kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

আমার খুশিটা দলের সবাই উদ্‌যাপন করবে

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার খুশিটা দলের সবাই উদ্‌যাপন করবে

পিতৃত্ব, সেঞ্চুরি, দলের জয়; সব একই রাতে উদ্‌যাপন করলেন ইমরুল কায়েস। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন তাঁর ‘সব পাওয়ার ম্যাচ’-এর অনুভূতির কথা

 

নতুন শুরু

যখন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাই তখনই সৌভাগ্যবান মনে করি। দেশের হয়ে খেলা অনেক সম্মানের। যখনই সুযোগ পাই তখনই শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। কখনো সফল হই, কখনো হই না। তবে আমি আমার পরিশ্রম এবং সব কিছু শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি।

সেরা ইনিংস

এটা আমার ক্যারিয়ারের ভালো একটা ইনিংস হিসেবে রাখব। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষের ইনিংসটাই সেরা। অনেক দরকার ছিল এ রকম একটা ইনিংসের। শেষ পর্যন্ত নিজে ভালো খেললে দলের কাজ হয়ে যায়। আজকের ইনিংসটির জন্য বাংলাদেশ দল ভালো করেছে। এটার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।

ইনিংসের পরিকল্পনা

শুরুটা কিন্তু যা চাচ্ছিলাম তা হচ্ছিল না। একটা সময়ে রান পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ড্রাইভ খেলা যাচ্ছিল না। যেকোনো সময় বল লাফ দিচ্ছিল। আমি যখনই চিন্তা করছিলাম যে স্ট্রোক খেলব, তখনই একটা করে উইকেট পড়ছিল। তখন আবার নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলাম। আমি চেষ্টা করছিলাম শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করি, দেখি কী হয়। আমি ব্যাটিং করে বুঝছিলাম ২৪০-৫০ ওখানে ভালো স্কোর। তাই ওভাবেই ব্যাটিং করছিলাম। এ জন্য শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছি, ওভাবেই সফল হয়েছি।

অভিনব উদ্‌যাপন

আমার সন্তান হয়েছে। আমার সন্তানের জন্য শতরানটা উৎসর্গ করেছি।

ওপেনিংয়ে ফেরা

স্বস্তিদায়ক না...আসলে যখন নামি তখন অতসব চিন্তায় থাকে না। সব সময় খেলাটা উপভোগ করার চেষ্টা করি। সব সময় সুযোগটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। এটাই আসলে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিই।

ম্যাচ জেতানো শতক

অবশ্যই। আপনি শতরান করে কিংবা অন্য রকম একটা ইনিংস খেলে যদি দলকে জেতাতে পারেন তাহলে খুব ভালো লাগে। আমার কাছে মনে হয়, আজকে শতরান করেছি এবং একটা সংকটপূর্ণ সময়ে ইনিংসটাকে বড় করেছি। আমাদের একটা ভালো সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে। এটা অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের বিষয় এবং আমার খুশিটা দলের সবাই উদ্‌যাপন করবে।

কামব্যাক

এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। আমি ভালো খেলেছি, এটাই বড় ব্যাপার। যখনই সুযোগ পাই, চেষ্টা করি ভালো খেলার। বাকিটা যে যেভাবে নেয়, তাদের ব্যাপার। আমি চেষ্টা করি সুযোগ পাওয়ার জন্য।

ধারাবাহিকতা

ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে আপ অ্যান্ড ডাউন থাকবেই। আমারটা হয়তো একটু ভিন্ন হয়ে গেছে। অন্য কেউ এসে ভালো খেলে ফেলেছে, এ জন্য আমার হয়নি। এখন আমি ওগুলো নিয়ে চিন্তা করি না। এখন ভাবি যে যখনই সুযোগ আসবে, দেশের হয়ে খেলায় ভালো অনুভূতি কাজ করে, সুযোগটার জন্য তাই অপেক্ষা করি এবং কঠোর পরিশ্রম করি।

চাপ উপভোগ

আমি একটি ব্যাপার বিশ্বাস করি, কেউ যদি কঠোর পরিশ্রম করে, সে তার ফল পাবেই। আমি মুশফিককে দেখে অনেক কিছু শিখি। মুশফিক যেভাবে কষ্ট করে, ও কিন্তু কষ্ট করেই আজকের মুশফিকুর রহিম হয়েছে। আমি সব সময় এটা অনুসরণ করার চেষ্টটা করি। বিশ্বাস করি যে কষ্ট করলে তার ফল পাওয়া যায়।

বাইরে থাকার সময়

আমার সঙ্গে অনেক ক্রিকেটারের একসঙ্গে অভিষেক হয়েছে, খেলেছে। তারা এখন দৃশ্যপটেও নেই। আমার কাছে মনে হয় যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, আমার ক্যারিয়ার এত দ্রুত শেষ হতে পারে না। আমি সব সময় নিজেকে প্রস্তুত রাখি। যত দিন খেলব, জাতীয় দলে খেলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখি। সেদিন হয়তো জাতীয় দলে খেলার চান্স থাকবে না, নিজেই ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নেব।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা