kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

প্রথম লেগে শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস

রাহেনুর ইসলাম, নীলফামারী থেকে   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম লেগে শীর্ষে বসুন্ধরা কিংস

দুই আবাহনী, পরিণতি একই! বসুন্ধরা কিংস নিজেদের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে আবাহনীকে হারিয়েছিল ৩-০ গোলে। গতকাল প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম আবাহনী। তাদেরও সেই ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দলটি। একটি করে গোল বখতিয়ার দুশোবেকভ, ড্যানিয়েল কলিনড্রেস ও মার্কোস ভিনিসিয়াসের। তিনটি গোলেই কোনো না কোনোভাবে অবদান ছিল ইমন মাহমুদের। প্রিমিয়ার লিগের নতুন একটি দলের নানা দুর্গম বাঁক চিনতেই চলে যাওয়ার কথা পুরো মৌসুম। সেখানে দুর্দান্ত দাপটে ১২ ম্যাচে ১১ জয় আর ১ ড্রতে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান সুসংহত করেছে নবাগত বসুন্ধরা কিংস। দুইয়ে থাকা আবাহনী লিমিটেডের পয়েন্ট ৩০। আর চট্টগ্রাম আবাহনী ১৪ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেছে ৮ নম্বরে। শেখ জামাল ও নোফেলের মধ্যে দিনের অন্য ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে।

প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর সন্তুষ্টি জানালেন বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান। তবে আরো বড় জয়ের প্রত্যাশা ছিল তাঁর, ‘আমরা মাত্র ২ পয়েন্ট হারিয়েছি। নতুন একটি দলের জন্য বিশেষ অর্জন। মার্কোস শেষ ম্যাচে এত বেশি মিস না করলে জয়ের ব্যবধানটা আরো বড় হতে পারত।’ কোচ অস্কার ব্রুজোনও চেয়েছিলেন আরো বড় জয়। তবে প্রথম পর্বটা দাপটে শেষ করায় খুশি তিনি, ‘আবাহনী-চট্টগ্রাম আবাহনী, দুটি একই নাম। দুই ম্যাচেই ৩-০ গোলের জয়টা কাকতালীয় বলব। প্রথম পর্ব শেষে ৩৪ পয়েন্ট পাওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। দ্বিতীয় পর্বে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারাটা চ্যালেঞ্জ এখন।’

ম্যাচের আগের দিন ফ্রিকিক আর কর্নার নিয়ে ঘাম ঝরিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা। ম্যাচে অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি একটিও। দশম মিনিটেই শর্ট কর্নার থেকে ড্যানিয়েল কলিনড্রেস ক্রস ফেলেন ডি-বক্সে। গোলমুখে যাওয়ার সময় মার্কোস ভিনিসিয়াসের টোকা যায় বাইরে। এর দুই মিনিট আগে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মতিন মিয়ার জোরালো শট ফেরে ক্রসবারে লেগে।

বিরতির আগে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে গোলের দেখা পায় বসুন্ধরা কিংস। ইমন মাহমুদ ডি বক্সের বাইরে থেকে বল দেন ড্যানিয়েল  কলিনড্রেসকে। নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এই বিশ্বকাপার খুঁজে নেন ফাঁকায় থাকা বখতিয়ার দুশোবেকভকে। ভেতরে ঢুকে নেওয়া বখতিয়ারের জোরালো শট ঠেকাতে পারেননি বদলি হয়ে নামা গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ। ৪১ মিনিটে চোট পাওয়া গোলরক্ষক নেহালের বদলি হয়ে নামেন তিনি।

৭৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কলিনড্রেস। ইমনের বাড়ানো বল ডি বক্সের বাইরে পান মার্কোস ভিনিসিয়াস। বিপত্সীমানায় সেই বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর একজন তুলে দেন কলিনড্রেসের পায়ে। ৮৪ মিনিটে মার্কোস ভিনিসিয়াসের গোলে নিশ্চিত হয় ৩-০ ব্যবধানের জয়। ইমনের বাড়ানো ক্রসে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ এই ব্রাজিলিয়ানের। লিগে এটা তাঁর সপ্তম গোল। অসাধারণ গোলের পর ইমনের পা নিজের ঊরুতে রেখে পরিচিত ভঙ্গিমায় করেন উদ্‌যাপন। শেখ কামাল স্টেডিয়ামে আসা হাজার পাঁচেক দর্শক করতালিতে মাতান তখন।

আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ‘হাই ব্যাক লাইন’ অর্থাৎ ডিফেন্ডারদের প্রায় মাঝমাঠের কাছাকাছি রেখে খেলেছিল নোফেল। তাতে পেছনে জায়গা পেয়ে ৩ গোল চট্টগ্রাম আবাহনীর। বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডাররাও খেলছিলেন প্রায় মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে। কিন্তু এবার পাল্টাআক্রমণে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তাদের ফরোয়ার্ডরা। বিরতির পর প্রায় মাঝমাঠে গোলরক্ষক এগিয়ে এলে বুদ্ধিদীপ্ত শট নেন গাম্বিয়ার মোমাদু বাহ। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় সেটা। আর একবার গোলরক্ষককে একা পেয়েও বাইরে শট মারেন নাইজেরিয়ার মাগালান।

মন্তব্য