kalerkantho

রাহি-রাব্বির অন্য রকম আনন্দ

সামীউর রহমান   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাহি-রাব্বির অন্য রকম আনন্দ

আবু জায়েদ রাহি আর ইয়াসির আলী রাব্বি—দুজনই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সব শেষ আসরে ছিলেন একই দলে। চিটাগং ভাইকিংসে। এর পর ঢাকা লিগে দুজনের পথ দুই দিকে গেছে বেঁকে। রাব্বির দল ব্রাদার্স ইউনিয়ন খেলছে রেলিগেশন লিগে, রাহির প্রাইম দোলেশ্বর আছে সুপার লিগে। তবে বেলফাস্টের ফ্লাইটে দুজনই হয়তো বসবেন পাশাপাশি! কোনো ওয়ানডে না খেলেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়েছে আবু জায়েদ রাহির। ইয়াসির রাব্বিকে আপাতত নেওয়া হয়েছে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে। বোর্ড সভাপতির ইঙ্গিত, এই সিরিজে পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে বিশ্বকাপ দলে হতে পারে খানিকটা অদলবদল। সে ক্ষেত্রে রাব্বিকে হাতছানি দিচ্ছে বিশ্বকাপও।

চট্টগ্রামের ছেলে রাব্বির নামটা বন্দরনগরীর আরেক কৃতী ক্রিকেটার ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন যখন ভরা সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনাচ্ছেন, রাব্বি তখন বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে উত্তরা স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিং করছেন। মাঝবিরতিতে দলের ম্যানেজারের কাছে জানতে পারলেন, আয়ারল্যান্ড সফরের জন্য দলে ডাক পেয়েছেন। জানতে পেরে খুবই উত্ফুল্ল এবং আবেগাপ্লুত রাব্বি, ‘আলহামদুলিল্লাহ, খবরটা শুনে খুব ভালো লেগেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে মা-বাবাকে জানিয়েছেন, ‘বয়োজ্যেষ্ঠ যাঁরা আছেন, তাঁদের জানিয়েছি। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার।’ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সিরিজে দলে ডাক পেলেও আপাতত বিশ্বকাপ ভাবনাটা সরাতে চান মাথা থেকে, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবতে চাই না। আয়ারল্যান্ড সিরিজে একাদশে জায়গা পেলে নিজের সেরাটা দিতে চাই আর দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে চাই।’ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচের ১০ ইনিংসে রাব্বির সংগ্রহ ৪২৫ রান, শতরানের ইনিংস একটি, গড় ৮৫ আর স্ট্রাইক রেট ১০০-এর বেশি। ছয়ের সংখ্যা ১৬। খুব সম্ভবত লোয়ার মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তোলার ভূমিকাতেই রাব্বিকে পরখ করতে চাইছেন নির্বাচকরা। রাব্বিও জানালেন, ‘আমি কিন্তু পিঞ্চ হিটার নই। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করব। তবে বড় শট খেলতে পছন্দ করি, সেটা অনুশীলনও করি।’ একসময় চট্টগ্রামে নাজমুল আবেদীন নোবেলের কাছে তালিম নিয়েছেন, ঢাকার ক্রিকেটারদের গুরু নাজমুল আবেদিন ফাহিমের শরণও নিয়েছেন। হাইপারফরম্যান্স দলের হয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া রাব্বির কাছে নতুন নয় প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাটিং করাও। এখন রাব্বি মনোযোগ দিচ্ছেন চাপের মুখে রান করার সামর্থ্য বাড়াতে। জানেন সুযোগ হয়তো খুব বেশি মিলবে না আয়ারল্যান্ডে। যতটা মিলবে, সেটা কাজে লাগাতে হবে খুব ভালো করেই।

টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি খেললেও কখনো ওয়ানডে খেলেননি আবু জায়েদ রাহি। সেই আক্ষেপটা যে বিশ্বকাপেই পূরণ হয়ে যাবে, সেটা ভাবেননি সিলেটের এই পেসার। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার উইকেটটা নেওয়ার পর ওয়ানডে অধিনায়কের প্রশংসা পেয়েই রাহি খানিকটা আঁচ করতে পেরেছিলেন বিশ্বকাপভাগ্যের ব্যাপারে। কাল দুপুর ১২টার দিকেই জানতে পারেন বিশ্বকাপ দলে থাকার সুখবরটা, ‘দলে জায়গা পাওয়াটা অবশ্যই চমক ছিল। ভেবেছিলাম ২০ জনের ভেতর থাকব। যখন শুনলাম ১৫ জনে আছি, তখন অবাক হয়েছি।’ শৈশবে পেস বোলার ছিলেন রাহি, মাঝে হয়ে গিয়েছিলেন অফস্পিনার। এরপর আবার পেস বোলিংয়ে ফিরেছেন কোচ মিজানুর রহমান বাবুলের অনুপ্রেরণায়। জেমস অ্যান্ডারসনকে ‘আইডল’ মেনে এ ইংলিশ পেসারের অ্যাকশনেই বোলিং করেন রাহি, গতির জোরের চেয়ে সুইংয়ের ছোবলই তাঁর মূল অস্ত্র। রাহি মনে করেন, ইংল্যান্ডে কাজে লাগবে তাঁর বোলিং, ‘বল সুইং করানোর জন্যই আমাকে নেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডে আমার লক্ষ্যই থাকবে সুইং করানো আর লাইন লেন্থ ঠিক রাখা। সেখানকার কন্ডিশন আমার বোলিংয়ের জন্য আদর্শ।’ সিলেটের ছেলে রাহির নিজের শহরে ম্যাচ খেলতে হয়েছিল টিকিটপ্রত্যাশীদের বিড়ম্বনায়। ইংল্যান্ডেও সিলেটের বাসিন্দারা সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই বিশ্বকাপেও বোধ হয় টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় পিছু ছাড়বে না রাহির!

মন্তব্য