kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

জীবন্ত ফুটবল-ঈশ্বর

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবন্ত ফুটবল-ঈশ্বর

আহত বাঘকে খোঁচাতে নেই। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ দর্শকরা সেই ভুলটা করেছিলেন নিজেদের মাঠে। ২-০ গোলে হারের পর দুয়ো শোনা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পাঁচ আঙুল আর শূন্য দেখিয়ে বোঝাচ্ছিলেন, ‘আমি পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছি, অ্যাতলেতিকো পারেনি একটাও।’ অ্যাতলেতিকোর বুকে ছুরি চালিয়ে রোনালদো নিষ্ঠুর জবাবটা দিলেন ঠিক সময়ে। বড় তারকারা যে বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠে, আরো একবার বোঝালেন অসাধারণ হ্যাটট্রিকে। এ জন্য ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে মিলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা রিও ফার্ডিনান্ড বিটি স্পোর্টকে জানালেন, ‘ও জীবন্ত এক ফুটবল-ঈশ্বর। ও যা করেছে, তা তো ছেলেখেলা। কল্পনা করতে পারেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে যা যা রেকর্ড গড়া সম্ভব সবই এখন ওর। এমনকি মেসির সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটাও।’

এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর হ্যাটট্রিক আট আর গোল ১২৪টি। লিওনেল মেসিরও মর্যাদার টুর্নামেন্টটিতে হ্যাটট্রিক আটটি। অথচ এই রোনালদো নিষ্প্রভ ছিলেন এত দিনে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবারের টুর্নামেন্টে বল জালে খুঁজে পেয়েছিলেন শুধু একবার। তাঁকে ঘিরে দেখা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ফিকে হয়ে গিয়েছিল শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারায়। দুরন্ত হ্যাটট্রিকে স্বপ্নটা উজ্জ্বল করলেন রোনালদোই। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখানোর পর এই পর্তুগিজের সন্তুষ্টি, ‘জুভেন্টাস এ জন্যই এনেছে আমাকে। তাই আমি খুশি এমন একটা জাদুকরী রাত উপভোগ করায়। আমরা এখনো কিছু জিতিনি, কিন্তু এই জয়টা গর্ব করার মতো। দেখিয়েছি জুভেন্টাস সঠিক কক্ষে আছে।’

প্রথম লেগ জয়ের উদ্‌যাপনটা অ্যাতলেতিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে করেছিলেন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে। রোনালদোও ঠিক তাঁর ভঙ্গিতেই করেছেন হ্যাটট্রিক উদ্‌যাপন! গ্যালারিতে তাঁর বান্ধবী তখন খুশির কান্নায় চোখ ভাসাচ্ছেন। ম্যাচ শেষে রোনালদোর ছোটবেলার একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জর্জিনো লিখেছেন, ‘ঈশ্বর জানেন, ঈশ্বর বিশ্বাস করেন ফুটবলবিশ্ব তোমার। আমরা তোমাকে ভালোবাসি।’

রোনালদোর ছেলে ও দর্শকরা তৃতীয় গোলের পর হয়ে পড়েছে উন্মাতাল। কিন্তু ম্যাচ শেষে রোনালদো শান্ত, ‘এটা বিশেষ এক রাত। শুধু আমার গোলের জন্য নয় বরং দলের দৃঢ় মানসিকতার জন্য। এটাই চ্যাম্পিয়নস লিগের মানসিকতা। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ অসাধারণ দল আর কঠিন প্রতিপক্ষ। আমরাও একই রকম, যা দেখিয়েছি ম্যাচটিতে। যোগ্য দল হয়ে কোয়ার্টারে আমরা।’ এমন সাফল্যে বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান ও জুভেন্টাসের সাবেক তারকা দেল পিয়েরোর টুইট, ‘অভিনন্দন জুভ!’

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কাছেই ম্যাচ হারাটা মেনে নিলেন অ্যাতলেতিকো তারকা আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, ‘অসাধারণ খেলোয়াড় রোনালদো। প্রথম লেগে আমরা ওকে সুযোগ দিইনি। এবার কাজে লাগিয়েছে তিনটিই। আমি অপরাধবোধ করছি কারণ ম্যাচের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি। আমরা আসলে ম্যাচেই ছিলাম না।’ ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোয় ফাইনাল এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের। নিজেদের মাঠে হতে চলা ফাইনালের অনেক আগে ঝরে পড়ল অ্যাতলেতিকো। এতে হতাশ হলেও খেলোয়াড়দের দোষ দিচ্ছেন না কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। তাঁর অশ্লীল ভঙ্গির জবাব দেওয়ায় রোনালদোর সমালোচনা করেননি সিমিওনে, ‘আমার মতো রোনালদো নিজের আবেগ প্রকাশ করেছে, ব্যাপারটার এখানেই শেষ। ওরা হেডে একই রকম দুটি গোল পেয়েছে। অ্যাতলেতিকোর খেলা সবচেয়ে জঘন্য ম্যাচ নয় এটা, খেলোয়াড়দের দৃঢ়তায় কোনো ফাটল দেখিনি। প্রথম লেগে আমরা ওদের আঘাত করেছি আর এবার করল জুভেন্টাস। আমাদের চেয়ে ভালো খেলাতেই জিতেছে জুভেন্টাস।’ এএফপি

মন্তব্য