kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে

চার তারার আলোর মাঝেও ইমরুল

মাসুদ পারভেজ   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চার তারার আলোর মাঝেও ইমরুল

স্রোতে কেউ ভেসে যান আবার কেউ থেকে যান। ভেসে যাওয়া কেউ কেউ যাওয়ার আগে তাঁকে মনে রাখার মতো ছাপও রেখে যান। যেমন রেখে গেছেন ইমরুল কায়েসও। ১৫ জনের বিশ্বকাপ দলে জায়গা না হলেও এটি অন্তত বলার সুযোগ নেই যে নিয়মিতই বাংলাদেশ দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকা এই ব্যাটসম্যান রান করে যাননি।

আর যাঁরা দলে আছেন, চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) অবশ্য তাঁদের মতোই অনুজ্জ্বল ছিলেন ইমরুলও। তাঁর দল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স সুপার লিগেই উঠতে পারেনি। সেরা ছয়ে খেলছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে বিশ্বকাপ দলে থাকা সিংহভাগ ব্যাটসম্যানও খুব উল্লেখযোগ্য কিছু এখনো করতে পারেননি। তাই দল ঘোষণার দিনও ব্যাটসম্যানদের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ শোনা গেছে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন থেকে শুরু করে দল সংশ্লিষ্ট আরো অনেকের কণ্ঠেই। অবশ্য একই সঙ্গে ভরসার কথাও উচ্চারিত হয়েছে। ২০১৫-র বিশ্বকাপের পর দেশের মাটিতে হওয়া পাকিস্তান সিরিজ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সাফল্যের খতিয়ানই সে ভরসা জোগাচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন মিনহাজুল, ‘আমরা কিন্তু ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ম্যাচ জিতেছি। এ জন্যই আমাদের প্রত্যাশা বেশি। এই দলের অবশ্যই সামর্থ্য আছে এক থেকে চারের মধ্যে থাকার।’

খেলোয়াড়দের ঝলমলে পারফরম্যান্সের যোগফলই দলীয় সাফল্যের সূচককে ঊর্ধ্বমুখী করেছে বলে ব্যাটসম্যানদের ফর্মহীনতার মধ্যেও গভীর আশাবাদ। তথ্য-পরিসংখ্যান সে আশার আলো দেখাচ্ছেও। সাফল্যের সোনারাঙা বছর ছিল ২০১৫। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে আসার পর সে বছর আরো ১২টি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ। যার ১০টিতেই জিতে সাফল্যের হার ৮৩ শতাংশ। পরের দুই বছর অবশ্য একটু ভাটার টান ছিল। ২০১৬-তে ৯ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩ জয়, ২০১৭-তে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলা বাংলাদেশ জিতেছিল ১৪ ম্যাচের মাত্র ৪টিতে। ২০১৮ সালে আবার জোয়ার, ২০ ম্যাচের ১৩টিতেই জেতা মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সাফল্যের হার ৬৫ শতাংশ। এই বছর নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচের সবকটিই হেরে আসা বাংলাদেশ ২০১৫ বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে খেলা ৫৮ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে ৩০টিতে।

নিউজিল্যান্ডে নিষ্প্রভ তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহরা ডিপিএল খেলেননি। চোটের জন্য ওই সফরে না যাওয়া সাকিব আল হাসানও আইপিএলে একটি ম্যাচ খেলার পর আর সুযোগ পাচ্ছেন না সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সেরা একাদশে। তবে গত চার বছরে এই চারজনের ব্যাটিং কিন্তু বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন দেখাতেই পারে। তাঁরা একেকজন যে ক্রমেই আরো পরিণত ব্যাটসম্যান হয়ে উঠছেন, পরিসংখ্যানই সে সাক্ষ্য দিচ্ছে। তামিমকে দিয়েই শুরু করা যাক। ৫৮ ম্যাচের মধ্যে তিনি খেলেছেন ৪৮টি। এর মধ্যে ৪৭ ইনিংসে ২৩৩৫ রান করা এই বাঁহাতি ওপেনারের গড় (৫৮.৩৭) তাঁর ক্যারিয়ার গড়ের (৩৬.০৮) চেয়ে ঢের বেশি। এর মধ্যে তামিম খেলেছেন, বাংলাদেশের জেতা এমন ২৫টি ম্যাচে তাঁর গড় (৮৪.৫২) দেখাচ্ছে আরো অবিশ্বাস্য। রান করেছেন ১৬০৬। তাঁর ১১টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির ৭টিই করেছেন ২০১৫-র বিশ্বকাপের পর। যার ৬টিই বিফলে যায়নি।

