kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

ভাগ্যবদলের আশায় আবাহনী

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাগ্যবদলের আশায় আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মিনার্ভা পাঞ্জাবের অ্যাওয়ে ম্যাচ নাকি দারুণ পয়মন্ত! এএফসি কাপে নিজেদের মাঠও আবাহনীর জন্য খুব পয়া নয়। তবে এবার যে অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নকে অন্য রকম দেখাচ্ছে। অতীতের ‘পয়া-অপয়া’ ওলটপালট করে নতুন ইতিহাস লেখাতে মরিয়া আকাশি-নীলরা।

আজ সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম হোম ম্যাচ আবাহনী জিতলেই তা হয়ে যাবে। এ পয়া-অপয়ার সূত্রপাত মিনার্ভা পাঞ্জাবের কোচ শচীন বাদাড়ের একটি মন্তব্যে, ‘অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোতে দল ভালো করেছে। তাই ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী।’ এর পাল্টা দিয়েছেন আবাহনী অধিনায়ক শহীদুল আলম, ‘এই ম্যাচ নিয়ে আমরা সবাই সিরিয়াস। তা ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আমরা কোনো ম্যাচ হারিনি, তাই মানসিকভাবে সবাই চাঙ্গা এবং আত্মবিশ্বাসী। এই ম্যাচের ৩ পয়েন্ট পেলে আমরা শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকব।’ গত ২ এপ্রিল নেপালের মানাং মার্সিয়াংদিকে হারিয়ে শুরু করা আবাহনী এ ম্যাচ জিতলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে শীর্ষে থাকবে।

ভারতীয় এ ক্লাব দলকে হারানো অত সহজ হবে না। রক্ষণে সবাই সুঠামদেহী বিদেশি, এই দেয়াল টপকে মিনার্ভার জালে বল পাঠানো বড় কঠিন। আবাহনীর কোচ মারিও লেমোসও এ চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন, ‘ওদের রক্ষণভাগ খুব ভালো, শারীরিকভাবেও তারা শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত। এটাই তাদের শক্তি। অন্যদিকে কিন্তু আমাদের আক্রমণভাগ ভালো। সর্বশেষ ৫ ম্যাচে তারা ১৩ গোল করে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। এটাও আমি জানি যে মিনার্ভার দুই বিগ সেন্টার ব্যাকের বিপক্ষে লং বল ফেলে খুব লাভ হবে না। তবে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা আছে, সেভাবেই খেলবে ছেলেরা। নিজেদের মাঠে আমরা ৩ পয়েন্ট চাই।’ কোচের এই চাওয়ার মূলে আছে দুই ফরোয়ার্ডের ফর্ম। সানডে চিজোবা ও নাবিব নেওয়াজ জীবন ৮ গোল করে নিয়ে এখন যৌথভাবে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ গোলদাতা। শেষ ১২ ম্যাচে আবাহনী হেরেছে মাত্র দুটো। তবে এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচে দুজনের কেউ গোল পাননি, আফগান ডিফেন্ডার মাসি সাইগানির দুর্দান্ত এক গোলে তারা হারিয়েছে নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবকে। তাই গোল নিয়ে আবাহনীর পর্তুগিজ কোচের তেমন দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর বিশ্বাস, সানডে-নাবিব-বেলফোর্টে গোলের আকাল পড়বে না। তবে শেখ জামালের বিপক্ষে সর্বশেষ লিগ ম্যাচে ৪-১ গোলে লিড নিয়েও শেষে ম্যাচ জেতা (৪-৩) কঠিন করে তুলতে দেখে কোচ একটু শঙ্কিত, ‘শেখ জামালের ম্যাচে যেটা হয়েছিল, সেটা মনোযোগের ঘাটতি। অথচ আগের দুই ম্যাচে আমরা কোনো গোল খাইনি। এ ম্যাচে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’

মিনার্ভার বড় দুর্বলতা গোল করায়, আগের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন দলটি এখন তাই আই লিগের ১০ নম্বরে! তবে আই লিগে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ গোল করা স্যামুয়েলকে শিলং লাজং থেকে ধারে নিয়েও এএফসি কাপে ভাগ্য বদলাতে পারছে না।

চোটের কারণে তপু বর্মণ এ ম্যাচে বাইরে থাকলেও আবাহনীর গোল ঠেকানোর শক্তি আছে। মারিও লেমোস জয় দেখছেন, ‘আমাদের ফরোয়ার্ড নিয়মিত গোল পাচ্ছে। এখন দরকার গোল না খাওয়া, এভাবে শুরু করতে পারলে আমাদের ম্যাচ জেতার খুব ভালো সুযোগ থাকবে।’

মন্তব্য