মনে মনে হয়তো অনেক স্বপ্নই দেখেছিলেন ওমর আরতান। ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে প্রথমবারের মতো বাঁশি বাজাবেন তিনি। সোমালিয়ার রেফারির অধীনেই খেলবেন বিশ্ব ফুটবলের তারারা।
কিন্তু সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হলো ওমরের। বিশ্বকাপে সোমালিয়ার প্রথম রেফারি হিসেবে ইতিহাস গড়ার বিপরীতে এখন আক্ষেপে পুড়তে হচ্ছে তাকে। এতে অবশ্য তার দায় নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র তাকে দেশেই প্রবেশ করতে দেয়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোমালিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ঈসে এডেন আবশির বলেছেন, ‘আফ্রিকার অন্যতম সেরা ও সম্মানিত রেফারি ওমর আরতান। তার পাশে দাঁড়ানো উচিত পুরো ফুটবল বিশ্বের। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেওয়া এবং ম্যাচ পরিচালনায বাধা দেওয়াটা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি ফুটবলের সততা, যোগ্যতা ও ফেয়ার প্লে-র ভাবমূর্তিও নষ্ট করে।’
বিশ্বকাপ কাভার করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ওমর। তবে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ৩৪ বছর বয়সী রেফারিকে কেন ফেরত পাঠানো হয়েছে তার কারণ এখনো জানায়নি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে ওমর যেহেতু সোমালিয়ার নাগরিক সেটাই তার জন্য কাল হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে দেশটি।
২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কাফ) বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি নির্বাচিত হন ওমর। একই বছরে হওয়া আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালসহ অনেক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। তার বাদ পড়ার বিষয়ে ফিফা বিবৃতিতে লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না ওমর আবদুলকাদির আরতান। আয়োজক দেশের অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া, ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে ফিফার কোনো ভূমিকা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত আরতানের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।’
বিশ্বকাপের মোট ৫২ জন রেফারির একজন ছিলেন ওমর। বাদ পড়া নিয়ে ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় জায়গা পাওয়া ওমর বলেছেন, ‘যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা সত্ত্বেও ইতিবাচক আছি এবং আমার রেফারিং ক্যারিয়ারের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’