kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

আরো গোলের আক্ষেপ

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরো গোলের আক্ষেপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ২-০ গোলে হারিয়েছে আরব আমিরাতকে। এই দেখে সবার যেন মন খারাপ। আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুই গোলের ব্যবধানে জয় চাট্টিখানি কথা নয়। এর পরও এটা মেনে নেওয়ার নয়। কারণ অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অতীত আছে, আরব আমিরাতকে ১৭ গোলে হারানোর। তা-ও তিন ম্যাচে! সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে হারিয়েছে ৭-০ গোলে। সেখান থেকে দুই গোলে নামাটা আসলেই বেমানান!

মানছেন না বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও, ‘আমি খুশি তাদের খেলায়, আক্রমণাত্মক ফুটবলে। ম্যাচের আগাগোড়া তারা প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রেখেছে। তারা অনেক ওপেনও করেছে কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণে গিয়ে তাদের তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তগুলো ভালো হয়নি। নইলে আরো বড় ব্যবধানে এই ম্যাচ জিততে পারতাম।’ অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে স্বপ্না-কৃষ্ণাদের ফিনিশিং ভালো হয়নি। খই-চিড়ার মতো গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন তারা। বাংলাদেশ কোচের আক্ষেপ স্বপ্নার গোল মিসে, ‘স্বপ্নার হ্যাটট্রিক হওয়ার সুযোগ ছিল আজ। ওয়ান টু ওয়ানে সে দুটি সহজ গোল নষ্ট করেছে। রক্ষণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় সে ভুল করেছে। এসব নিয়ে আবার প্র্যাকটিসে কাজ করব আমরা।’ স্বপ্না শুরুই করেছিলেন বারবার অফসাইডে আটকে গিয়ে। এরপর তাঁর গোলে দল লিড নিলেও তিনি নষ্ট করেছেন দু-দুটি সহজ গোল।

আসলে গোলই বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলের ‘ট্রেডমার্ক’। গত চার-পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের গোল মিছিলে তৈরি হয়েছে এই পরিচিতি। এটা তৈরি হয়েছে বিশেষভাবে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের ফুটবলে। কিন্তু এটা হলো অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ফুটবল। বয়স যত বাড়ছে, ততই কি গোলের ব্যবধান কমে আসছে! বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছিলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট মোটেও সহজ হবে না আমাদের দেশের জন্য। কারণ অন্যরাও ফুটবলে এগোচ্ছে। আগের আমিরাত এখন আর নেই, তারাও খুব জোর দিয়েছে মহিলা ফুটবলে।’ প্রথম ম্যাচে তাঁর কথাই যেন মিলে গেল অক্ষরে অক্ষরে। আমিরাতের কোচ হুরাইরা আল তাহেরির কথায় এর ইঙ্গিত মিলেছে, ‘গত সেপ্টেম্বরে এই দলের সঙ্গে আমরা খেলেছি। বাংলাদেশের সবাইকে চেনে আমার খেলোয়াড়রা। তারা শিখেছে, কিভাবে খেলতে হয়। এই ফলই বলে দিচ্ছে আমিরাতের খেলার উন্নতি হয়েছে। আমি খুশি মেয়েদের পারফরম্যান্সে।’ এটাই যে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স। ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কোনো রকম চাপে ফেলতে না পারলেও বেশি গোল খাওয়া ঠেকিয়েছে তাঁর মেয়েরা।

কম গোল দিয়েছে বলেও কিন্তু বাংলাদেশ দলও হতাশ নয়। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে গোলের ছন্দ খুঁজে না পেতেও পারে। সেই যুক্তিতে গোলাম রব্বানী ছোটন বলেছেন, ‘আমি মোটেও হতাশ নই। প্রথম ম্যাচ হিসেবে তারা ভালো খেলেছে। মেয়েরা ৯০ মিনিট অ্যাটাকিং ফুটবল খেলেছে এবং নিজেদের মাঠে খেলাটা উপভোগ করেছে। দর্শকরাও তাদের খেলা দেখে মজা পেয়েছে।’ এই ম্যাচে অন্তত পাঁচ হাজার দর্শক হাজির হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। তারা পুরোটা সময় হাততালি দিয়ে নিজেদের দলকে উৎসাহিত করেছে। কালকের ম্যাচে হয়তো তাদের গোলক্ষুধা মেটাতে পারেনি মৌসুমী-মার্জিয়ারা। কিন্তু পরের ম্যাচে যে আবার গোলের ছন্দ ফিরে পাবে না, সেটাও বলা যাবে না। আগামী ২৬ তারিখ কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেয়েদের নিয়ে আবার কঠিন ট্রেনিং সেশন হবে। ‘আমরা এ নিয়েই কাজ করব আগামী কয়েক দিনে। এই ম্যাচের আগেও আমাদের সেশনে ফরোয়ার্ডদের নিয়ে কাজ হয়েছে। সেই কাজগুলো আবার হবে, আশা করি তারা পরের ম্যাচে তৈরি হয়েই মাঠে নামবে’—প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। তাঁর ট্রেনিংয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল আবার গোল মিছিল করবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।

মন্তব্য