kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

নতুন বাঁকে নাজমুল

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন বাঁকে নাজমুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাদাসিধে মানুষ বলে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে বরাবরই প্রিয়ভাজন ছিলেন তিনি। তাই ২০১২ সালে শেষবার ড্রেসিংরুম থেকে বেরোনো নাজমুল হোসেনকে সুপরামর্শ দেওয়ার লোকের অভাব নেই জাতীয় দলে। সাবেক টিমমেটদের পরামর্শেই এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলোয়াড় নয়, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন এ পেসার। গতকাল খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে কোচিং ক্যারিয়ার শুরুর ঘোষণাও দিয়েছেন নাজমুল।

‘ইচ্ছা করলে আরো কিছুদিন হয়তো ক্রিকেট খেলতে পারতাম। কিন্তু সবার সঙ্গে কথা বলে মনে হলো তার চেয়ে পেস বোলার গড়ার কাজে মন দিলেই ভালো’, গতকাল মিরপুরে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ বনাম প্রাইম ব্যাংক ম্যাচের বিরতিতে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বাঁকবদলের কথা বলছিলেন নাজমুল। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে। আর তাঁর শেষ ম্যাচটি হৃদয়ভাঙা ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনাল। এই আট বছরে নাজমুল ওয়ানডে খেলেছেন মোটে ৩৮টি। টেস্ট মাত্র দুটি, তাও সাত বছরের দীর্ঘ ব্যবধানে। ২০১২ সালের মার্চে হেগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জেতা ম্যাচটি নাজমুলের চতুর্থ এবং শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

ক্যারিয়ার খুব ঝকঝকে নয়। বরং নানা অঙ্ক আর ইনজুরিতে দলে আসা-যাওয়াই ছিল নিয়মিত ব্যাপার। অবশ্য এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই সিলেটের এই পেসারের, ‘খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলিনি। তবে প্রায় আট বছর জাতীয় দলে খেলেছি, ঘরোয়া ক্রিকেট প্রায় ১৬ বছর হয়ে গেছে। আকরাম ভাই, সুমন ভাই, সুজন ভাই, মাশরাফি-সাকিবদের সঙ্গে খেলেছি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়, কার্ডিফের সেই ম্যাচ (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) খেলেছিলাম...যেটুকু খেলেছি কিংবা পেয়েছি, তা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’

এখন সন্তুষ্টির পথ খুঁজতে নামছেন পেস বোলার তৈরির মিশনে, ‘চাম্পাকা (রমানায়েকে) খুব উৎসাহ দিচ্ছে। সুজন ভাইও (খালেদ মাহমুদ) বলেছেন। আমার নিজেরও মনে হয় এ কাজটা আমি পারব। সহসাই এ লাইসেন্স কোর্স করব। এরপর মালয়েশিয়ায় বি লাইসেন্স করতে যাব। তা ছাড়া নিজের কিছু অভিজ্ঞতা তো রয়েছেই।’

সেই অভিজ্ঞতা থেকে নাজমুল দেখছেন এ কালের পেসারদের প্রত্যাশিত বিবর্তন হচ্ছে না। ‘এ যুগে আপনি সে রকম ফাস্ট বোলার দেখবেন না। যে তরুণ জোরে বোলিং করে নজর কাড়ছে, দেখা যায় কিছুদিন পর তার গতি নেই। লাইন লেন্থ ঠিক করতে গিয়ে গতি হারিয়ে ফেলছে। আমি এ জায়গাটায় নজর দিতে চাই। লাইন লেন্থ অবশ্যই জরুরি, তবে গতি কমানোর পক্ষে নই।’ নাজমুলের আরো নজর থাকবে মোহাম্মদ শহিদ-আল আমিনদের ওপর, যাঁরা আবির্ভাবের পরই হারিয়ে যাওয়ার পথে।

মন্তব্য