kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

গোল ব্যবধান নয়, জয়ই আসল

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গোল ব্যবধান নয়, জয়ই আসল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অনেক গোল না হওয়ার আক্ষেপে প্রথম ম্যাচ শেষ হলেও এ নিয়ে কোনো আহাজারি নেই দলের ভেতর। তাদের কাছে ম্যাচ জয়ই আসল।

আরব আমিরাতের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচে ১৭ গোলের পরম্পরায় এবার ২ গোলের ব্যবধান একটু কমই। এ নিয়ে চারদিকের আলোচনা একটু চড়েছে। আফসোস বেড়েছে সহজ গোল মিসে। কিন্তু এটাই খুব অপছন্দের পল স্মলির কাছে। দেশের মহিলা ফুটবলের অন্যতম সুহৃদ বাফুফের এ টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পরামর্শ দিচ্ছেন, ‘প্রথম ম্যাচে ভারতীয় ধারাভাষ্যকারের কথাগুলো শোনা উচিত। বাংলাদেশের নারী দলের খেলা দেখে তুমুল প্রশংসা করেছেন তিনি। সবারই এভাবে ইতিবাচক হওয়া উচিত।’ দেশের সংবাদমাধ্যম কিন্তু নারী ফুটবলে ভীষণ উৎসাহী এবং সব সময় ইতিবাচক। তারা নারী ফুটবল উত্তরণের সঙ্গীও বটে। তাই গোলের সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ তাদেরও পোড়ায়। তবে পল স্মলি গোল মিসকে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বড় করে দেখতে চাইছেন মেয়েদের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে খেলাকে, ‘আরব আমিরাতের বিপক্ষে আমাদের মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি, মনিকা ছিল মাঠের সেরা খেলোয়াড়। প্রতিদিনই সে উন্নতি করছে। আমরা অনেক ওপেন করেছি আর সেটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে, তা বিবেচনায় নিতে হবে আমাদের। সবার টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল উন্নতি হয়েছে বলেই আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি। পোস্টে শটও আমাদের অনেক বেশি। এটার কৃতিত্ব অবশ্যই মেয়েদের দিতে হবে। ম্যাচ জিতেছি আমরা, এটাই মুখ্য। তবে হ্যাঁ, গোলের প্রশ্নে ফারোয়ার্ডদের আরো নিখুঁত হতে হবে।’

ম্যাচের শুরুতে সিরাত জাহান স্বপ্নার চমৎকার এক গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। তবে ম্যাচ শেষের ব্যালান্সশিটে আছে এই ফরোয়ার্ডের দুটি সহজ গোল মিসের আফসোস। এই ভেবে স্বপ্নারও খারাপ লাগে, ‘হ্যাটট্রিকের সুযোগ নষ্টের জন্য আমারও খারাপ লাগছে। যে ম্যাচ গেছে, তা নিয়ে আর ভেবে লাভ নেই। আমি স্ট্রাইকার পজিশনে খেলি, তাই গোল করার দায়িত্ব আমার বেশি। সামনের ম্যাচগুলোতে চেষ্টা করব, যেন গোল মিস না হয়। গোলের চেষ্টা আমাদের সবারই থাকে।’ আমিরাতের বিপক্ষে যাঁরা খেলেছেন, গতকাল তাঁদের আর অনুশীলন হয়নি। কাল পুরো দিন কেটেছে রিকভারিতে। কিরগিজস্তানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে হাতে আছে আরো দুই দিন। এই সময়ে তাদের ফিনিশিং নিয়ে ঘষামাজা করবেন কোচ। স্বপ্না-কৃষ্ণা-সানজিদাদের জন্য থাকবে আলাদা ট্রেনিং। পল স্মলি বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, ‘ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিং নিয়ে যথেষ্ট কাজ হয় ট্রেনিংয়ে। তাদের আরো নিখুঁত করে তোলার চেষ্টা করি আমরা। কালকের ম্যাচ (আমিরাতের ম্যাচ) দেখলে বোঝা যায় স্বপ্না, কৃষ্ণা, সানজিদা, মৌসুমী, শামসুন্নাহাররা ভালো ক্রস করেছে দুই দিক থেকে। ভালো জায়গায় বল ফেলেছে। অ্যাটাকিং থার্ডে তাদের খেলার উন্নতি হয়েছে, গোলসংখ্যা হয়তো আরো বাড়তে পারত। তবে আমাদের লক্ষ্য ম্যাচ জেতা। তিন বছর ধরে আমাদের মেয়েরা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে একটা ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছে।’ এই ইমেজটা হলো বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জয়ের, আধিপত্যের এবং গোলের জোয়ারে প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দেওয়ার। গোলের সেই জোয়ার না থাকলেও বাংলাদেশ খেলেছে একচেটিয়া ফুটবল। দুই দিক থেকে বলের জোগান থাকলেও বাঁ প্রান্তের ধারটাই ছিল বেশি। শামসুন্নাহার-কৃষ্ণায় আমিরাত রক্ষণ যেভাবে সন্ত্রস্ত হয়েছিল, সেভাবে প্রাপ্যটা বুঝে নিতে পারেনি দল।

এক ম্যাচে হয়নি তো আরেক ম্যাচে হবে। এটাকেই নিয়তি মানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমী, ‘কখনো বেশি গোল, কখনো বা কম গোলে জিতি আমরা। এটাই ফুটবল, সব সময় বড় ব্যবধানে জেতা যায় না। এ নিয়ে চাপও নিই না আমরা। নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে কথা হয়, প্র্যাকটিসে শুধরে আবার নতুন ম্যাচে নামার চেষ্টা করি।’ আগামী শুক্রবার কিরগিজস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবেন মৌসুমীরা। এই ম্যাচে হয়তো আবার গোলে গোলে রাঙিয়ে যাবে নারী ফুটবল।

মন্তব্য