kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

রেকর্ডের সৌধে সৌম্য

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রেকর্ডের সৌধে সৌম্য

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ দলে আছেন; কিন্তু ব্যাটে ম্যাচের পর ম্যাচ রান নেই। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে তাই যখন ফিসফিসানি উচ্চকিত হওয়ার অপেক্ষা, তখনই শেষ দুটো সুযোগে রানের বন্যা সৌম্য সরকারের ব্যাটে। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আগের ম্যাচে করেছিলেন ৭১ বলে সেঞ্চুরি। ৭৯ বলে খেলা ১০৬ রানের সেই ইনিংসটি যদি ‘বিস্ফোরক’ হয়ে থাকে, তাহলে কাল আবাহনীর শিরোপা জেতার দিন এই বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাটিং ছিল ‘ধ্বংসাত্মক’।

শেখ জামাল ধানমণ্ডির বোলারদের ছিন্নভিন্ন করা ব্যাটিংয়ে কত রেকর্ডই না লুটিয়ে পড়ল সৌম্যর পায়ে! প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি। ২০১৭-র ডিপিএলে আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের রকিবুল হাসানের ১৩৮ বলে খেলা ১৯০ রানের ইনিংসটি ছিল আগের রেকর্ড। কাল সেটি পেরিয়ে ১৫৩ বলে অপরাজিত ২০৮ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংসে নতুন ইতিহাস গড়েছেন সৌম্য। যদিও ডাবল সেঞ্চুরির আগেই আরেকটি রেকর্ডের যৌথ মালিকানা থেকে বেরিয়ে সেটি একান্তই নিজের করে নিয়েছিলেন আবাহনীর ওপেনার।

সেটি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ ছক্কার। ডিপিএলে আগের রাউন্ডেই ১১ ছক্কার আগের রেকর্ডে সৌম্য আর মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে ভাগ বসিয়েছিলেন প্রাইম দোলেশ্বরের ওপেনার সাইফ হাসান। এবার ১৬ ছক্কায় সেই রেকর্ড শুধুই নিজের করে নেওয়া সৌম্যর সঙ্গে ৩১৭ রান তাড়ায় জহুরুল ইসলামের ৩১২ রানের ওপেনিং জুটি বাংলাদেশে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে যেকোনো উইকেটের সর্বোচ্চ।

যদিও ব্যাটিংয়ের শুরুর দিকে মনেই হয়নি যে পরে কী ঝড় বইয়ে দেওয়ার জন্যই না তৈরি হয়ে আছেন সৌম্য। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরি ছিল আগে ব্যাটিং করে। এবার রান তাড়ায় শুরুতে সাবধানী থাকার নীতিতেই ফিফটি করতে লেগেছে ৫২ বল। পরের দিকের ব্যাটিং সহজ করার জন্য শুরুর গাঁথুনি মজবুত করতে চেয়েছিলেন সৌম্য, ‘৩০০ টার্গেট ছিল বলে প্রথমে একটু নার্ভাস ছিলাম। ৩০০ রানের বেশি তাড়া করা সব সময়ই কঠিন। ব্যাটিংয়ে যাওয়ার আগে ভাবছিলাম, আগের ম্যাচে আমাদের ৩০০-এর বেশি (৩৭৭) রান তাড়ায় রূপগঞ্জ একটু তাড়াহুড়া করেছিল। পাওয়ার প্লেতে উইকেট যাওয়ায় সেভাবে রান তাড়া করতে পারেনি। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল। আমরা পরিকল্পনা করছিলাম, খুব স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলব। প্রথম ১০ ওভারে যদি ৪০ রানও হয়, কোনো সমস্যা নেই। এই উইকেটে যখন-তখন মারা যায়। সব ব্যাটসম্যানেরই সেই সামর্থ্য আছে। আর উইকেটও খুব ভালো ছিল। বল ব্যাটে আসছিল। চেষ্টা করেছি বড় জুটি গড়তে, যেন ২০ ওভারের মধ্যে এমন কিছু করি, যাতে পরের ৩০ ওভার সহজ হয়।’

প্রথম ২০ ওভারে বিনা উইকেটে আবাহনী তোলে ১২০ রান। সৌম্যর রান তখন ৫৮ বলে ৫৯। ওই সময়ের মধ্যে চারটি ছক্কা মারা এই ব্যাটসম্যান ঝড় তুলতে শুরু করেন এর পর থেকেই। তাই ফিফটি থেকে তিন অঙ্কে যেতে লেগেছে মোটে ২৬ বল। সেখান থেকে দেড় শ-তে পৌঁছাতেও লেগেছে সমানসংখ্যক ২৬ বলই। ১৯০-এর ঘর পেরোতেই আবারও নার্ভাসনেস পেয়ে বসায় ১৫০ থেকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে লেগেছে ৪৫ বল। সেই সময়ের উত্তেজনা তুলে ধরতে গিয়ে বলছিলেন, ‘১৯০ পর্যন্ত কোনো নার্ভাসনেস ছিল না। তারপরে একটু ছিল। তখন মনে হচ্ছিল সুযোগটি হাতছাড়া করা যাবে না। যেকোনো উপায়ে করতেই হবে। একটু নার্ভাস লাগছিল এই ভেবে যে কোনো কারণে যদি বাই রান হয়ে যায়, তাহলে অমি (জহুরুল) ভাইয়েরও সেঞ্চুরি হবে না, আমারও ডাবল সেঞ্চুরি হবে না। তখন দুজনই এক-এক করে খেলছিলাম।’

৪৬তম ওভারের প্রথম বলে ইমতিয়াজ হোসেনকে বাউন্ডারি মেরে সৌম্য ইতিহাস গড়া ডাবলে পৌঁছানোর দুই বল পরই আউট হয়ে যান আগের ওভারে তিন অঙ্কে যাওয়া জহুরুল। তাইজুলকে ছক্কা মেরে এরপর দলকে শিরোপার তীরে নিয়ে যান সৌম্যই। ১ মে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দেশ ছাড়ার আগে শেষ সুযোগটি এভাবে লুফে নিতে পেরে দারুণ স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলতে পারছেন এখন, ‘ব্যাটিংয়ে পার্থক্য নেই। আমার ব্যাটিং আমার কাছেই আছে। আগের ম্যাচগুলোয় রান করিনি। এখন করছি। আক্ষেপ হচ্ছিল শুরুতে ৩০-৪০ রান করে আউট হচ্ছিলাম। মাঝে কিছু ম্যাচে ১, ২ ও শূন্য রানেও আউট হয়েছি। পরে মনে হলো ১, ২ ও শূন্য রানের চেয়ে ৩০-৪০ ভালো, ওটাতে আগে ফিরতে হবে। যখন ৩০-৪০ করেছি, তখন মনে হয়েছে আজ এই রানে ফেরা যাবে না। আজ উইকেট ভালো ছিল বলে রান বড় করার সুযোগও ছিল।’

লিগের শেষ ম্যাচ বলে শেষ সুযোগও। সেই সুযোগে বড় কিছু করে ইতিহাসেও ঢুকে গেলেন সৌম্য।

মন্তব্য