kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

আমার মেয়েদের সামর্থ্য অনেক

সামাজিক বাধা পেরিয়ে একদিন এ দেশের কিশোরীরা দাপট দেখাবে, কে ভেবেছিল? তেমনি কেউ ভাবেনি বাংলাদেশের কোনো নারী এএফসি ছাড়িয়ে ফিফায় কাজ করার সুযোগ পাবেন। অতটা পথ পাড়ি দেওয়া মাহফুজা আক্তার কিরণ দেখভাল করছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রাও। বাফুফের এ সদস্য উইমেন্স উইংয়ের প্রধান।

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার মেয়েদের সামর্থ্য অনেক

প্রশ্ন : ভোটে জিতে এএফসি-ফিফায় নিজের পদ অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং বাংলাদেশে কাজ করার তফাত কতটুকু? 

মাহফুজা আক্তার কিরণ : ধন্যবাদ। এটা আমার জয় নয়, আমার দেশের জয়। ফিফায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আমি দায়িত্ব পালন করি, এটা অনেক বড় গর্বের। তবে কাজের দিক দিয়ে দেখলে দুই জায়গার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ফিফা-এএফসিতে যে কারো কাজ, মেধা ও চেষ্টার মূল্যায়ন হয়, এটা সব সময় আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে ভালো কিছু করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশে সেই মূল্যায়নটা আমি পাই না।

প্রশ্ন : মহিলা ফুটবলের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্যের সঙ্গে আপনি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে?

কিরণ : ২০০৮ সাল থেকে আমি মহিলা ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুরু করেছিলাম কো-চেয়ারম্যান হিসেবে, মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বাচ্চু ভাই (সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু)। উনি যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে সহযোগিতা দিয়ে গেছি। অর্থাভাবটা বড় সংকটের জায়গা ছিল, চাইলেই কোনো উদ্যোগ নেওয়া যেত না। কিন্তু আমি বুঝেছিলাম, এভাবে চললে কোনো দিন মহিলা ফুটবল দাঁড়াবে না। ২০১২ সালে আমি বাচ্চু ভাইকে বলি, আপনার সম্মতি থাকলে আমি মহিলা ফুটবলের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, টাকা জোগাড় করতে পারলে করো। এরপর আমি প্ল্যান বাংলাদেশের সহযোগিতায় ফুটবল ডেভেলপমেন্টের জন্য কাজ শুরু করি। সেই কাজের কথা কী বলব, প্ল্যানের একজন বেতনভুক্ত কর্মচারীর মতো কাজ করেছি। ল্যাপটপ-মোবাইল সঙ্গে থাকত, তারা যখন যে রিপোর্ট চেয়েছে সেটা পাঠিয়েছি। এটাই ছিল তাদের শর্ত।

প্রশ্ন : গ্রামগঞ্জের যে মেয়েদের নিয়ে কাজ করেছেন, তারাই মূলত মহিলা ফুটবলকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছেন। খুব জানতে ইচ্ছা করছে, তাদের সঙ্গে শহুরে মেয়েদের পার্থক্য কী?

কিরণ : পার্থক্যটা হলো মানসিকতার। গ্রামের মেয়েদের ফুটবলমুখী করে রাখা যায়, শহরের মেয়েরা ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। তাই ঢাকায় দু-দুবার মহানগরী স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট করে বাদ দিয়েছি। কারণ তাদের ফুটবলে ধরে রাখা যায় না, পুরো টাকাই জলে যায়। যেমন ভিকারুননিসার পিংকি ও স্কলাস্টিকার জারা খুব ভালো খেলোয়াড় ছিল, কিন্তু জাতীয় দলের ক্যাম্পে তারা দু-একদিন এসে আবার ফিরে গেছে। আসলে শহরের মা-বাবারা লেখাপড়ার ওপর বেশি জোর দেন। আমি হলেও হয়তো তা-ই করতাম। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা গ্রামের মায়েরা তার সন্তানের উপার্জনের জায়গা খোঁজেন। আমিও চেষ্টা করেছি এই মেয়েদের ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখাতে। আমার কথা তারা অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে এবং ফুটবলের রাস্তায় হেঁটে সুফলও পাচ্ছে। তারা পরিবারকে সাহায্য করতে পারছে, তাদের জীবনমানের পরিবর্তন ঘটছে। এই মেয়েদের মাথায় ফুটবল ছাড়া কিছুই নেই।

প্রশ্ন : এবার বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট আয়োজনের কারণটা যদি বলেন।

কিরণ : প্রথমে মেয়েদের জন্য একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি আমরা। কারণ এ দেশে নারী ফুটবলের জাগরণ ঘটেছে। বাফুফে ছেলেদের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করে বঙ্গবন্ধুর নামে। শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে ওঠার পেছনে অনেকের অবদান আছে। সবচেয়ে বেশি অবদান নিশ্চয়ই তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের, তাই বঙ্গমাতা নামেই মেয়েদের টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি। তা ছাড়া বঙ্গমাতার নামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের একটি টুর্নামেন্ট আছে।

প্রশ্ন : বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে আপনার প্রত্যাশা কী?

কিরণ : আমার মেয়েদের আমি চিনি। তাদের কার কী ক্ষমতা আমি জানি, তাদের সামর্থ্য অনেকের চেয়ে বেশি। নেপালের সাফ দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। তখন আমার একটা দুর্ঘটনার খবর শুনে তারা খুবই ভেঙে পড়েছিল। কান্নাকাটিও করেছিল। নইলে এত খারাপ করত না তারা। আমি যেভাবে চিনি, তারা এবার দেশের মাঠে খুব ভালো পারফরম করবে। অন্তত ফাইনাল খেলবে তারা। তবে টুর্নামেন্টটা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, আগের মতো ৫-৬ গোলে জেতা কঠিন হয়ে যাবে। এর পরও বলছি, আমার মেয়েদের সামর্থ্য অনেক।

মন্তব্য