kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

শিরোপায় চোখ বাংলার মেয়েদের

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট। যেখানে লাওস ও মঙ্গোলিয়া অচেনা প্রতিপক্ষ। বাকি আরব আমিরাত, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান খুব চেনা বাংলাদেশের মেয়েদের এবং তাদের বিভিন্ন সময়ে হারিয়েছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে। কোচের খুশির আরেকটি কারণ বোধ হয় বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট বলে। এটা পরীক্ষায় ‘কমন’ পড়ে যাওয়া প্রশ্নের মতোই এক ফুটবল পরীক্ষা।

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিরোপায় চোখ বাংলার মেয়েদের

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম রব্বানী ছোটন খুব খোশমেজাজে। প্রতিপক্ষের শক্তি-সামর্থ্যের প্রশ্ন উঠলেও বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এই কোচ অকুতোভয়ে বলছেন, ‘কোনো দলকে খাটো করে দেখা যাবে না। তবে আমরা ফাইনালে গিয়ে এই টুর্নামেন্টকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।’ মহিলা দলের সব সময়ের সঙ্গী বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলির কণ্ঠেও প্রতিপক্ষের জন্য বিশেষ শ্রদ্ধা, ‘এটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। কমজোরি দল বলে কিছু নেই।’

এটা নিয়মের কথা। বাস্তবতা হলো, টুর্নামেন্টের বাকি পাঁচ দলের কেউ ভারত-নেপালের মতো আতঙ্ক তৈরি করতে পারছে না বাংলাদেশ শিবিরে। তাই কোচের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ নেই। খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস হারানোর ভয় নেই। সবাই নির্ভীক চিত্তে প্রথম বঙ্গমাতা গোল্ডকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে ঐক্যবদ্ধ। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট। যেখানে লাওস ও মঙ্গোলিয়া অচেনা প্রতিপক্ষ। বাকি আরব আমিরাত, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান খুব চেনা বাংলাদেশের মেয়েদের এবং তাদের বিভিন্ন সময়ে হারিয়েছে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে।

কোচের খুশির আরেকটি কারণ বোধ হয় বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট বলে। এটা পরীক্ষায় ‘কমন’ পড়ে যাওয়া প্রশ্নের মতোই এক ফুটবল পরীক্ষা। এখানে বাংলাদেশের মেয়েরা সব সময় বাঘ, মেয়েদের ফুটবলে তাদের যত অর্জন সব এই বয়সভিত্তিক ফুটবলে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ এবং ১৮ ফুটবলের শিরোপাজয়ী তারা। এসব কীর্তিকেও ছাড়িয়ে যাওয়া অর্জন হচ্ছে, এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে খেলা। ২০১৭ সালের পর এবারও তারা খেলবে ফুটবলের সেই কঠিন মঞ্চে, যেখানে জাপান-কোরিয়ার মতো বিশ্বসেরারা খেলে। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে আসা দলগুলোর মধ্যে শুধু লাওসেরই আছে ওখানে খেলার অভিজ্ঞতা। এই নিক্তিতে মাপলে বাংলাদেশের জন্য লাওস বড় প্রতিপক্ষ। মঙ্গোলিয়ানরাও নারী ফুটবলে এগোচ্ছে, ভালো খেলছে তাদের সিনিয়র দল। তাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল গতকাল ঢাকায় পৌঁছে গেলেও পরীক্ষার কারণে তিন খেলোয়াড় আসবে এক দিন পর। এই দুটি দলের হিসাব আপাতত করতে হবে না বাংলাদেশকে। ওই দুটি দল আর তাজিকিস্তান খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আরব আমিরাত ও কিরগিজস্তান। এই দুই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড আছে গোল উৎসবের। তিন বছর আগে ঢাকায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইয়ে কিরগিজদের জালে ১০ গোল করেছিল মৌসুমী-মারিয়া। একই টুর্নামেন্টে তারা গত বছর আরব আমিরাতকে হারিয়েছিল ৭-০ গোলে। সুতরাং গ্রুপ পর্ব নিয়ে অত দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

এর পরও গোলাম রব্বানী ছোটন এতটুকু হালকা করে দেখতে চান না, ‘অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে আমরা জিতেছি আর এটা অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের টুর্নামেন্ট। এটাও মানতে হবে, আমাদের মতো অন্যরাও ফুটবলে উন্নতি করছে। সুতরাং প্রথম ম্যাচ থেকেই আমাদের সিরিয়াস থাকতে হবে।’ তাদের আসল খেলাটা হবে নক আউট রাউন্ডে। প্রত্যেক গ্রুপের দুটি সেরা দল খেলবে সেমিফাইনালে, এখানে একটু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে ছোটনের দল। তবে এই কোচ বলছেন, ‘গত দুই মাসে আমরা দুটি টুর্নামেন্ট খেলেছি মিয়ানমার ও নেপালে। মূল জাতীয় দলের খেলা হলেও এই মেয়েরাই খেলেছে। ওখানে যেসব ভুল-ত্রুটি হয়েছে সেগুলো নিয়ে প্র্যাকটিসে অনেক কাজ হয়েছে। রক্ষণের দুর্বলতা সারানোর চেষ্টা হয়েছে। এখন বলতে পারি, টেকনিক-ট্যাকটিকসে আমাদের মেয়েরা অনেক এগিয়েছে, এই টুর্নামেন্টে আমরা সেটা প্রমাণ করতে চাই।’

বয়সভিত্তিক ফুটবলে তাদের নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। তবে গত মাসে সিনিয়র জাতীয় দলের সাফ টুর্নামেন্টে নেপাল ও ভারতের কাছে হারে মেয়েরা একটু মুষড়ে পড়েছিল। সেখানে বয়সের অসমতা একটা কারণ ছিল। এখানে আর সেটা নেই। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়েরাই যথারীথি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হৃৎপিণ্ড হয়ে ম্যাচের ভাগ্য লিখবে। তাদের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নাজমা, সাজেদা ও সুলতানা। দলে যোগ-বিয়োগ যা-ই হোক, বয়সভিত্তিক দলের এই টুর্নামেন্ট লাল-সবুজের মেয়েদের জন্য একরকম সহজ পাঠ। তার সঙ্গে কোচের ওই হাসিখুশি চেহারা মেলালে বাংলাদেশ শুরু করবে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ফেভারিট হয়ে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমীও চাইছেন দেশের মাঠে মেয়েদের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে শ্রেষ্ঠত্বের আসন নিতে, ‘বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয়োজনে এটা প্রথম নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট। তা ছাড়া এটি হচ্ছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মায়ের নামে। সুতরাং আমরা প্রত্যেক ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সেরার সম্মানটা যেন দেশেই রাখতে পারি।’ বাফুফের আয়োজনে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট, এই প্রেক্ষাপটে মেয়েদের জন্য এটা নতুন চ্যালেঞ্জ। জিতলেই ছেলেদের টেক্কা দেবে মেয়ে ফুটবলাররা। ছেলেরা যে কখনো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাতে পারেনি বাংলাদেশকে!

মন্তব্য