kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

সাফল্যের পথে ক্লান্তিহীন রব্বানী

গোলাম রব্বানীর হাত ধরে বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের বিপক্ষেই জয়ের লড়াইয়ে নামে। কিন্তু হারতে হয় বড় ব্যবধানে, প্রাণপণ লড়েও নেপালি বাধা ডিঙানো যায় না শুরুর সেসময়ে। তবে রব্বানী দমার পাত্র নন, বারবার একই মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন তিনি মেয়েদের। সেটা লড়াইয়ের।

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাফল্যের পথে ক্লান্তিহীন রব্বানী

২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৮—পাঁচ বছরের মধ্যে তিনবার বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সেরা কোচের স্বীকৃতি। কতটা সফল, প্রভাববিস্তারী হলে তা পাওয়া যায়। এক বছরে দুটি সাফ জিতিয়ে দেন যে কোচ, তাঁকে সেরা না বলে উপায় আছে! বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো এশিয়ার মূল মঞ্চে তুলে দেন যিনি, তাঁকে কি একপাশে সরিয়ে রাখা সম্ভব? কিংবা বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলেই প্রথম শিরোপাটি আসে যাঁর হাত ধরে, তাঁকে উপেক্ষা করা যায় না। এই সব কীর্তিই একজনের। ভাবা যায় তাহলে কোচ হিসেবে কতটা ঈর্ষণীয় জায়গায় পৌঁছে গেছেন গোলাম রব্বানী ছোটন?

সাফল্যের কথাগুলো কত সহজেই বলা হয়ে যায়। অনুল্লেখ থেকে যায় এর পেছনে নিঃশেষ হওয়া শ্রমের গল্প। সেই ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল নিয়ে তাঁর সাহসী লড়াই শুরু। প্রথম এসএ গেমস, প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ তাঁর হাত ধরেই। তখনো সেভাবে মেয়েরা আসতেই শুরু করেনি ফুটবলে। হাতে গোনা কয়েকজনই ঘুরেফিরে জাতীয় দলে। তাদেরই ঘষে-মেজে কি অসাধারণ ফুটবলারই তিনি তৈরি করেছিলেন। এ সময়ের মনিকা, মারিয়া, সানজিদাদের পূর্বসূরিই সেই সুইনু প্রু, অম্রা চিং, ফারহানা, তৃষ্ণা, সাবিনারা। ভারতের মেয়েদের ফুটবলের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের, সেই আশির দশকে খেলা শুরু করেছে নেপালও। গোলাম রব্বানীর হাত ধরে বাংলাদেশের মেয়েরা তাদের বিপক্ষেই জয়ের লড়াইয়ে নামে। কিন্তু হারতে হয় বড় ব্যবধানে, প্রাণপণ লড়েও নেপালি বাধা ডিঙানো যায় না শুরুর সেসময়ে। তবে রব্বানী দমার পাত্র নন, বারবার একই মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন তিনি মেয়েদের। সেটা লড়াইয়ের। আর সেই লড়াইয়েই একদিন জয় ঠিকই মুঠোয় ধরা দেয়। আর যখন তা পাওয়া শুরু হয়, সেই স্রোত ক্রমে শুধু বেগবানই হয়েছে। সাফের লড়াই থেকেই বাংলাদেশ এখন এশিয়ার প্রতিষ্ঠিত শক্তি সেই দুর্নিবার গতিতেই।

২০০৯-এ প্রথম চ্যালেঞ্জ হাতে নেওয়া রব্বানী সাফল্যের মুখ দেখেন পাঁচ বছর পর, ২০১৪-তে নেপালে অনূর্ধ্ব-১৪ এএফসি রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা দিয়ে। পরের বছর তাজিকিস্তানেও ট্রফিটা ধরে রাখে বাংলাদেশ। ২০১৪-তে নেপালকে প্রথম হারিয়ে ওই আসরের শিরোপা জয়। পরের বছর তাজিকিস্তানে ভারতকেও হারের স্বাদ দেয় লাল-সবুজের কিশোরীরা। এই ধারাবাহিকতাতেই অনূর্ধ্ব-১৬ দল এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নাম লেখায় মূল আসরে। এশিয়ার সেরা আট দলের সেই আসরেও নিজেদের ছাপ রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। গত বছর ধরা দেয় অধরা সাফ শিরোপাও। অনূর্ধ্ব-১৫ দল প্রথম সেই ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর একই বছর ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৮-র মেয়েরাও গড়ে সেই কীর্তি। এ বছরই আবার এএএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল আসরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ হয়ে সিনিয়র জাতীয় দলে একাধারে কাজ করছেন গোলাম রব্বানী। সারা বছর ছোটেন তিনি মেয়েদের নিয়ে। একের পর এক টুর্নামেন্ট, একটা টুর্নামেন্ট শেষ হতেই নতুন আসরের প্রস্তুতি— তাতে গোলাম রব্বানীর ক্লান্তি নেই। গত ছয় বছর ছুটছেন তিনি অদম্য গতিতে, কারণ সাফল্য পাচ্ছেন একের পর এক, উড়িয়েই চলেছেন জয়ের নিশান। এবার বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নতুন মিশন শুরু হচ্ছে তাঁর, আরেকটি প্রথমের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে গোলাম রব্বানী ছোটনের নাম।

মন্তব্য