিক গতবার ১৬ ম্যাচে ৭০৮ রান করে আসরের চতুর্থ সেরা ব্যাটসম্যান ফজলে মাহমুদও। এবার ব্রাদার্সের হয়ে ১৩ ম্যাচে ৬০৩ রান করে পঞ্চম সেরা তিনি।

এবার ব্যাটিংয়ের শীর্ষে থাকা দুই তরুণের সঙ্গে জোর লড়াই চলেছে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানেরও। এঁদের মধ্যে রকিবুল হাসান ২০১৫-১৬ মৌসুমের ডিপিএলে করেছিলেন আসর সর্বোচ্চ ৭১৯ রান। দুই মৌসুম পর এবার তিনি মোহামেডানের হয়ে ১৬ ম্যাচে করেছেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭৮১ রান। গত পরশু শেখ জামাল ধানমণ্ডির বিপক্ষে সৌম্য সরকারের ডাবল সেঞ্চুরির আগ পর্যন্ত লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ ১৯০ রানের ইনিংসটিও এক মৌসুম আগেই খেলেছিলেন তিনি। এবারের পারফরম্যান্সে অচিরেই তাঁর জন্য বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দরজা খুলছে বলে খবর।

চোটের সঙ্গে নিয়মিত লড়াইয়ে থাকা আবাহনীর জহুরুল ইসলামও এবার ১৫ ম্যাচে ৭৩৫ রান করে চতুর্থ সেরা ব্যাটসম্যান। গতবার ৭২০ রান করে তৃতীয় রূপগঞ্জের নাঈম ইসলামও এবার ১৬ ম্যাচে ৫২৫ রান করে ধারাবাহিকতার মূর্ত প্রতীক। আছেন ৯ নম্বরে। ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়ের সেরা দশেও এবার দারুণ লড়াই হয়েছে তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার। ফরহাদ আর শহীদের পর ১৩ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়ে আসরের তৃতীয় সেরা বোলার আবাহনীর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে এমন পারফরম্যান্স এই পেসারের আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া জোগাবে নিশ্চিতভাবেই। বিকেএসপি প্রথম বিভাগে নেমে গেলেও দলটির বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ১৩ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে আসরের চতুর্থ সেরা বোলার। খেলাঘরের ডানহাতি পেসার রবিউল হকও ১১ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বোলারদের সেরা পাঁচে।

শিরোপা আবাহনীর হলেও বোলিংয়ের সেরার লড়াইয়ে তাই ছিল পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিককার দলগুলোর প্রতিনিধিত্বও!

মন্তব্য