kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

সাকিবের সঙ্গে ফিরলেন সৌম্য ও নাঈম

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাকিবের সঙ্গে ফিরলেন সৌম্য ও নাঈম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অপেক্ষা ছিল দুই মহাতারকার জন্য। ইনজুরি কাটিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে খেলতে পারবেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল? সে অপেক্ষার অবসান কাল মিশ্র সংবাদে। ২২ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের ঘোষিত দলে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন সাকিবের। নতুন করে ইনজুরিতে পড়ায় ১৩ সদস্যের এই স্কোয়াডে নেই তামিম।

দুজনের ইনজুরি এশিয়া কাপ চলাকালীন সময়ে। প্রথম ম্যাচের পরই যে কারণে ছিটকে যান তামিম। আর সাকিবের আঙুলের ইনজুরি ভয়াবহ রূপ নেয় সুপার ফোরে। যে কারণে তড়িঘড়ি দেশে ফেরত আসেন। আঙুলে পুঁজ জমে পড়ে যান ভয়ংকর অবস্থার ভেতরে। একটু ভালো হতেই চিকিৎসার জন্য যান অস্ট্রেলিয়ায়ও। অস্ত্রোপচার ছাড়া ইনজুরি সারানোর কোনো উপায় আছে বলে তখন মনে হচ্ছিল না। কিন্তু সুখবর নিয়ে দেশে ফেরেন সাকিব। অস্ত্রোপচার আপাতত না করলেও চলছে। তাই বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকেই যে খেলতে পারবেন, এত দ্রুত সুস্থতার কথা ভাবা যায়নি।

বরং তামিমকে নিয়ে আশাবাদ ছিল বেশি। পুনর্বাসনে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় ছিলেন তিনি। নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন পুরোপুরি। কিন্তু হঠাৎ সাইড স্ট্রেইনে এই ওপেনার প্রথম টেস্টের দল থেকে ছিটকে যান বলে জানান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‘হঠাৎ সাইড স্ট্রেইন হয়ে গেল তামিমের। ২৩ নভেম্বর ওর রিপোর্ট পাব। সেটা দেখে বোঝা যাবে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবে কি না। ওকে না পাওয়াটা দুঃখজনক। আবার সাকিবকে যে ফেরত পাচ্ছি, এটি আমাদের জন্য দারুণ সুসংবাদ।’

প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করা হয়েছে ১৩ সদস্যের। ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের জন্য ছোট করা হয়েছে স্কোয়াড; যেন বাকিরা খেলতে পারেন ওই ফার্স্ট ক্লাস টুর্নামেন্টে। সদ্য শেষ হওয়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দল ছিল ১৫ সদস্যের। সেখান থেকে বাদ পড়েছেন পাঁচজন—ব্যাটসম্যান লিটন দাশ, নাজমুল হোসেন, পেসার শফিউল ইসলাম, আবু জায়েদ এবং বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম। আর সাকিবের সঙ্গে টেস্ট স্কোয়াডে প্রত্যাবর্তন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার এবং অফস্পিনার নাঈম ইসলামের।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াডে পেস বোলার ছিলেন চারজন—মুস্তাফিজুর রহমান, খালেদ আহমেদ, শফিউল ও জায়েদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য বাদ পড়েন শেষ দুজন; অন্য কোনো পেসারকেও ডাকা হয়নি দলে। ওদিকে স্পিনার হিসেবে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান তো আছেন আগে থেকেই। আর নাজমুল বাদ পড়লেও ফিরেছেন সাকিব ও নাঈম। ১৩ সদস্যের স্কোয়াডে চারজন স্পেশালিস্ট স্পিনার—ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের রণকৌশল পড়ে নেওয়া যায় স্কোয়াডের দিকে তাকালেই। ওই স্পিনের যে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চাইবে স্বাগতিকরা, নাঈমকে দলে নেওয়ায় সেটি কারণ বলে জানান মিনহাজুল, ‘আমাদের মিরাজ ও তাইজুল তো রয়েছেই। সাকিব ফিরল বেশ কিছুদিন পর। ব্যাকআপ হিসেবে তাই নাঈমকে নিয়েছি। যেন স্পিনারদের কারো হঠাৎ কিছু হলেও আমরা পরিকল্পনা থেকে না সরি।’

বাদ পড়াদের মধ্যে দুই বোলার জায়েদ ও নাজমুল সিলেটের প্রথম টেস্টের একাদশে ছিলেন। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুলও তাই। কিন্তু পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়ায় বাদ পড়েন ঢাকা টেস্টের একাদশ থেকে। আর এবার তো বাদ পড়লেন দল থেকেই। লিটন খেলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই। ৯, ২৩, ৯ ও ৬ রানের চারটি হতাশাজনক ইনিংসের খেসারতে বাদ পড়তে হলো তাঁকে। তুলনায় ওপেনিং সঙ্গী ইমরুলকে বলা যায় ভাগ্যবান। ৫, ৪৩, ০ ও ৩ রানের চার ইনিংস সত্ত্বেও জায়গা ধরে রাখেন দলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘোষিত স্কোয়াডে স্পেশালিস্ট ওপেনার শুধু দুজন—ইমরুল এবং জাতীয় লিগে দারুণ ব্যাটিং করা সৌম্য। সর্বশেষ ১০ টেস্টের ২০ ইনিংসে ফিফটি না থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম টেস্টে ইমরুলই তাই হয়তো নামবেন ওপেনিংয়ে। তাঁর টিকে যাওয়ায় অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল, ‘আমাদের দুই ওপেনারই বেশ খারাপ করেছে। কিন্তু ইমরুলের যেহেতু ৪৩ রানের একটি ইনিংস আছে এবং ওর অভিজ্ঞতাও বেশি—সে কারণে ওকে রেখে দিয়েছি।’

টেস্ট ক্যারিয়ার বাঁচানোর আরেকটি সুযোগ পেলেন তাই ইমরুল কায়েস।

স্কোয়াড : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, আরিফুল হক, মাহমুদ উল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, নাঈম হাসান।

মন্তব্য