kalerkantho



সেলেসাও ক্যাম্পে স্বপ্নের ওড়াউড়ি

২৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



সেলেসাও ক্যাম্পে স্বপ্নের ওড়াউড়ি

বয়স কতই বা হবে! পাঁচ-ছয় বছর বড়জোর। গায়ে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি। মাথাভর্তি চুল আর নিষ্পাপ চেহারা। শিশুটি কাঁদছে! বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়া সাম্বা তারকাদের চোখের সামনে দেখার স্বপ্ন যে ওর পূরণ হয়নি!

এমন অনেকেই কান্নার ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে এখন অন্তর্জালের দুনিয়ায়। আর গ্রানিয়া কোমারি ট্রেনিং কমপ্লেক্সের ঠিক বাইরে শত শত মুখের ছবি। ওখানে আশার ওড়াউড়ি আছে, হতাশার আঁকিবুঁকিও। আবার চোরা আতঙ্কের স্রোতও তো খেলা করে মুখের রেখায়। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পের বাইরে জড়ো হওয়া এই জনতার মাঝে যদি হঠাৎ হুড়োহুড়ি বেধে যায়! কী বিপর্যয়ই না হবে তখন!

ভেতরে অনুশীলন করছেন নেইমার, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, ফিলিপে কৌতিনিয়োরা। তাঁদের একনজর দেখার জন্য এই প্রচণ্ড ভিড়। যা সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের। বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে নিবিড় অনুশীলন চান লিওনার্দো বাচ্চি তিতে। ওখানে দলে দলে সমর্থকদের ঢোকা নিশ্চয়ই অনুমোদন করবেন না। ভক্তরাও তা জানে, কিন্তু তাদের মন মানলে তো! ঠিকই কমপ্লেক্সের বাইরে হাজির তারা দল বেঁধে। এক-দুজন করে শয়ে শয়ে। তাদের চাপে হুড়কো দেওয়া দরজা ভেঙে পড়ার দশা। ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সামনের সারিতে থাকা শিশুদের কোলে করে ভেতরে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে নিরাপত্তার স্বার্থে। আর এত এত সমর্থকদের মধ্যে ভাগ্যবান কিছু লোক পেয়েছে কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকে নেইমারদের অনুশীলন কাছ থেকে দেখার সুযোগ। তবে সংখ্যাটা হাতে গোনা কয়েকজনের। বাকিদের জন্য বরাদ্দ ওই হতাশা। হাপুস নয়নে কান্নায় ভেসে যেতে দেখা গেছে তাই অনেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থককে।

ওদিকে গ্রানিয়া কোমারিতে ব্রাজিল কোচ তিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কিংবদন্তি মারিও জাগালোকে। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপ জিতেছেন যিনি; এরপর কোচ হিসেবে ১৯৭০ এবং সহকারী কোচের ভূমিকায় ১৯৯৪ আসরে। রাশিয়া বিশ্বকাপের ট্রেনিং ক্যাম্পে গিয়ে ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন ৮৬ বছরের এই অশীতিপর বৃদ্ধ। পরে তাঁর হাতে তিতে তুলে দেন জাগালোর নামাঙ্কিত ১৩ নম্বর ব্রাজিলের জার্সি। উত্তরসূরিদের কাছে নিজের চাওয়াটা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘ওদের ভাবনায় যা আছে, আমার ভাবনাও সেটি। বিশ্বকাপ ব্রাজিলে নিয়ে এসো।’

এর চেয়ে কম প্রত্যাশা ব্রাজিলের ছিলই বা কবে! মেইল, গোলডটকম



মন্তব্য