kalerkantho

শিরোপা আবাহনীর

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : অথচ দিনের শেষে তানভীর হায়দারের ৯৯ বলে করা সেঞ্চুরি নিয়ে কোনো আলোচনাই নেই! ১১৫ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় তাঁর ১৩২ রানের হার না মানা ইনিংসে ভর দিয়েই শিরোপানির্ধারণী ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে স্কোরবোর্ডে ৯ উইকেটে ৩১৭ রান জমা করেছিল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। অবশ্য দিনের শেষে তানভীরের আলোচনা থেকে হারিয়ে যাওয়াও অকারণে নয়। জিতলেই চ্যাম্পিয়ন—এই সমীকরণ সামনে নিয়ে নামা আবাহনী রান তাড়ায় যে রেকর্ড বইয়ের অসংখ্য পাতায় লিখল নতুন অনেক কিছু। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ৪২ আসরের মধ্যে ২০তম বারের মতো শিরোপা জেতার পথে রেকর্ডের মালাও গাঁথল তারা। যে মালায় আছে একটি বিশ্বরেকর্ডও। এত কিছুর ভিড়ে তাই তানভীরের জায়গা কোথায়!

বিকেএসপিতে তাঁর দলের বিশাল সংগ্রহ ১৭ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যাওয়া আবাহনীর ৯ উইকেটের জয় সহজতম করেছে সৌম্য সরকার ও জহুরুল ইসলামের বিশ্বরেকর্ড গড়া জুটি। প্রথমজন বনে গেছেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি। জহুরুলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে তাঁর ৩১২ রানের পার্টনারশিপ। এই ধরনের ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি ওপেনিং পার্টনারশিপ এর আগেও ছিল আরো সাতটি। তবে রান তাড়ায় ওপেনিংয়ে ৩০০ ছাড়ানো পার্টনারশিপ ছিল না আর একটিও। সেই ‘প্রথম’-এ নিজেদের নাম টুকে নেওয়া সৌম্য-জহুরুল জুটি নতুন করে লিখিয়েছে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের আরো কিছু রেকর্ডও। জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে এই লিগে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি করা জহুরুল (১০০) আউট না হলে ১০ উইকেটের জয়ও দেখতে পারত আবাহনী। তা দেখা না হলেও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ দেখেছে বাংলাদেশ।

টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ঘরে তোলা আবাহনীর দখলেই ছিল সেরা ওপেনিং পার্টনারশিপের আগের রেকর্ডটি। গত আসরে বিকেএসপির এই ৩ নম্বর মাঠেই প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে ২৩৬ রান তুলেছিলেন দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন এবং এনামুল হক। যেকোনো উইকেটে এর আগের সর্বোচ্চ ২৯০ রানের রেকর্ডটি অবশ্য এক যুগের পুরনো। ২০০৭ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণে রাজশাহীর বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে ওই রান করেছিলেন চট্টগ্রামের মাহবুবুল করিম ও ধীমান ঘোষ।

সৌম্যর (২০৮*) ডাবল সেঞ্চুরি ও জহুরুলের সেঞ্চুরিতে এর সবই বিলীন হওয়ার দিনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৮৮ রানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, সুপার লিগ শুরুর সময়ও যারা শিরোপা জেতার সম্ভাবনায় আবাহনীর চেয়ে এগিয়ে ছিল অনেকটা। প্রথম পর্বের শেষ দুই ম্যাচ হারা আবাহনী অবশ্য সুপার লিগে ঘুরে দাঁড়ায়। দুই পর্বে দুইবারের দেখায় আবাহনী ও রূপগঞ্জ একে-অন্যকে একবার করে হারানোয় পয়েন্ট সমান হলে রানরেট ছিল মূল বিবেচ্য। সেটিতে আবাহনী এগিয়ে ছিল অনেকটাই। তাই কাল নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতে পয়েন্ট সমান হলেও শিরোপা গেছে আবাহনীর ঘরেই। তাদের বিপক্ষে আগের ম্যাচে অপরাজিত ১২৩ রানের ইনিংস খেলা রূপগঞ্জের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম কালও ১৩৬ রানের ইনিংসে পেরিয়েছেন ৮০০। ১৬ ম্যাচে ৫৩.৮০ গড়ে ৮০৭ রান করেও অবশ্য আসরের সর্বোচ্চ রান তাঁর নয়। ফতুল্লায় মোহামেডানকে ৩ রানে হারানো প্রাইম দোলেশ্বরের ওপেনার সাইফ হাসান কালকের ৫৫ রানের ইনিংসে নাঈমকে ছাড়িয়ে এবারের আসরের সেরা ব্যাটসম্যান। ১৬ ম্যাচে ৬২.৬১ গড়ে করেছেন ৮১৪ রান!

মন্তব্য