• ই-পেপার

নাইটক্লাব কাণ্ডে তদন্তের মুখে স্টোকস ও অ্যাটকিনসন, নেতৃত্ব নিয়েও শঙ্কা

মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন যেভাবে

ক্রীড়া ডেস্ক
মোবাইলে বিশ্বকাপ দেখবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও উত্তেজনার কোনো সীমা নেই। ঘরে বসেই টিভিতে বসে দেশীয় তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে খেলা। এছাড়া মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন ভক্তরা। 

রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ছাড়াও এই ফুটবল মহাযজ্ঞের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকেই সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে তারা। 

চূড়ান্তভাবে এবার স্বত্বমূল্য ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলারের মধ্যে নির্ধারিত হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি থেকে ৪৯ কোটি টাকার কিছু বেশি। 

টিভিতে সরাসরি বিশ্বকাপ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগেই অবশ্য বেশকিছু ডিজিটাল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তা সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশিদের মনে স্বস্তি এনেছিল। 

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীনফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। 

ইতালি যাচ্ছেন ‘বাজপাখি’ মার্টিনেজ?

ক্রীড়া ডেস্ক
ইতালি যাচ্ছেন ‘বাজপাখি’ মার্টিনেজ?
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের দামামা বাজার ঠিক আগমুহূর্তে ফুটবল পাড়ায় দলবদলের নতুন গুঞ্জন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাট চুকিয়ে এবার কি তবে ইতালিয়ান ‘সিরি আ’তে পাড়ি জমাচ্ছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ? ইতালির গণমাধ্যমগুলোর খবর অন্তত তেমন সম্ভাবনাই জাগিয়ে তুলছে। দেশটির ফুটবল মহলে জোর দাবি, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষককে ডেরায় ভেড়াতে কোমর বেঁধে নামছে ইতালিয়ান জায়ান্ট জুভেন্টাস। সদ্যই অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের শিরোপা উঁচিয়ে ধরা এই ‘বাজপাখি’ এখন তুরিনের ওল্ড লেডিদের পাখির চোখ।

বর্তমানে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে চোটের সঙ্গেই বেশি যুদ্ধ করতে হচ্ছে মার্টিনেজকে। ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের ভাঙা হাড়ের চোট কাটিয়ে ওঠার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে তার। আর এই সেরে ওঠার লড়াইয়ের মাঝেই ফুটবলারদের দলবদল বাজারে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছেন তিনি। 

বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ফেব্রিজিও রোমানোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়সী মার্টিনেজকে তাদের নতুন গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বেশ ওপরের দিকেই রেখেছে জুভেন্টাস। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে জুভেন্টাসের পারফরম্যান্স ছিল বড্ড হতাশাজনক। টেবিলের পঞ্চম স্থানে থেকে লিগ শেষ করায় আগামী মৌসুমে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে ইউরোপা লিগে খেলেই। আর এই কারণেই দলে বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে একজন বিশ্বস্ত গোলরক্ষক খুঁজছে তারা।

জুভেন্টাসের এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় মার্টিনেজ ছাড়াও রাডারে ছিলেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার এবং টটেনহ্যামের গুইলিয়ের্মে ভিকারিও। 

তবে আলিসন আসতে না চাওয়ায় মার্টিনেজই এখন জুভেন্টাসের প্রধান টার্গেট। 

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ভিলার গোলবার সামলানোর পর অবশেষে সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে বড় কোনো ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন মার্টিনেজ। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে ইউরোপা লিগ জয়ের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগে চতুর্থ স্থান নিশ্চিত করেছে অ্যাস্টন ভিলা। ফলে আগামী মৌসুমে অবধারিতভাবেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে দেখা যাবে ভিলাকে।

ঠিক এই জায়গাতেই পিছিয়ে রয়েছে জুভেন্টাস। আগামী মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ মঞ্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা নেই দলটির। ইগর তুদর এবং পরবর্তীতে লুসিয়ানো স্প্যালেত্তির অধীনে চরম এক হতাশাজনক মৌসুম পার করার পর তুরিনের ক্লাবটির ভাগ্যে জুটেছে কেবল ইউরোপা লিগের টিকিট। এখন দেখার বিষয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ছেড়ে জুভেন্টাসের ডাকে সাড়া দিয়ে মার্টিনেজ ইংল্যান্ড ছাড়েন কি না। 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব‍্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে যারা

