kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ছোট দলের বড় তারকা

মাজহারুল ইসলাম   

১৯ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৫৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ছোট দলের বড় তারকা

টানা দুইবার ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ হয়েছেন রবার্ত লেভানদোস্কি। বিশ্বকাপে তাঁর দল পোল্যান্ডকে নিয়ে তেমন প্রত্যাশা না থাকলেও আলোটা থাকবে লেভানদোস্কির ওপর। তেমনি বিশ্বকাপ মাতাতে পারেন দুইবারের আফ্রিকার বর্ষসেরা সেনেগালের সাদিও মানে। ছোট দলে এমন বড় তারকাদের নিয়েই এই আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

রবার্ত লেভানদোস্কি

শুধু পোল্যান্ডের নয়, বর্তমান প্রজন্মেরই অন্যতম সেরা একজন ফরোয়ার্ড। দলীয় খেলা ফুটবলেও একার পায়ে গড়ে দিতে পারেন ম্যাচের ভাগ্য। পোল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ এবং গোলের কীর্তিটা রবার্ত লেভানদোস্কিরই। সঠিক জায়গায় থাকা, দুরন্ত কৌশল এবং নিখুঁতভাবে বলের নিশানা খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা দিয়ে নিজেকে ফুটবলের অন্যতম সেরা একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লেভানদোস্কি। আক্ষরিক অর্থে যেন একটা ‘গোলমেশিন’। ক্লাব ও দেশের জার্সি মিলিয়ে গোল করেছেন ৬০০-র বেশি। টানা দুইবার জিতেছেন ফিফা বর্ষসেরার ট্রফি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে করেছিলেন রেকর্ড ১৮টি গোল। কাতার বিশ্বকাপের বাছাইয়েও পোল্যান্ডকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেওয়ার পথে করেছেন ৯ গোল। সুইডেনের বিপক্ষে প্লে-অফের ফাইনালে পোল্যান্ডের ২-০ গোলের জয়েও একবার গোলের নিশানা খুঁজে নিয়েছিলেন লেভানদোস্কি। রাশিয়ার আসরে পোল্যান্ডের তিন ম্যাচের পুরোটা সময় মাঠে কাটিয়েও একটিও গোল পাননি তিনি। তাঁর নামের সঙ্গে এটা বড্ড বেমানান। লেভানদোস্কি গোল পাননি এক রাশ হতাশা সঙ্গী করে তাঁর দেশও বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে। ওই পাপমোচন করে ব্রত নিয়েই কাতারের বিমানে চড়েছেন বার্সেলোনা তারকা।

সাদিও মানে

একজন নেতা। একজন উইনার। সেনেগালের প্রাণভোমরা। আফ্রিকার দেশটির রণকৌশল তৈরি হয় তাঁকে ঘিরেই। চোখধাঁধানো ড্রিবলিং, গতি এবং প্রেসিং ফুটবলে প্রতিনিয়ত বিমোহিত করছেন ফুটবলের মাঠ। জীবনের বেশির ভাগ সময় খেলেছেন উইংয়ের বাঁ পাশে। দলের দরকারে জায়গা বদল করে ডান পাশে কিংবা স্ট্রাইকারের পরিচয়ে খেলাতেও তিনি সমান সাবলীল। তাঁর মানের একজন জাত খেলোয়াড় বিশ্বের যেকোনো দলে জায়গা পাওয়ার দাবিদার। সেনেগালকে আফ্রিকান নেশনস কাপ এবং বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেওয়ায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাদিও মানে। দেশের জার্সিতে মাতিয়েছেন অলিম্পিকের মঞ্চও। ফুটবল বোদ্ধাদের দৃষ্টিতে আফ্রিকা মহাদেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন সাদিও মানে। জাতীয় দলের হয়ে ৯৩ ম্যাচে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ গোল ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের। বিশ্বকাপে অনেক তারকার ভিড়েও ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দ্বিতীয় হওয়া সাদিও মানের ওপর আলাদা নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। তবে চোট থাকায় বিশ্বকাপে মানে খেলতে পারবেন কি না এ নিয়ে রয়েছে ঘোর সংশয়। অনিশ্চয়তা থাকার পরও দলের সেরা তারকাকে নিয়েই কাতারে তরি ভিড়িয়েছে সেনেগাল।

গ্যারেথ বেল

ওয়েলসের গ্যারেথ বেল না গ্যারেথ বেলের ওয়েলস—এ নিয়ে তর্ক হতে পারে; তবে বিশ্বব্যাপী দেশটিকে পরিচিত করায় অনেকখানি অবদান বেলের। ওয়েলসের ফুটবল পুনর্জাগরণের অগ্রদূত! নবজাগরণের এই সোনালি সময়ে দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে তাঁর দেশ। ৬৪ বছর পর ওয়েলস বিশ্বকাপেও ফিরেছে বেলের পায়ের জাদুতে ভর করে। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফের সেমিফাইনালে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ে ওয়েলসের হয়ে দুটি গোলই করেছিলেন জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা বেল। এরপর ফাইনালে ইউক্রেনের বিপক্ষে তাঁর একমাত্র গোলই ছয় দশকেরও বেশি সময় পরে ওয়েলসকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপে। ক্লাব ফুটবলে জায়গা পাকাপোক্ত করার লড়াই চালিয়েও জাতীয় দলে এতটা উজ্জ্বল আলো ছড়িয়েছেন বেল। সমস্যা হচ্ছে, ক্লাবে খুব বেশি সময় মাঠে না কাটিয়ে কাতারের বিমান ধরেছেন বেল। কোচ রবার্ট পেজ অবশ্য একেবারে বিচলিত নন, ‘বেল ঠিক আছে। ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওর কোনো সমস্যা নেই। ’ ওয়েলস সমর্থকদের জন্য এটা বিরাট স্বস্তির খবর।

সন হিউং মিন

বর্তমান সময়ে এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা। দক্ষিণ কোরিয়ার স্বপ্ন আবর্তিত হচ্ছে তাঁকে ঘিরেই। পেনাল্টি না নেওয়ার পরও গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন সন হিউং মিন। জাতীয় দলের হয়ে ১০৪ ম্যাচে করেছে ৩৫ গোল। ২০১৮ বিশ্বকাপে তাঁর চোখধাঁধানো গোলেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন জার্মানির। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ সাত ম্যাচের প্রতিটিতে গোল করে নিজের প্রতিভার প্রমাণ আরেকবার দিয়ে রেখেছেন সন। অল্প কিছুদিন আগে চোখে অস্ত্রোপচার করতে হলেও কাতার বিশ্বকাপে সনের ওপর ঠিক নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।

কেইয়ালর নাভাস

একসময় বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বিবেচনা করা হতো তাঁকে। এখনো অবশ্য ফুরিয়ে যাননি। দীর্ঘদিন গোলবার আগলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের। বর্তমানে পিএসজির গোলপোস্টের নিচে নির্ভরতার নাম কেইয়ালর নাভাস। ফরাসি ক্লাবটির হয়ে ৩৯ ম্যাচের ২১টিই ক্লিন শিট ছিলেন নাভাস। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ২১ ম্যাচে গোল খাননি তিনি ১০ ম্যাচে। ২০১৪ সালে কোস্টারিকার শেষ আটে খেলার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা ছিল নাভাসের। গোলবারের নিচে তাঁর মতো একজন অতন্দ্র প্রহরী থাকার স্বস্তি নিয়ে কাতারে আসছে কোস্টারিকা।



সাতদিনের সেরা