kalerkantho


অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দিতে হবে

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



অবকাঠামোগত উন্নয়নে নজর দিতে হবে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেমিনারের বিষয় ‘কোন পথে দেশের ফুটবল’। এ আলোচনায় ফুটবল পরিচালনায় নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির পাশাপাশি উঠে এসেছে সমাধানের পথও। সমাধান হলো, ফুটবল নিয়ে নতুন করে ভাবা। তৃণমূল থেকে শুরু করে ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে উন্নয়নের ওঠা।

ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম সেন্টার, বাংলাদেশের উদ্যোগে গতকাল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোন পথে দেশের ফুটবল’ শীর্ষক এক সেমিনার। র‍্যাংকিংয়ে ১৯৪তম অবস্থানে থাকা ফুটবল যে আসলে কোনো পথে নেই, সেটা পরিষ্কার। ডেইলি স্টারের ক্রীড়া সম্পাদক আল-আমিন দেশের ফুটবল অবকাঠামোয় সমস্যা দেখেন, ‘আমাদের ঢাকাকেন্দ্রিক ফুটবল অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ফুটবলে আগের মতো ভালোবাসা নেই এবং ফুটবলকে ভালোবাসার সংগঠকরাও নেই। ভালোবাসা গিয়ে এখন এসেছে তথাকথিত পেশাদারি।’ অবকাঠামোর মধ্যে চলে আসে অনেক কিছু। তৃণমূল, যুব ফুটবল উন্নয়ন এবং ঢাকার বাইরের ফুটবল—সবই। কোনো জায়গায় ফুটবলের দিনবদলের চিহ্ন দেখছেন না আলোচকরা। চেয়ারম্যান ইশতিয়াক রেজার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাহী পরিচালক দীপ আজাদ।

জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রুহুল আমিন তরফদার ফুটবলের দুর্দশায় বাফুফের পাশাপাশি সবার দায় দেখেন। তবে দুঃখ করে বলেন, ‘সর্বশেষ বাফুফে নির্বাচনের পর কমিটিতে গিয়ে সবাই ইশতেহারের কথা ভুলে গেলেন।’ চ্যানেল আইয়ের ক্রীড়া সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীমের ভরসা টুটে গেছে সাবেক তারকায়, ফুটবলের চেহারা ফেরানোর জন্য যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা সবাই দেশের বড় বড় তারকা ছিলেন। তাঁদের হাতেই ফুটবল পৌঁছে গেছে তলানিতে, এটাই বড় দুঃখের। এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে, ভালো ফুটবলার মানে ভালো সংগঠক নয়।’ চট্টগ্রামের কৃতী সংগঠক এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নেতা সিরাজ উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বাফুফের এই কমিটিতে আর ভরসা পান না, ‘এ কমিটি ফুটবলকে নিচে নামানোর যে দক্ষতা দেখিয়েছে, সেটা আসলে গবেষণযোগ্য বিষয়। আগামী নির্বাচনে তারা অবশ্যই বর্জনীয়। ফুটবল নিচে নামছে অথচ তিন-চার স্তর পার করে ফুটবল ফেডারেশনে ঢুকতে হয়!’ ফেডারেশনের কর্তাদের মধ্যে ফুটবলের চিন্তা-চেতনা দেখেন না সাবেক তারকা এবং শেখ জামাল ধানমণ্ডির কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন চুন্নু। আরেক সাবেক তারকা হাসানুজ্জামান বাবলু প্রশ্ন তোলেন ফিফার দেওয়া একাডেমির সাত লাখ ডলার নিয়ে, ‘ফিফা সাত লাখ ডলার দেওয়ার পরও বাফুফে একাডেমি কেন সাত মাস পর বন্ধ হয়ে যাবে?’ ফেডারেশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কৃতী সংগঠক কামরুন্নাহার ডানা, সাংবাদিক অঘোর মণ্ডল ও মোজাম্মেল হক চঞ্চল। সাবেক কোচ ও তারকা ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপুর চোখে ফুটবলের এ দৈন্যতায় মিডিয়ার দায়ও দেখেন, ‘এ দুর্দশার জন্য আমরা সবাই দায়ী। মিডিয়াও দায়ী। মেয়েদের ম্যাচ জেতার পর টিভি ক্যামেরা ছোটনকে (কোচ) বাদ দিয়ে কেন ম্যানেজার বাবুর ওপর ধরে, আমি বুঝি না।’

তবে সাংবাদিক সাইদুর রহমান শামীমের মতো দেশের অন্যতম সেরা কোচ মারুফুল হক ফুটবল উন্নয়নে অর্থকে বড় বাধা মনে করেন না, ‘বিশ্বকাপে খেলা টোগোর মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়েও কম, আইভরি কোস্টের হয়তো আমাদের সমান। আসলে উন্নতির জন্য টাকা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা আমাদের পরিকল্পনায়।’ এনটিভির ক্রীড়া সম্পাদক নাসিমুল হাসান দোদুল ফুটবলকে একটি পণ্য হিসেবে দেখে বলেন, ‘ফুটবল ব্যবসা সফল করতে হলে লাগবে শুধু ভালো লিডারশিপ।’ কালের কণ্ঠ’র ডেপুটি এডিটর মোস্তফা মামুন দিয়েছেন নতুন প্রেসক্রিপশন, ‘বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে ফুটবলকে বের করে ঢাকার ক্লাবগুলোর নিজেদের মাঠে নিয়ে যাওয়া যায় কি না দেখতে হবে। ক্লাবের মাঠ ছোট হলেও ওখানে খেললে স্থানীয় লোকজন নিজেদের দল হিসেবে ভাবতে শুরু করবে। মানুষের মধ্যে ‘আমার দলের’ বোধ জাগানোটা জরুরি।’ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠন করেন সাংবাদিক সনৎ বাবলা।



মন্তব্য