ক্রীড়া ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব‍্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে যারা
ছবি : মীর ফরিদ

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করবে টাইগাররা।

আজ বাংলাদেশ দল তাদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে। দলে রাখা হয়েছে ৩ জন পেসারকে। আর ২০২২ সালের আগস্টের পর আবারও টাইগারদের ওয়ানডে একাদশে জায়গা পেলেন মোসাদ্দেক হোসেন।

অন্যদিকে, ওয়ানডেতে অজিদের হয়ে অভিষেক হচ্ছে অলরাউন্ডার লিয়াম স্কটের। চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমি-ফাইনালের পর প্রথমবার ওয়ানডেতে ওপেনিংয়ে নামবেন কুপার কনোলি।

বিশেষজ্ঞ স্পিনার একজনই- অ‍্যাডাম জ‍্যাম্পা। প্রয়োজনে স্পিন করতে পারেন ম‍্যাথু শর্ট, ম‍্যাট রেনশ ও মার্নাস লাবুশেন।

বাংলাদেশ একাদশ: 

তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও তানভির ইসলাম

অস্ট্রেলিয়া একাদশ:  

ম্যাট শর্ট, কুপার কনোলি, জশ ইংলিস (অধিনায়ক/উইকেটকিপার), মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরুন গ্রিন, ম্যাথিউ রেনশ, লিয়াম স্কট, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা।

বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় করলেই হলুদ কার্ড!

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় করলেই হলুদ কার্ড!
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চোখের পলকে হারিয়ে যাওয়ার মতো গোল, গ্যালারি কাঁপানো উত্তেজনা আর মহাতারকাদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তবে এই জমকালো মঞ্চের আড়ালে থাকে নিয়ম-শৃঙ্খলার এক কঠোর ও নিখুঁত বেড়াজাল। মাঠ এবং মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে, যা বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে প্রতিটি ফুটবলারকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়।

মাঠে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ফুটবলারদের প্রতিটি আচরণ থাকে রেফারিদের কড়া নজরদারিতে। আবেগের আতিশয্যে গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে ফেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে সময় অপচয় করা কিংবা গ্যালারির দর্শকদের দিকে কোনো উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করলে রেফারি পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করতে দ্বিধা করেন না। এমনকি ফাউল না হওয়া সত্ত্বেও ফাউলের নাটক করা কিংবা পেনাল্টি পাওয়ার লোভে বক্সে ডাইভ দিলে, তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং এর জন্য দেখতে হয় হলুদ কার্ড।

এখানেই শেষ নয়, মাঠের প্রধান পরিচালকের (রেফারি) সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ, কটু কথা বলা কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করলে সরাসরি লাল কার্ড কিংবা হলুদ কার্ডের শাস্তি পেতে হয়। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের আগে ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। আর সরাসরি লাল কার্ড দেখলে তো তৎক্ষণাৎ মাঠ ছাড়ার পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় পরবর্তী কয়েক ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়তে পারে।

ফুটবলারদের পোশাক ও ব্যবহৃত সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও ফিফার নিয়ম বেশ কড়া। মাঠে ফুটবলারদের নিরাপত্তার স্বার্থে আংটি, গলার চেইন, হাতঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো অলঙ্কার পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে চোটজনিত কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ থাকলে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফেস মাস্ক, ব্যান্ডেজ বা সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জার্সির নিচে থাকা ভেতরের গেঞ্জিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান বা বার্তা প্রদর্শন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

শুধু মাঠের ভেতরের সবুজ ঘাসেই নয়, মাঠের বাইরে টিম হোটেলেও ফুটবলারদের থাকতে হয় কড়া নজরদারিতে। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে ফুটবলারদের ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো কিংবা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়তে পারে; হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা।

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকলেও সেখানে বর্ণবাদী, আপত্তিকর বা রাজনৈতিক উসকানি ছড়ায়—এমন কোনো পোস্ট করা যাবে না। পাশাপাশি অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলন ও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়াটা খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক। যথাযথ কারণ ও অনুমতি ছাড়া এগুলো এড়িয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা।

এমনকি নিজেদের ক্যাম্প বা টিম হোটেল ছাড়ার ক্ষেত্রেও কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। যাতায়াতের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হয় ফিফা ও আয়োজকদের অনুমোদিত পরিবহন। মূলত বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটি বৈশ্বিক আসরের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ফেয়ার-প্লে নিশ্চিত করতেই এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।