kalerkantho



ওর্ডের তালিকা দিয়েই জেমি ডের ক্যাম্প

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিদায়ী কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ডের রেখে যাওয়া তালিকা দিয়েই শুরু হচ্ছে জেমি ডের ট্রেনিং ক্যাম্প। তবে নতুন ব্রিটিশ ফুটবল কোচ ঢাকায় পা রাখার আগেই স্থানীয় কোচরা মাঠে নেমে পড়ছেন ৪১ জনকে নিয়ে।

ডেমি ডে আসবেন জুনের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু ঘরোয়া ফুটবল শেষ অনেক আগেই। আর পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স দেখে আগেই কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড দীর্ঘ বাছাইপ্রক্রিয়া শেষে তৈরি করেছিলেন লাওস ম্যাচের দল। বাংলাদেশ জাতীয় দল নিয়ে ওটাই তাঁর প্রথম এবং শেষ ম্যাচ। দীর্ঘ দশ মাস কার্যকালে বেশির ভাগ সময় এই অস্ট্রেলিয়ান কাজ করেছেন বয়সভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে। তাঁর বাছাই করা ৪১ জন খেলোয়াড়ের তালিকা নিয়েই বিকেএসপিতে আবাসিক ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হচ্ছে ২৬ মে। কাল বাফুফে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ সবিস্তারে বলেছেন এই ট্রেনিং ক্যাম্পের  উদ্দেশ্যের কথা, ‘প্রধান কোচ আসার আগেই আমাদের ট্রেনিং শুরু করার কারণ হলো খেলোয়াড়দের ফিটনেস ফিরিয়ে আনা। হেড কোচ এসেই যেন তাদের নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। ফিটনেস কোচ ও গোলকিপিং কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। জুন-জুলাইয়েও ট্রেনিং চলবে এবং জুলাইয়ের শেষ নাগাদ প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা আছে।’ প্র্যাকটিস ম্যাচ বলতে ফিফা স্বীকৃত আনুষ্ঠানিক প্রীতি ম্যাচের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের উদ্যোগ নিতে পারে বাফুফে।

আপাতত এই ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করবেন তিন স্থানীয় কোচ—মাহবুবুব হোসেন রক্সি, মাসুদ কায়সার ও মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ বাবু। কোচ মাসুদ কায়সার বলেছেন, ‘লাওস ম্যাচের পরপরই এই ক্যাম্প করার পরিকল্পনা ছিল ওর্ডের। তিনি চলে যাওয়ায় একটা বিরতি পড়ে গেল। এখন আমাদের কাজ হবে নতুন কোচ যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ফিটনেস ফেরানো এবং খেলায় ফেরানো। আমরা একসঙ্গে দুটি দল গঠনের জন্য কাজ করব, এশিয়ান গেমস ও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দলের জন্য।’ এশিয়াডের দল হবে অনূর্ধ্ব-২৩ বছর বয়সী আর সাফের জন্য সিনিয়র জাতীয় দল।

দুটি টুর্নামেন্টের মধ্যে বাফুফের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আগের তিন আসরে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। এবার হবে ঢাকায়। তাই সেই লজ্জা হজম করা কঠিন হবে। সুতরাং নতুন ব্রিটিশ কোচের কাঁধে ন্যূনতম সেমিফাইনালে তোলার বড় দায়িত্ব চেপেছে। কিন্তু ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে জেমি ডের কোচিং মান নিয়ে। অনেক নামিদামি বিদেশি কোচ এখানে কাজ করে গেছেন। আর এখন ইংলিশ ফুটবলের পঞ্চম ডিভিশনের একজন সহকারী কোচের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব। মানের তারতম্য দেখে অনেকে বিদ্রূপ করছেন। দেশের ফুটবল মানের (১৯৭) সমান এক কোচ বেছে নিয়ে আসছে কি না, সেটাও বলা হচ্ছে। তবে কাজী নাবিলের যুক্তি, ‘তিনি পঞ্চম ডিভিশনের দলে কাজ করলেও আর্সেনাল একাডেমিতে বেড়ে উঠেছেন। খেলা এবং কোচিংয়ে তার ভালো অভিজ্ঞতা আছে। আর্সেনাল থেকেই তার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। তিনি আমাদের জন্য ভালো হতে পারে।’ এ নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের ২০তম বিদেশি কোচ তিনি। আর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের ১০ বছর কার্যকালের দশম বিদেশি। তাঁকে নিয়ে উচ্চাশা জাতীয় দল কমিটির প্রধানের, ‘বেশ কয়েকজন কোচ আসা-যাওয়া করেছেন, এর মধ্যে তিনি ব্যতিক্রম হবেন আশা করি।’

আগের মতোই নাকি ব্যতিক্রম, সেটা বোঝা যাবে আগামী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে। এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে তুলতে পারলেই পাস মার্ক পাবেন এই ব্রিটিশ কোচ। 

৪১ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা

গোলকিপার : আশরাফুল ইসলাম রানা, শহিদুল আলম সোহেল, মাহফুজ হাসান প্রীতম এবং আনিসুর রহমান।

ডিফেন্ডার : তপু বর্মন, নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, ফয়সাল মাহমুদ, মামুন মিয়া, ওয়ালী ফয়সাল, সাদ্দাম হোসেন এ্যানি, আবু সুফিয়ান, উত্তম কুমার বনিক, মোহাম্মদ আল আমিন, রবিউল হাসান, মঞ্জুরুর রহমান, আতিকুর রহমান ফাহাদ, নুরুল নাঈম ফয়সাল, বিশ্বনাথ ঘোষ, সুশান্ত ত্রিপুরা, টুটুল হোসেন বাদশা, মনসুর আমিন।

মিডফিল্ডার : মামুনুল ইসলাম, ইমন মাহমুদ, জামাল ভুঁইয়া, জুয়েল রানা, ফজলে রাব্বি, মাসুক মিয়া জনি, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সোহেল রানা, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, রহমত মিয়া।

ফরোয়ার্ড : মতিন মিয়া, সাদউদ্দিন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, রুবেল মিয়া, জাফর ইকবাল, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মোহাম্মদ স্বাধীন, বিপলু আহমেদ, তৌহিদুল আলম সবুজ এবং নাবিব নেওয়াজ জীবন।



মন্তব্য