kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

অলক্ষ্যে ছুটছে দেশের অ্যাথলেটিকস

এমন উন্নয়ন যে, এসএ গেমসেও এখন স্বর্ণপদকের ধারেকাছে থাকে না দেশের কোনো অ্যাথলেট। সাফ অঞ্চলের স্প্রিন্টে তো বাংলাদেশের সোনালি সময় ফুরিয়েছে কবেই। দিন দিন রূপ-রস-যৌবন হারিয়ে দেশের অ্যাথলেটিকস বিগতযৌবনা হলেও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি আলী কবীরকে এশিয়ান অ্যাথলেটিকস গালা অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে অ্যাথলেটিকস উন্নয়নের জন্য!

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোনো লক্ষ্য নেই, লক্ষ্য স্থির করারও চেষ্টা নেই অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের। একদল অ্যাথলেট নিয়ে ফেডারেশন কর্তারা গতকাল দোহা ছুটে গেছেন ২৩তম এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে।

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে কাতারের রাজধানীতে শুরু হচ্ছে এই অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে গেছেন বাংলাদেশের পাঁচ অ্যাথলেট। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইসমাইল ও বিকেএসপির হাসান মিয়া ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেবেন। বিকেএসপির জহির রায়হান লড়বেন ৪০০ মিটারে। নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার ১০০ মিটার এবং সোহাগী আক্তার ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেবেন। সঙ্গে কোচ হয়ে গেছেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ খান চৌধুরী এবং নির্বাহী সদস্য আবুল কালাম গেছেন ম্যানেজার হয়ে। এ ছাড়া গেছেন ফেডারেশন সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু ও কোষাধ্যক্ষ জামাল হোসেন, তাঁরা যোগ দেবেন এশিয়ান অ্যাথলেটিকস অ্যাসোসিয়েশনের আজকের কংগ্রেসে।

কংগ্রেস নিয়ে আমজনতার কোনো আগ্রহ নেই, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দেশের অ্যাথলেটরা কেমন করবেন, সেটাই হলো বড় প্রশ্ন। তাঁর জবাব হলো, এ রকম প্ল্যাটফর্মে গিয়ে কিছু করার সামর্থ্য নেই এ দেশের অ্যাথলেটদের। আগেও কখনো কিছু করতে পারেনি, এবারও পারবে না—এটাই নিয়তি। কয়েকজন বলেছেন, নিজের সেরা টাইমিং করতে চাই। এটাই বোধ হয় সবচেয়ে নিরাপদ উপায়, তাই এভাবে বলে সবাই তাত্ক্ষণিকভাবে পার পেয়ে যান। যার কিছু একটু করার সামর্থ্য ছিল সেই জহির রায়হানও যাওয়ার আগে আত্মসমর্পণ করে যান, ‘আমার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলছিল বলে প্র্যাকটিস করতে পারিনি। তা ছাড়া গত তিন-চার দিন আমার জ্বর ছিল। এর পরও আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’ এশিয়ান অ্যাথলেটিকসের মঞ্চে আসলে বাঙালি অ্যাথলেটের কিছু করার সাধ্য তেমন নেই।

তাঁদেরও বা দোষ দিয়ে লাভ কী। তাঁদের বিশেষভাবে তৈরি করারও কোনো উদ্যোগ নেয় না অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। এই আসর উপলক্ষে তাঁদের কোনো প্র্যাকটিস হয়নি। গত মাসের ১১ তারিখ এসএ গেমসের ট্রেনিং শুরু হয়েছিল বিকেএসপিতে, সেখানেই যা একটু প্র্যাকটিস হয়েছে তাঁদের। গেমসের অনিশ্চয়তায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায় ৫ এপ্রিল। অথচ অ্যাথলেট উন্নয়নে কত কথা বলেছিলেন ফেডারেশন কর্তারা। এশিয়ান অ্যাথলেটিকসের বড় কর্তাকে ঢাকায় এনে শোডাউন করেছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একজন ভালো বিদেশি কোচও জোগাড় করতে পারেনি ফেডারেশন। কিংবা সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটদের বাইরে ট্রেনিংয়ে পাঠাতেও পারেনি। করার মধ্যে একটি জাতীয় অ্যাথলেটিকস ও সামার মিট করে। এই করেই ফেডারেশনের অ্যাথলেটিকস উন্নয়ন সারা!

সে এমন উন্নয়ন যে, এসএ গেমসেও এখন স্বর্ণপদকের ধারেকাছে থাকে না দেশের কোনো অ্যাথলেট। সাফ অঞ্চলের স্প্রিন্টে তো বাংলাদেশের সোনালি সময় ফুরিয়েছে কবেই। দিন দিন রূপ-রস-যৌবন হারিয়ে দেশের অ্যাথলেটিকস বিগতযৌবনা হলেও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি আলী কবীরকে এশিয়ান অ্যাথলেটিকস গালা অ্যাওয়ার্ড দিচ্ছে অ্যাথলেটিকস উন্নয়নের জন্য!

মন্তব্য