ব্যাটিং গড় যদি মূল বিবেচ্য হয়, তাহলে তামিমের ঠিক পরেই রাখতে হয় ইমরুলকে। ‘দলে এই আছেন তো এই নেই’ অবস্থার মধ্যেই থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে এমনকি ব্যাটিং করতে হয়েছে ছয় নম্বরেও। গত বছর এশিয়া কাপে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই জীবন-মরণ লড়াইয়ে ৭২ রানের হার না মানা ইনিংস খেলা ইমরুল খেলেছেন বাংলাদেশের ৫৮ ম্যাচের ২২টিতে। ১০৩৫ রান করেছেন ৪৯.২৮ গড়ে, যা তাঁর ক্যারিয়ার গড়ের (৩২.০২) চেয়ে বেশি। বিজয়ী দলের অংশ ইমরুল ১০ ম্যাচে ৭০.১১ গড়ে করেছেন ৬৩১ রানও। তাঁর চার সেঞ্চুরির তিনটি এসেছে গত চার বছরে, যার দুটি দলকে জেতানোয় রেখেছে ভূমিকা।

মুশফিকুর রহিমেরও বেশির ভাগ সেঞ্চুরি ২০১৫ বিশ্বকাপের পর। ছয় সেঞ্চুরির চারটি করেছেন এই সময়ে। এর মধ্যে তিনটিই দলকে জিতিয়েছে। বাংলাদেশের ৫৮ ম্যাচের ৫৫টিতে খেলা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানেরও ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে (৩৪.৫৬) বেশি গত চার বছরের গড় (৪৭.৩৪), রান করেছেন ১৯৪১। এর মধ্যে বিজয়ী দলের অংশ হিসেবে ৩০ ম্যাচে করা ১০৮৯ রানের গড় (৫৪.৪৫) আরো বেশি। গড় বেড়েছে সাকিবেরও। খেলেছেন ৫৮ ম্যাচের ৪৮টি। ৪২ ইনিংসে ১৪০৪ রান করেছেন ৩৬ গড়ে। যা তাঁর ক্যারিয়ার গড়ের (৩৫.০৭) চেয়ে একটু হলেও বেশি। তা আরো বেশি জয়ী দলের ব্যাটসম্যান সাকিবের। ২৪ ম্যাচের ২০ ইনিংসে ৪৪.০৫ গড়ে রান করেছেন ৭৪৯। মাহমুদ উল্লাহর খেলা ৫৫ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ২৮টিতে। ২২ ইনিংসে তিনি ৬৮২ রান করেছেন ৪৫.৪৬ গড়ে, যা ক্যারিয়ার গড়ের (৩৩.৩৯) চেয়ে অনেক বেশিই। ব্যাটিং গড়ের সঙ্গে স্ট্রাইক রেটও বেড়েছে সৌম্য সরকারের। এই দুটিই আবার কমেছে সাব্বির রহমানের। যাঁর এই দুটিই বেশ বেড়েছিল, সেই ইমরুলের বিশ্বকাপ দলেই জায়গা হয়নি।

তিনি না থাকলেও আছেন সময়ে নিজেদের আরো পরিণত করে দলের একেকজন ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে ওঠা তামিম, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদ উল্লাহরা। গত চার বছরে এই তারকাদের ব্যাটে উন্নতির লেখচিত্র তাই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভরসাস্থলও।

মন্তব্য