kalerkantho



পর্দা উঠল অফুরন্ত ‘এনার্জিতে’

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



পর্দা উঠল অফুরন্ত ‘এনার্জিতে’

জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : তিনি রাষ্ট্রপতি নাকি নায়ক! গুলিয়ে ফেলছিল গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামের দর্শকরা। ভিডিওতে দেখানো হলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য বের হলেন প্রথাগত নিয়মে প্রটোকল মেনে। হঠাৎ গাড়ি থামালেন রাস্তায়, চেপে বসলেন বাইকে! কখনো উড়ে, কখনো গলি দিয়ে ঘুরে, কখনো গতি থামিয়ে শিশুদের রাস্তা পার করিয়ে বাইক চালিয়েই স্টেডিয়ামে! এমন অপ্রত্যাশিত কিছু দেখে দর্শকদের চক্ষু চড়কগাছ। ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় এ রাষ্ট্রপতিই ঘোষণা করলেন ১৮তম জাকার্তা, পালেমবার্গ এশিয়ান গেমসের। এবারের আসরের স্লোগান ‘এনার্জি অব এশিয়া’। শুরুতেই যে এনার্জি এনে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো

 সেটা থাকল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানজুড়েই। আর শেষটা ইন্দোনেশিয়ান ব্যাডমিন্টন কিংবদন্তি সুসি সুশান্তির মশাল প্রজ্বালনে। এখন ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ৪৫ দেশের ১১ হাজারের বেশি খেলোয়াড়ের ৪৬৫ ইভন্টে পদকের লড়াই।

এসএ গেমসে সোনা জয়ের পর মাবিয়া আক্তারের কান্নায় ছিল দেশপ্রেমের অনন্য নিদর্শন। সেই মাবিয়ার হাতে এবার দেশের পতাকা। কী করবেন এই ভারোত্তোলক? পতাকার ভার বইবার সম্মানে অঝোরে কাঁদবেন না তো? এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী মার্চপাস্টে বাংলাদেশের নাম আসতেই বাংলাদেশিদের নজর তাঁর দিকে। গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে যাওয়ার আগেই বলছিলেন, ‘আমি তো ১৮০ কেজি পর্যন্ত তুলতে পারি। পতাকাটার ভার এর চেয়ে অনেক বেশি!’ পতাকা নিয়ে হাঁটার সময় কেমন লাগছিল, জানার উপায় নেই। তবে ঠিকরে বের হচ্ছিল সম্মান আর গর্ববোধ। মাবিয়ার সঙ্গে থাকা বাংলাদেশি অন্য খেলোয়াড়দের চোখে-মুখেও তাই। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতেই তাঁরা জাকার্তায়। এখন পতাকাটা আরো উঁচুতে তুলে ধরার পালা।

 সাঁতারের মাহফিজুর রহমান সাগর, হকির আশরাফুল ইসলামদের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং মিন, চীনের সানরা মার্চপাস্টে হাঁটছিলেন দেশের পতাকা উড়িয়ে। দুই কোরিয়ার এক পতাকা নিয়ে আসা দেখে করতালিতে স্বাগত জানায় গ্যালারি। জাকার্তা আর পালেমবাংয়ের এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আয়োজকরা। ইনচিওনের সঙ্গে বাজেটে না কুলালেও চেষ্টাটা ছিল শুরু থেকে। দর্শকরা উপভোগও করলেন সেটা।

জিবিকের মূল মঞ্চের পেছনে তৈরি করা হয়েছিল ২৬ মিটার উঁচু দ্বীপ। ফুল, পাহাড়, প্রকৃতি মিলেমিশে একাকার। ছিল কয়েক হাজার গ্যালন পানি দিয়ে তৈরি ঝরনাও। হাজারো দ্বীপের দেশে এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয় এ ধরনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। পারফরমাররা করলেনও সেটা। পুরো ভরা গ্যালারি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছে ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত সংগীতশিল্পী আনগুন মঞ্চে আসার পর। তাঁর নাম ঘোষণা হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো গ্যালারি। পাশাপাশি মাতিয়েছেন রাইসা, তুলুস, কনডোলোগিটরাও। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন হার্টি পুরবা। একসময় ম্যাডোনার কোরিওগ্রাফার থাকা উইশুনুতামা ছিলেন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটা তাই হলো উপভোগ্য। ‘এনার্জিতে’ ভরপুর। এশিয়ান অ্যাথলেটদের মিলনমেলায় এই প্রাণশক্তিই দেখতে চায় এখন সবাই।



মন্তব্য