kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

প্রস্তুতি শুরু

পেসারদের ওয়ালশের প্রেসক্রিপশন

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পেসারদের ওয়ালশের প্রেসক্রিপশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়েছে ঠিকই; কিন্তু সত্যিকার অর্থে কাল কি তা শুরু করতে পেরেছে বাংলাদেশ?

স্কোয়াডের ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনই অনুপস্থিত। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শেষ রাউন্ড খেলার জন্য সিংহভাগ আর আইপিএল খেলার জন্য ভারত থেকে যাওয়ায় সাকিব আল হাসান। স্টিভ রোডসের অধীনে যে পঞ্চকে শুরু অনুশীলন, তাঁদের মধ্যে আবার মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন বোলিং করেননি; ইনজুরি-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ব্যাটিং শুধু। সেন্টার উইকেটে ব্যাটিং করা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহও লড়ছেন ইনজুরির সঙ্গে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের মধ্যে কাল তাই সত্যিকার অর্থে অনুশীলন করেছেন একজনই—তামিম ইকবাল!

ইনজুরি নিয়ে বড় দুশ্চিন্তা কোর্টনি ওয়ালশেরও। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের তা হবে না কেন! পেসারদের মধ্যে কেউই তো পুরোপুরি ফিট না। তবে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও আবু জায়েদের ফিটনেস ততটা শঙ্কার না হলেও মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ইনজুরি দুশ্চিন্তা না ছড়িয়ে পারে না। কাল অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া ওয়ালশের কণ্ঠে তাই শঙ্কার মেঘ, ‘আমার এখন মূল উদ্বেগ ইনজুরিতে থাকা বোলারদের নিয়ে। ওদের দ্রুত মাঠে ফেরাতে হবে; করে তুলতে হবে ম্যাচ ফিট। পাঁচ পেসারের মধ্যে তিনজন ইনজুরিতে—ফিজ (মুস্তাফিজ), রুবেল ও সাইফউদ্দিন। ওরা যেন আয়ারল্যান্ডে কিছুটা বোলিং করে বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারে—সে চেষ্টা করতে হবে আমাদের।’ আর ইনজুরির সঙ্গে লড়াইয়ে কেউ হেরে গেলে বিকল্প নামগুলোও ভেবে রেখেছেন তিনি, ‘তাসকিন, খালেদ, শফিউল রয়েছে; যদি প্রয়োজন পড়ে, তাহলে এ বিকল্প ক্রিকেটারদের আমরা ডাকতে পারি।’

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনায় বড় ভূমিকা রাখার কথা পেসারদের। ইংল্যান্ডে কিভাবে সফল হতে হবে, তাঁদের সে দীক্ষা দেওয়ার জন্য ওয়ালশের চেয়ে ভালো আর কে আছেন! একসময় টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এ ক্যারিবীয় কিংবদন্তি অবশ্য ওখানকার উইকেটের বদলে যাওয়াটা জানেন। সেটি মাথায় রেখেই শিষ্যদের প্রতি তাঁর প্রেসক্রিপশন, ‘কন্ডিশন ও উইকেট বুঝতে হবে। কিছু কিছু জায়গায় বল সুইং করবে বেশি। প্রতিটি ভেন্যুতে গিয়ে ওখানকার অবস্থা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে বেশির ভাগ উইকেটই হবে ফ্ল্যাট। বোলারদের তাই বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করতে হবে; পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে ঠিকঠাক। এ সময়ে তো সবাই সবাইকে নিয়ে গবেষণা করে। আমাদের শক্তি-দুর্বলতা প্রতিপক্ষ জানবে; যেমনটা আমরা জানব ওদেরটা। ম্যাচের দিন নিজেদের সামর্থ্যের প্রয়োগ করা তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ; চৌকস হওয়াটাও।’ নিজেদের শক্তির দিকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শও ওয়ালশের, ‘বৈচিত্র্য, চতুর চিন্তা এবং প্রয়োগ— ইংল্যান্ডে সাফল্যের জন্য এগুলো হবে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের যা শক্তি আছে, তা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। শুরুতে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে; তাতে প্রতিপক্ষ পড়বে চাপে। বিশ্বকাপে সফল হওয়ার জন্য এ সবই জরুরি; সঙ্গে ঠিকঠাক উইকেট পড়তে পারাও। আর ম্যাচের আগে যখন একাদশ জানব, তখন ওদের শক্তির দিকে মনোযোগী হওয়ার জন্য চেষ্টা করব।’

বদলে যাওয়া ক্রিকেটে ইংল্যান্ডে সাফল্যের জন্যও এখন পেসারদের বৈচিত্র্যের কথা ভাবতে হয়। অথচ দুই যুগ আগেও তো তা ছিল না। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের চেয়ে অবস্থাটা এখন অনেক পাল্টে গেছে বলেই বদলে গেছে ওয়ালশের ভাবনার জগৎ, ‘আমি যখন খেলতাম, তখন ইংল্যান্ডের অবস্থা ছিল অন্য রকম। উইকেটগুলো আরেকটু বোলিং সহায়ক ছিল; বলের সুইং ছিল আরেকটু বেশি। এখন তো সব ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হয়ে গেছে; হাই স্কোরিং ম্যাচ হয়। এ কারণে বোলারদের এখন কাজ করতে হয় বৈচিত্র্য নিয়ে।’ বিশ্বকাপের আগের সময়টায় এ নিয়েই কাজ করা হবে বলে জানান তিনি, ‘গতি কমিয়ে দেওয়া, রান কম দেওয়া, চিন্তায় ব্যাটসম্যানকে ছাড়িয়ে যাওয়া—সব মিলিয়েই এক ধাপ এগিয়ে থাকার চেষ্টা করতে হবে বোলারদের। ওয়াইড ইয়র্কার, স্লোয়ার বাউন্সার এমন অনেক কিছুর চেষ্টাই করতে হয়। মূলত এসব বিষয় নিয়েই প্রস্তুতি ক্যাম্পে এবং আয়ারল্যান্ড সিরিজে আমরা কাজ করব।’

বড় আশা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশা বেশি বলে চ্যালেঞ্জটা বেশি। আর লিগ ফরম্যাটে বাকি ৯ প্রতিপক্ষের সবার বিপক্ষে খেলার কারণে তা ভীষণ কঠিন হবে বলে মানছেন ওয়ালশ, ‘আমাদের জন্য বিশ্বকাপ হবে বড় চ্যালেঞ্জের। খুব, খুব কঠিন এক টুর্নামেন্ট। শুরুর দিকে আমাদের দু-একটি ম্যাচ জিততে হবে। এরপর টেনে নিতে হবে সে আত্মবিশ্বাস। আর এ বিশ্বকাপে নিজেদের দিনে প্রতিটি দলই ভয়ংকর হওয়ার ক্ষমতা রাখে।’

সে ক্ষমতা রাখে নিশ্চয় বাংলাদেশও। মাঠে যার ঠিকঠাক প্রয়োগ করা চাই শুধু। পেসারদের নিয়ে যে কথাটি বারবার বললেন এ কিংবদন্তি, সেটি তো আসলে পুরো বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বলা। বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরুর দিনের পাঁচজন না, স্কোয়াডের ১৫ জন নিয়েই।

মন্তব্য